রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২:৪৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মেধাবীদের আরো একবার সংবর্ধিত করলো গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই ◈ নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে মহিলার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার ◈ রাজশাহীতে সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবলের মারমুখী আচরণ ◈ ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন করোনায় আক্রান্ত সবার কাছে দোয়া কামনা ◈ ১৪ দিনের জন্য লকডাউন চবি ক্যাম্পাস ◈ গঙ্গাচড়ার তিস্তায় নৌকাডুবি অল্পের জন্য বেঁচে গেল কয়েকটি প্রাণ ◈ মোংলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু ইয়াছিন সভাপতি, আজিজ সম্পাদক ◈ মেহেরপুর শহরে নতুন আরো ৭ জন করোনায় আক্রান্ত ◈ সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত করতে বাগেরহাট জেলা পুলিশের অভিযান শুরু ◈ সিরাজগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি

ঢাকার নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ০৪:০৫ AM, ১৩ মার্চ ২০২০ Friday ৬৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

শামীম শিকদার

ঢাকা উত্তরে আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের আগে তারা নগরবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন নতুন এক সচল ঢাকার। বলেছিলেন সব নাগরিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। মেয়রদের এই প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়ে নগরবাসী তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় হওয়ায় দুই মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতের মেয়ররা নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরবর্তী সময় আর বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় নগরবাসী। যেখানে ড্রেনের ওপরে রাস্তায় পানি জমবে না, যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হবে না, বাতাসে থাকবে না ধুলাবালি, মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হবে না নগরবাসী, গণপরিবহনে থাকবে শৃঙ্খলা, সেবা সংস্থাগুলোর থাকবে কার্যকর সমন্বয়, ফুটপাত হবে ব্যবহারের উপযোগী, গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরবাসী উপহার পাবে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ। এমন অনেক প্রত্যাশাগুলোর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ঢাকাবাসী।

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে আমাদের ঢাকা। বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে ধরা হতো শহরের আশপাশে গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়াকে। পরবর্তী সময় পাঁচ জেলার ৬২ শতাংশের বেশি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদফতর। তার পরও শহরের বায়ুদূষেণের উন্নতি হয়নি। পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটার ধোঁয়া ৫৮ শতাংশ দায়ী হলেও বাকি ৪২ শতাংশ দায়ী নির্মাণ ও মেরামতকাজের সঙ্গে আসা ধুলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া।

রাতে কিংবা দিনে সারাক্ষণই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। দিনের বেলায়ও কয়েল, স্প্রে বা মশারি টানিয়ে কেউ ঘুমাতে বা বিশ্রাম নিতে পারছেন না। স্কুলপড়ুয়া খুদে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, রাজধানীর ১৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার জলাশয় রয়েছে। যার মালিক ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ডিএনসিসির ২৭০ জন জনবল রয়েছে। নতুন করে আরো ৫৪টি ওয়ার্ডে ১০ জন করে জনবল নিয়োগ দেওয়ার পক্রিয়া চলছে। ক্রয় করা হয়েছে নতুন আধুনিক মানের ২৩৮টি ফগার মেশিন, ২০টি মিক্সড ব্লেয়ারসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম। ১০ জনের একটি টিমের সমন্বয়ে ডিএনসিসি নিজ এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেখান থেকে জানা যায়, ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের ৫৪০টি স্থানে ৬২০টি কিউলেক্স মশা প্রজননের হটস্পট রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে ডিএনসিসির মশক নিধন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তার পরও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।

নানামুখী সমস্যায় ঢাকানগরের জীবনযাত্রা ক্রমেই বেশি মাত্রায় দুর্ভোগময় হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হলো যানজট। তা নিয়ে অনেক ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং তা আরো বেশি প্রকট আকার ধারণ করছে। কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ করা হচ্ছে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নাম্বিও নামের একটি গ্লোবাল ডেটাবেইসের সমীক্ষায় ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্বের সর্বাধিক যানজটের শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুই বছর আগে ছিল দ্বিতীয়, ২০১৬ সালে ছিল তৃতীয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরের যানজট অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়ে চলছে। ঢাকা মহানগরের মোট সড়কের প্রায় ৫০ শতাংশজুড়ে চলাচল করে ব্যক্তিগত গড়ি অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। কিন্তু ৫০ শতাংশ বড় বাসে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী পরিবহন সম্ভব। সড়কের দুই পাশের পার্কিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত হাঁটাচলার উপযোগী করার মাধ্যমে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রেণে আনা সম্ভব।

এমন আরো অনেক বড় বড় সমস্যার কারণে ঢাকা হুমকির মুখে। জলাবন্ধতা, রাস্তা দখল, অপরিকল্পিত ও জরাজীর্ণ বাড়িঘর, চাঁজাবাজি, ফুটপাত দখল, পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সঠিক নাগরিক সেবা প্রদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাব্যবস্থা, দুই সিটির জনবল ঘাটতি পূরণ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মেয়ররা সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। তই কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পার্ক, খেলার মাঠ ও পাবলিক প্লেস তৈরি করার জন্য ডিএনসিসি মেয়রকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। মেয়রের সদিচ্ছা ও দক্ষতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকাকে অনেকটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। উপহার দেওয়া সম্ভব পরিচ্ছন্ন একটি শহর।

লেখক : সাংবাদিক
দৈনিক আলোকিত সকাল

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT