রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৮:৫১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধামইরহাটে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবতার বন্ধন’র উদ্যোগে জীবানুনাশক স্প্রে ◈ এলাকায় ঘুরে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন রাজশাহী জেলা বিএমএসএফের সাংবাদিকরা ◈ পত্নীতলায় বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন রাকিব ◈ চাঁদপুরের রোটারি ক্লাব অব হাজিগঞ্জ এর উদ্যোগে ত্রান বিতরন ◈ শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিসহ নানা উপসর্গ: বিভিন্ন স্থানে ১৩ জনের মৃত্যু ◈ সৌদিআরব মদীনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশীর মৃত্যু ◈ লক্ষ্মীপুরে আওয়ামীলীগ নেত্রী লাইলীর মাস্ক-হ্যান্ড গ্লাভস ও সাবান বিতরণ ◈ করোনা প্রতিরোধে মোহনগঞ্জ থানার মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ ◈ গংগাচড়ায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউএনও ◈ ঝিনাইদহে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আহত-২

ডিম পাহাড়ের পথে

প্রকাশিত : ০৫:৩৪ AM, ২ মার্চ ২০২০ Monday ৯৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

যাবেন কীভাবে : ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান হয়ে থানচি বা কক্সবাজার জেলার কোরিয়া নেমে আলিকদম হয়ে আদুপাড়া। থাকবেন কোথায় : আদুপাড়াসহ আরও কিছু পাড়া রয়েছে। সে সব পাড়ার ঘরগুলোতে নামেমাত্র খরচে থাকা-খাওয়া যাবে। ভ্রমণ তথ্য : চাঁদের হিসাব করে যাবেন। পাড়া বা জুমঘর থেকে দেখা জোছনা উপভোগ, আপনার জীবনের সেরা মুহূর্ত হয়ে রবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।
ডিম পাহাড়ের পথে
প্রকৃতির রূপ দেখার জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশ যাওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে ভ্রমণ যেহেতু শিক্ষালাভের অন্যতম সূত্র, সেই খাতিরে সারা বিশ্বভ্রমণে বাধা হতে পারে না। ভ্রমণ করতে কাড়ি কাড়ি টাকার চেয়ে সুন্দর একটি ভ্রমণপিয়াসী মনই যথেষ্ট। যাক সে সব শক্ত কথা। আমি মূলত দেশের মাটিতে প্রাণ-প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে তা অন্যকেও উৎসাহিত করতে পছন্দ করি। প্রাণের সংগঠন দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের নিয়মিত ভ্রমণ ধারাবাহিকতায় জোছনা বিলাসের জন্য গিয়েছিলাম আলিকদম উপজেলার মুরংদের বসতি আদুপাড়া। পূর্ব পরিচিত মেন্থন মুরংয়ের ঘরে উঠি। রফিক ভাইয়ের ফুঁকনি ফুয়ে রান্না করা গরম গরম মহাস্বাদের খিচুড়ি খেয়ে ছুটি, পাড়া থেকে কিছুটা দূরে পাহাড় চূড়ায় গড়া মেন্থনের জুমঘরে। প্রথমে নেমে যেতে হলো অনেক নিচে। এরপর প্রবাহমান শ্বেতশুভ্র পানির ঝিরি মাড়িয়ে উপর দিকে উঠতে থাকি। এবার জুমঘরটি দেখা যায়। ভাবলাম এসেই গেছি। কিন্তু না যতই আগাই ততই যেন দূরে সরে যায়। তুহিন বেটার কথায় বুঝেছিলাম খুব সামান্য পথ। তাই লুঙ্গি পরেই ট্রেকিং। যাক কি আর করা। ওর বদৌলতে লুঙ্গি ট্রেকিংটা না হয়ে হয়েই গেল। তবে অভিজ্ঞতাটা মন্দ নয়। এয়ার বেন্টেলেশনটা বেশ ভালো হয়েছে। জুমঘরে পৌঁছতেই চোখ চড়কগাছ। মাতাল হাওয়ায় দেহ-মন জুড়িয়ে গেল। যত দূর চোখ যায় শুধু পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজ আর সবুজ। গলা ছেড়ে গাইতে ইচ্ছে করবে ওই দূর পাহাড়ের ধারে/ নিঃসঙ্গ একটি মেয়ে। থাক আর না গাইলাম। জুমঘরে বসে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেখার অন্যতম অনুভূতি একমাত্র তারাই বুঝবে যারা কখনো এই গল্প পড়ার আগে উপভোগ করেছে। জুমঘরের অসাধারণ কিছু স্মৃতি নিয়ে পাড়াতে ফিরি। দিন শেষে নেমে আসে রাত। সঙ্গে করে যেন নিয়ে এলো এক দু্যতি। ভরা চান্দের আলোয় চারদিক ফকফকা। নীরব সুনসান পাহাড়গুলো যেন একেকটা হাই ভোল্টেজের সোডিয়াম লাইট। জোছনার আলো সঙ্গী করে হেঁটে বেড়াই। অনেক রাত পর্যন্ত মুলি বাঁশের মাচায় শুয়ে পূর্ণিমার আলো উপভোগ করতে করতে কখন যে দে-ছুটের দামালরা ঘুমিয়ে পড়ে টেরই পাইনি।

পরের দিন সকাল সকাল ছুটি ডিম পাহাড়ের পাদদেশে। আগেই রেডি থাকা সতেরো কিলো নামক জায়গা হতে চান্দের গাড়িতে চেপে বসি। গাড়ি এগিয়ে যেতে থাকে দেশের দ্বিতীয় উঁচুতম সড়ক পথে। যতই এগিয়ে যায় ততই বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রই। এপথে আমি আগেও এসেছি। আগামীতেও আসব। এখানকার নজরকাড়া প্রকৃতিই ভ্রমণপিপাসুদের বারবার টেনে নিয়ে আসে। জনবসতিহীন রাস্তার ধারে চায়ের দোকান দেখে খানিকটা বিরতি নেই। একটা সময় দেখি পিছনে ফেলে আসা পথ শুভ্র ঘন মেঘে ঢেকে গেছে। চা-চক্র শেষে আবারও এগিয়ে যাই। এবার চোখে ধরা দিল মিয়ানমারের মংডু শহরের সারিসারি পাহাড়মালা। পুরো পাহাড়জুড়ে সবুজ তবে আমাদের পাহাড়গুলোতেও সবুজের সমারোহ কম নয়। প্রকৃতির কোমল নেশায় এবার গাড়ি ছেড়ে হেঁটে হেঁটে এগিয়ে যাই একেবারে দিগন্তছোঁয়া ডিম পাহাড়ের পাদদেশে। মাথার উপরে নীলিমা, ডানে-বামে সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। তারই মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ের বুক চিরে করা থানচি যাওয়ার সড়ক। আমরা আর এগিয়ে না গিয়ে সেখানেই বসে যাই। মাঝেমধ্যে কিছু গাড়ি শা করে এসে ভোঁ করে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখি। যেন শান্ত প্রকৃতিকে মিশাইল দিয়ে আঘাত করা। বুকভরা নিঃশ্বাস নিয়ে, অপলক চাহনিতে দূর বহুদূর-যতদূর যায় দৃষ্টির সীমানা তাকিয়ে রই। এই বসন্তে ডিম পাহাড় লাগোয়া আঁকাবাঁকা পাশে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দোকান ঘরগুলো হতে, ধোঁয়া তোলা চায়ের কাপে চুমুক দিতে মন্দ লাগবে না।

যাবেন কীভাবে : ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান হয়ে থানচি বা কক্সবাজার জেলার কোরিয়া নেমে আলিকদম হয়ে আদুপাড়া।

থাকবেন কোথায় : আদুপাড়াসহ আরও কিছু পাড়া রয়েছে। সে সব পাড়ার ঘরগুলোতে নামেমাত্র খরচে থাকা-খাওয়া যাবে।

ভ্রমণ তথ্য : চাঁদের হিসাব করে যাবেন। পাড়া বা জুমঘর থেকে দেখা জোছনা উপভোগ, আপনার জীবনের সেরা মুহূর্ত হয়ে রবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT