রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০১:০৯ পূর্বাহ্ণ

টাকা পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

প্রকাশিত : ০৭:৫০ PM, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Friday ৮৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বৈধ-অবৈধ পথে বেরিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এটাকে রোধ করতে পারলে উন্নয়নের গতি যে ত্বরান্বিত হতো সে বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। এই পাচারের সঙ্গে যেভাবে জড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের মানুষ, একইভাবে জড়িয়ে আছেন বিদেশিরাও।

গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বৈধ-অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করেন। যার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বৈধ কর্মী ৯০ হাজার। তাদের ন্যূনতম গড় মাসিক বেতন দেড় হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে বিদেশি কর্মীদের বার্ষিক আয় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ৩০ শতাংশ স্থানীয় ব্যয় বাদ দিলে থাকে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার পুরোটাই চলে যাচ্ছে বিদেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বৈধভাবে বিদেশে যায় ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে অবৈধভাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি টাকা।

গবেষণা তথ্য বলছে, বাংলাদেশে যারা কাজ করতে আসেন তাদের ৫০ শতাংশই আসেন ভ্রমণ ভিসায়। এখানে কাজ শেষে আবার দেশে ফিরে যান। পরে আবারও আসেন ভ্রমণ ভিসায়। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই বেশি। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছেন। ভ্রমণ ভিসায় কেবল সাধারণ কর্মক্ষেত্রেই নয়, সরকারি প্রকল্পেও যারা কাজ করছেন তাদের অনেকেই আবার এই ভিসায় বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন।

এদিকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, ভিসার সুপারিশপত্র, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ, বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন, কাজের অনুমতি, এসবি ও এনএসআই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিতে ২৩ থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকার নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন হয়। এছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশি এক্সপার্টদের অবহেলা করাটা যেন দেশের অভ্যন্তরে এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে ভিসা নীতি লঙ্ঘনও যেন একটা নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা মনে করি, দেশের সার্বিক কল্যাণের কথা স্মরণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যসমূহকে সামনে রেখে বিষয়টির পর্যালোচনা হওয়া দরকার। নেতিবাচক বিষয়গুলো অপসারণ করার উদ্যোগ থাকাটাও অপরিহার্য। কেননা দেশের অর্থ এত সহজে বিদেশে পাচার হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

আমরা বিশ্বাস করি, দেশের অর্থ যারা বিদেশে পাচার করেন বা পাচারকর্মে সহায়তা দেন, তারা সবাই সমঅপরাধী। পাচার কেবল দেশের রাজস্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না। অর্থনীতি বিকাশের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যতম প্রধান একটি অন্তরায়। এ অন্তরায়কে রোধ করা গেলে আমাদের অর্থনীতি আরো বেগবান হতে পারে। সুতরাং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশের ভবিষ্যতের কথা স্মরণ করে বিষয়টি নিয়ে ভাববেন, রোধকল্পে সততার সঙ্গে এগিয়ে আসবেন—এটাই জাতির প্রত্যাশা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT