রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধর্মপাশায় সুনই জলমহাল অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ◈ মাদক কারবারিদের বাড়ির সামনে ছবি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হবে—–ধামইরহাটে অপরাধ দমন সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ◈ মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের  বিরুদ্ধে পত্নীতলায় মানববন্ধন ◈ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সমাহিত হলেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতা দেওয়ান হালিমুজ্জামান ◈ ধামইরহাটে সড়ক ও জনপদের কাছে জনগণের অসন্তোষ-ক্ষোভ প্রকাশ ◈ কুড়িগ্রামে রাজাকার পূত্রের মনোনয়ন বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ◈ কালিহাতীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যডভোকেসি সভা ◈ মানিকগঞ্জে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ◈ শ্রীনগরে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিক্ষোভ মিছিল ◈ শ্রীনগরে বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১

টাইগারদের দিল্লি জয়

প্রকাশিত : ০৪:৫৩ AM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ Monday ১০৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

Bangladesh's Mushfiqur Rahim (R) celebrates his victory at the end of the first T20 international cricket match of a three-match series between Bangladesh and India, at Arun Jaitley Cricket Stadium in New Delhi on November 3, 2019. (Photo by Jewel SAMAD / AFP) / ----IMAGE RESTRICTED TO EDITORIAL USE - STRICTLY NO COMMERCIAL USE-----

আকবর-হুমায়ুনের দিল্লি জয় বাংলাদেশের। নরেন্দ্র মোদির দিল্লি দেখল টাইগারদের ক্রিকেট উৎসব। মির্জা গালিবের শের নয়, দিল্লিতে লেখা হলো মাহমুদুল্লাহদের বিজয়-কাব্য। মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আল আমিনরা ব্যাটে-বলের এক-একজন কাব্যকার। তাদের সমন্বিত পারফরম্যান্সেই তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি২০-তে ভারতকে ৭ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। ১৪৯ রানের টার্গেট ছাড়িয়ে গেল তিন বল হাতে রেখে।

ছয় মেরে জয়ের ক্যানভাসে শেষ আঁচড় দেন মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশের জন্য এটি ঐতিহাসিক টি২০ জয়। এ দুই দলের নবম ম্যাচে এসে ধরা দিল আরাধ্য সেই সাফল্য। ভারতের বিপক্ষে টাইগাররা শেষ জিতেছিল ২০১৫ সালের ২১ জুন দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে। এবার বিজয় কেতন ওড়াল ভারতের মাটিতে। আর এ জয়ে মাটিচাপা পড়ল পেছনের বিতর্ক। এবার মাঠের খেলায় উৎসবের হোলি খেলা হলো। ভারতের বিরুদ্ধে টি২০-তে প্রথম এ জয়টি সতীর্থরা উৎসর্গ করেছেন সাকিব-তামিমকে। ঐতিহাসিক এ জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চাপে থাকলে বাংলাদেশ দল বরাবরই ভালো খেলে। অতীতেও বহুবার এমন ঘটনা দেখেছে দেশের ক্রিকেট। এবারও নানা বিতর্ক মাথায় নিয়ে দিল্লিতে এসেছে বাংলাদেশ দল। বিমানবন্দরে খেলোয়াড়রা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সাকিবের জন্য খেলবেন তারা। জিততে চেয়েছিলেন প্রিয় নেতার জন্য। সে প্রতিশ্রুতি পালন করলেন খেলোয়াড়রা। দলের তরুণ ক্রিকেটাররা চেয়েছেন টি২০ সিরিজ জিততে। সে পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তারা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গুজরাটের রাজকোটে যাবে সিরিজ জয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

দিল্লিতে ধোঁয়া ও দূষণ ছিল গত কয়েক দিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। দূষণকে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে গতকাল আলোচনায় এলো ক্রিকেট। মাঠে খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির ধোঁয়ার চ্যাপ্টার শেষ। বিশ্বের বসবাস অযোগ্য নগরীতেও ম্যাচ হলো ঠিকঠাক। যে ম্যাচে বাইরের বিতর্ক চাপা দিয়ে দারুণ ক্রিকেট খেলল বাংলাদেশ। পরাশক্তি ভারতের চোখে চোখ রেখে খেলে গেছে দাপুটে ক্রিকেট। ভারতকে পেলেই যে ভালো ক্রিকেট খেলে টাইগাররা, প্রমাণ মিলল আরও একবার। একদিন আগেই তো রোহিত শর্মা বলেছেন, তাদের চাপে রাখে বাংলাদেশ। গতকাল দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম থেকেই চাপে ছিল স্বাগতিকরা। ২০ ওভারে ১৪৮ রানে বেঁধে রাখা দারুণ অর্জন টাইগারদের। বোলারদের দেখানো পথে হেঁটে ব্যাটসম্যানরা জয়ের পথ দেখান। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে দর্শককে নীরব করে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেন সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। এতেই প্রমাণ হলো, পথ হারায়নি বাংলাদেশ। ক্রিকেটাররা দেখালেন, মাঠের বাইরের বিতর্ক বৃত্তের বাইরেই রাখেন তারা।

১৪৯ রানের টার্গেটে নেমে লিটন দাস ৭ রানে ফিরলেও দ্বিতীয় জুটিতে চাপমুক্ত হয় টাইগার শিবির। অভিষিক্ত নাঈম দারুণ কিছু শট খেলে দেখালেন, জাতীয় দলে থাকার জন্যই এসেছেন তিনি। তার অভিষেক ইনিংস ২৬ রানের। ২৮ বল খেলে দুটি চার ও একটি ছয় মেরেছেন তরুণ এই ওপেনার। দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যানকেই ফেরান দীপক চাহার। ৫৪ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ম্যাচটা ক্লোজ করে আনেন সৌম্য সরকার আর মুশফিকুর রহিম। জিততে শেষ ৩০ বলে ৫০ করতে হতো বাংলাদেশকে। হাতে তখনও ৮ উইকেট থাকায় সাহস নিয়ে ব্যাট করেন দু’জনেই। মুশফিক চোখ-ধাঁধানো কিছু শট খেলেন। সৌম্য সরকার খেলছিলেন দারুণ। খলিল আহমেদের হঠাৎ ডেলিভারিতে ভেঙে গেল এই বাঁহাতির স্টাম্প। মুহূর্তের জন্য ফোকাসটা সরে গিয়েছিল তার। বলের লাইনে ব্যাট না নেওয়ায় বোল্ড আউট হলেন তিনি। তৃতীয় উইকেটের পতন হলো ১১৪ রানে। ৩৫ বলে ৩৯ রান যোগ হয়েছে সৌম্যর ব্যাটে। মুশফিককে নিয়ে ৬০ রানের জুটি করেন তিনি। তার ছন্দে ফেরাটা দলের জন্য স্বস্তির। তবে মুশফিক ছিলেন এদিন বিধ্বংসী মেজাজে। ৪৩ বলে ৬০ রানের হার-না-মানা কাব্যিক ইনিংস খেলা মুশফিকের হাতেই লেখা হলো বিজয়নামা। আট চার ও একটি ছয় মেরেছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।

বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের দল। আফিফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদুল্লাহদের প্রথম পরিচয় ব্যাটসম্যান। বোলিংটাও তারা পারেন। তাদের মধ্যে আফিফ আবার পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার। তিনিই কেবল নিতে পারেন সাকিব আল হাসানের জায়গা। সেপ্টেম্বরের ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ থেকেই তার প্রমাণ দিয়ে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করেছেন সব্যসাচী এই ক্রিকেটার। গতকাল দিল্লির অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেন তিনি। ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে একটি উইকেটও নেন। সাকিবের চেয়েও রান দেওয়ায় কৃপণ এই অফস্পিনার। তার ম্যাচ বোলিং ইকোনমি ৩.৬৬। লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। ভারতের মাটিতে বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষেও স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়েননি; বরং লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করে দলের সফল বোলারও হলেন তিনি। তিন ওভারে ২২ রান দিয়ে লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াশ আয়ারের উইকেট শিকার করেন।

বোলারদের প্রশংসা করতেই হবে। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ওপর জোর দেন সবাই। জাতীয় দলের নতুন কোচিং স্টাফের চাওয়াই ধারাবাহিক বোলিং। এত দিন ধরে ছাত্রদের এ শিক্ষাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পেস বোলিং কোচ চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট। স্পিন বোলিং পরামর্শক কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরিও আঁটসাঁট বোলিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। গত কয়েক দিন দিল্লির নেট অনুশীলনে বোলারদের লাইন-লেন্থ ধরে প্র্যাকটিস করান তারা। মাঠের খেলায়ও তার প্রতিফলন ছিল। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও পেসার আল আমিন হোসেন ফোকাস হারাননি। প্রথম দুই ওভারে ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলার সুযোগই দেননি তিনি। প্রথম স্পেলে ৬ রান দেওয়া ডানহাতি এ পেসার স্লগ ওভারের দুই ওভারে দেন ২১ রান। শেষের ওভারে ১৬ রান দেন। ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে পিটুনিটা খেয়েছেন। তবে দলের সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান বোলিং পেয়েছেন মাত্র দুই ওভার। ১৫ রান নিতে পেরেছে তার স্পেল থেকে। পেসার শফিউল ইসলাম কিছুটা খরুচে হলেও চার ওভার সম্পন্ন করেন। ৩৬ রানে দুই উইকেট শিকার এই পেসারের।

অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ বোলার পরিবর্তনে পরিপকস্ফতার পরিচয় দেন। ব্যাটসম্যান রিড করে বোলার এনেছেন তিনি। নিজে এক ওভার করেই সরে গেছেন। মোসাদ্দেক হোসেনকে দিয়েও এক ওভার করান। সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের কারণেই ১৪ ওভার পর্যন্ত অতিরিক্ত রান পায়নি ভারত। মাত্র চার রান অতিরিক্ত থেকে পেয়েছে ভারত। একটিও নো বল হয়নি। একমাত্র ওয়াইড বলটি মাহমুদুল্লাহর। এতেই পরিস্কার, কতটা ধারাবাহিক ছিলেন টাইগার বোলাররা। এককথায় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চোখে চোখ রেখে বল করে গেছেন তারা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT