রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

প্রকাশিত : ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার ২৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

ঢাকার ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। পরিত্যক্ত তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠও। মাঝেমধ্যেই ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। বিদ্যালয়টির দ্রুত সংস্কার করা না গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্নিষ্টরা।

সরেজমিন জানা গেছে, ধামরাই সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ১৯৭৪ সালে স্থাপিত হয় ১৫০ নম্বর চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে শুরু হয় পাঠদান। পরে নব্বই দশকের দিকে প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের পাকা ভবনে তিনটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়। কিন্তু ছোট শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেনমুখী হয়েছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। আবার ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কয়েকটি বিমের মধ্যে ফাটলও ধরেছে। অনেক স্থানে ছাদের মরিচা পড়া রডও বেরিয়ে গেছে।

কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রানা প্লাজার মতো কিছু একটা হলে তবেই বুঝি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ, টয়লেট ও নলকূপ। পাশের বাড়ি থেকে পানি এনে খেতে হয়। বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল কলাবাগান। মশার উপদ্রব্যেও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালমা বলে, আমাদের ক্লাসে মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে শরীরে পড়ে। এরই মধ্যে কয়েক শিক্ষার্থী আহতও হয়েছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। এতে ক্লাস করতেও খুব কষ্ট হয়।

সহকারী শিক্ষক আক্কাস আলী জানান, বিদ্যালয়টির ভবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার কোনো মাঠ নেই। নেই নলকূপও। এতে কেউ পানি খেতে চাইলে ও টয়লেটে যাওয়ার জন্য পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেণু চক্রবর্তী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে বর্তমানে ১২৪। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর নতুন ভবন নির্মাণসহ নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার বলেন, ধামরাইয়ের বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ হলেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT