রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জিকে শামীমের জবর জালিয়াতি

প্রকাশিত : ০৯:২৬ AM, ১ অক্টোবর ২০১৯ Tuesday ৭৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্স (জিকেবি) গণপূর্ত অধিদফতরের ৩৭টি প্রকল্পের কাজ করলেও কোনো প্রকল্পই শত ভাগ শেষ করতে পারেনি। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প চলমান থাকলেও ২৫টি প্রকল্প ৯৮-৯৯ শতাংশ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো বিলই তুলে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে খাতা কলমে ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বেশিরভাগ প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ। এর মধ্যে মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের অধীনে রয়েছে অন্তত ৮টি বড় প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের যোগসাজসে পুরো কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে জিকেবি। ভবনগুলোর ফিনিশিং কাজ বাকি থাকায় সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভবনগুলো বুঝে নেয়নি এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাও শেষ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদফতরের ঠিকাদার জিকে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ১০ বছরে ৩৭টি প্রকল্পের দরপত্রে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার ২৫টি প্রকল্পের কাজ ৯৮-৯৯ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বেশিরভাগ প্রকল্পই হস্তান্তর হয়নি। আর চলমান ১২টি প্রকল্পের ১,৭০২ কোটি টাকার কাজ রয়েছে। তবে জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পরের দিন থেকেই সচিবালয়ের ক্যাবিনেট ভবন, র‌্যাব হেড কোয়ার্টারসহ ১২টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীরা জানান, দরপত্রের শর্ত ভেঙে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কারণে বাতিল হতে পারে জিকেবির চলমান ১২ প্রকল্পের কার্যাদেশ। শিগগিরই এ বিষয়ে জিকে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানিকে নোটিস করবে গণপূর্ত অধিদফতর।

সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকৌশলী জানান, জিকেবি ২৫ প্রকল্পের সব বিল তুলে নিলেও মূলত কাজ শেষ হয়েছে ৯০-৯৫ শতাংশ। মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের অধীন অ্যাজমা হাসপাতাল ভবন, যক্ষা হাসপাতাল ভবন, গ্যাসট্রোলিভার হাসপাতাল ভবন ও ক্যানসার হাসপাতালের ভবন ও ডাক্তার কোয়ার্টার নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নার্সেস হোস্টেল ১০ তলা ভবন নির্মাণ ৯৯ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে তা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তবের তুলনায় বেশি দেখিয়ে কমিশনের বিনিময়ে বিল পরিশোধ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদফতরের ৩টি প্রকল্পের সম্পন্ন কাজের চেয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি বিল তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জিকে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির কার্যাদেশ পাওয়া আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ হলেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯৩ দশমিক ২৯ শতাংশের। সে হিসাবে এ প্রকল্পে ২০১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের কাজের অগ্রগতি ৭ শতাংশ হলেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২৮ শতাংশের। এ প্রকল্পে ৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। পঙ্গু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৮ শতাংশ। কিন্তু বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯.৪২ শতাংশের। এ ক্ষেত্রে বেশি পরিশোধ করা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, যদি কোনো প্রকল্পের অগ্রিম বিল নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে সে ক্ষেত্রে তার অন্য প্রকল্পের পাওনা থেকে তা সমন্বয় করা হবে। আর এসব অনিয়মের তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে জিকে শামীম গ্রেফতার এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার পর থেকে সরকারি চলমান ১২টি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, শিগগিরই তার ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় এসব প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেওয়া জিকেবির পক্ষে সম্ভব হবে না। আর সেটা না হলে দরপত্রের শর্ত ভঙ্গের কারণে কার্যাদেশ বাতিল করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না গণপূর্ত অধিদফতরের। বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও গণপূর্তমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। তারা চাইলে কার্যাদেশ বাতিল না করেই জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক বসিয়ে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট সচল করে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। তা না হলে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করাতে হবে।

বন্ধ থাকা চলমান ১২টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের নির্মাণ অগ্রগতি ৭ শতাংশ। মিরপুর সেকশন-৬-এ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৬৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ, ৩১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভবনের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ, আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ১৬৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নির্মাণের অগ্রগতি ১৫ শতাংশ, ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ভবন নির্মাণের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন এনজিও ফাউন্ডেশন ভবনের কাজের অগ্রগতি ১ শতাংশ, ৩২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সচিবালয়ের ভেতরের ২০ তলা নতুন ক্যাবিনেট ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৩ শতাংশ ও ৬২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি এবং নারায়ণগঞ্জের খানপুরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই তাদের নির্মাণাধীন প্রকল্পের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। কবে চালু হবে তা কেউই বলতে পারছেন না।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশের শর্ত লঙ্ঘন করলে প্রথমে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হবে। তার জবাব পাওয়ার পর জবাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT