রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৪:৩৭ অপরাহ্ণ

জেলার রাজনীতি কুড়িগ্রাম

জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি এখন আওয়ামী লীগের দখলে

প্রকাশিত : ০৫:০০ AM, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ২১২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

অবহেলিত জনপদ কুড়িগ্রাম জেলার সংসদীয় আসন চারটি। এক সময় জেলার চারটি আসনেই জাতীয় পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্য বিদ্যমান ছিল। সময়ের পরিক্রমায় সে কুড়িগ্রামেই জাতীয় পার্টি কিছুটা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

১৯৮৬ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার রাজনৈতিক মাঠ ছিল জাতীয় পার্টির দখলে। সংসদীয় চারটি আসনেই আধিপত্য করত জাতীয় পার্টি। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ কুড়িগ্রাম-২ সদর আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আসনটি ছেড়ে দিলে ২০০৯ সালের উপ-নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারও এ আসন জাতীয় পার্টির দখলে যায়।

সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনের তিনটিই হাতছাড়া হয়ে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে। কুড়িগ্রাম-১ আসনে (নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী) জাতীয় পার্টির চার বারের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে পরাজিত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মো. আসলাম হোসেন সওদাগর (নৌকা প্রতীক) বিপুল ভোটে বিজয়ী করা হয়। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) জাতীয় পার্টির ডা. আক্কাছ আলী সরকারকে পরাজিত করে অধ্যক্ষ এমএ মতিনকে (নৌকা প্রতীক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করা হয়।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে (চিলমারীর একাংশ-রৌমারি-রাজিবপুর) জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনকে পরাজিত করে বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে (নৌকা প্রতীক) বিপুল ভোটে নির্বাচিত করা হয়। সদর আসন কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম-রাজারহাট-ফুলবাড়ী) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আ ম সা আমিনকে (ধানের শীষ প্রতীক) পরাজিত করে মহাজোট মনোনীত জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শিল্পপতি মো. পনির উদ্দিন আহমেদকে (লাঙ্গল প্রতীকে) বিপুল ভোটে বিজয়ী করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মনজু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি রেদওয়ানুল হক চৌধুরীর বাবা নুরুন্নবী হক চৌধুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও ৩টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ সব উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

এ সবের মাঝেও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রশ্ন তুলে প্রত্যেক উপজেলায় প্রচন্ড গ্রুপিং লক্ষ্য করা গেলেও জেলা নেতৃবৃন্দ শক্ত অবস্থানে থেকে সংগঠনকে সু-শৃঙ্খল রাখার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। ৬ বার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। স্বাধীনতার পর প্রথম ২০০৯ সালের উপ-নির্বাচনে সদর আসনটি আওয়ামী লীগকে উপহার দেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুড়িগ্রামে দৃশ্যমান যা উন্নয়ন হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের শাসনামলেই হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং নেই বলেই এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলে জানান।

দীর্ঘ ৯ বছর জেলা বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের দিক থেকে এ জেলায় প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. তাসভীর-উল- ইসলাম ব্যবসার কাজে সার্বক্ষণিকভাবে ঢাকায় অবস্থান করার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রচন্ড কোণঠাসা অবস্থানে থেকে তাদের কর্মসূচি পালন করতে হয়। মিছিল আর মিটিং যাই হোক না কেন জেলা শহরের জাহাজ কোম্পানি মোড়স্থ কার্যালয়েই বিএনপির কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ।

এ ব্যাপারে কথা হয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান রানার সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নানা সফলতা ও ব্যর্থতার পাশাপাশি, খুন-গুম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমরা স্বাভাবিকভাবেই কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারি না।

অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী জামায়াত-ই-ইসলামীর জেলা শাখার চামড়ার গোলাস্থ কার্যালয় দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ। তারা একেবারেই কোণঠাসা, তবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রকাশ্যে না থাকলেও মহিলা জামায়াতীদের পাড়া-মহল্লায় বৈঠক কিংবা উঠান বৈঠক করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত জেলা কমিটি রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় সাংগঠনিক কমিটি থাকলেও দলীয় কর্মকান্ডে তেমন নড়াচড়া নেই। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনের মধ্যেই জেলা জাসদের কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জেলা সম্মেলন করা সিদ্ধান্তকে ঘিরে জেলা নেতৃবৃন্দের দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা জাসদ সভাপতি ইমদাদুল হক এমদাদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বাবুল বলেন, বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সামনে সম্মেলনকে বেশি প্রাধান্য দিয়েই নেতাকর্মীরা ব্যাপক তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কমিটি আছে কাগজ-কলমে, কোনো কর্মসূচিতে নেই।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের জেলা কমিটি রয়েছে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সমস্যাভিত্তিক ইস্যু নিয়ে রাজপথে মিছিল-মিটিং করতে দেখা যায়। সাংগঠনিক উপজেলাগুলোতে তেমন কোনো কমিটি নেই, থাকলেও তারা নিষ্ক্রিয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT