রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৮:২০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে শীতলক্ষ্যা থেকে নারী-পুরুষের লাশ উদ্ধার ◈ বুড়িচংয়ে ৩ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৪ জনকে আ’লীগ থেকে বহিস্কারের লক্ষ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ ◈ যুগান্তরের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধির ফুফা শ্বশুরের ইন্তেকাল ◈ নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ◈ ভূরুঙ্গামারীতে পাথরডুবি ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার ◈ ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে আহত পিতামাতা ◈ গঙ্গাচড়ায় নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ গ্রহণ ◈ করিমগঞ্জে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ◈ নড়াইল লোহাগড়া সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো মটরবাইক্ চালানো এক যুবক ◈ ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

জল ও জননী || জুয়েল আশরাফ

প্রকাশিত : ০৯:৫১ PM, ১২ মে ২০২০ মঙ্গলবার ২৩১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশটার কি হবে রে হারিস?
জাফর চাচা লোটা হাতে নিয়ে কল ঘরে যেতে যেতে দাঁড়ালেন। আসরের আজান পড়েছে। নামাজের জন্য ওযু করবেন। ভাবলেশহীন বসে আছে বারান্দায় হারিস। জাফর চাচার দিকে সে তাকায় না, দেশের অবস্থা নিয়ে মুখও খুলে না। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র জ্বরের বিছানা ছেড়ে উঠে এসেছে। রুগ্ন দেখাচ্ছে শরীর। আজকাল শোনা যাচ্ছে জ্বরজারি হলেই নাকি করোনা। কারোর হাঁচি শুনলে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে আসে। কী মরার করোনাকাল এসেছে- গা ছুঁলেই রোগ হবে। এমন ব্যারাম বাপ-দাদার কালেও শোনেন নি। সৃষ্টি জগতের কী পরিমাণ ভয়াবহতার রূপ নেবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
ও হারিস, চুপ কইরা বইসা আছো ক্যান? শরীর ভাল না?
হারিস বলল, শরীর ভাল মনও ভাল। পেটে খিদা আছে। মুখে হাসি ফুটিয়ে হৈ চৈ করার মতো অবস্থা নাই।
কথার ভেতর রাগ আর জেদ মেশানো। সেই রাগ করোনার ওপর না অন্য কিছুর উপর সেটা যাচাই করতে জাফর চাচা জিজ্ঞেস করলেন, রোজা আছো?
না।
তওবা তওবা। বলো কী! রোজা থাকো না ক্যান? যৌবন বয়স। অখন রোজা না থাকলে বুড়া বয়সে রোজা রাইখা কি কাম হইব? আল্লাহ রব্বুল আলামীন যৌবন বয়সের ইবাদত পছন্দ করেন।
হারিস বিরক্ত মুখে বলল, আপনার আল্লাহ আমাকে পছন্দ করেন না। আপনি ওযু করবার লাগছেন ওযু করেন। খালি খালি অন্যের পেছনে সময় নষ্ট করতাছেন।
জাফর চাচা ভীত হলেন। ইতিপূর্বে হারিসের এই জাতীয় রাগমূর্তি দৃষ্টি গোচরে হয়নি। বিনা কারণে ছেলেটা আজ এই পরিমাণ গোস্বা কেন করল বুঝলেন না। শুধু রাগ হলেও ভাল ছিল, নাস্কিকদের মতো কথা-ও কিছু বলে ফেলেছে। তওবা তওবা। আল্লাহ মাফ করেন। তিনি আর দাঁড়াবেন না। কল ঘরে চলে গেলেন দ্রুত।
রান্নাঘর থেকে রোখসানা সব শুনছিল। চাচা ভাতিজার সব কথাই তার কানে এসেছে। গরম তেলে ডালের বোরা ভাজা হচ্ছে। ইফতারির আয়োজন চলছে। ইফতারিতে ছোলা মুড়ি মাখানো স্বামী হারিসের খুব পছন্দ। সাথে কয়েকটা আলুরচপ বেগুনের চপ রাখতে হয়। বেসনে ডুবিয়ে সেগুলিও ভাজা শেষ। আচমকা স্বামীর অসংলগ্ন কথা কানে আসায় উঠে দাঁড়াল সে। চাচা-শ্বশুর সরে যেতেই স্বামীর সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, আপনি মিথ্যা বললেন কেন?
হারিস মাথা নিচু করে ছিল। মাথা উঠাল। বলল, কি মিথ্যা বললাম?
আপনি রোজা না?
মিথ্যা বলেছি ভাল করেছি। ওই বুড়ার বেহুদা প্যাচাল শুনতে ইচ্ছে করে না।
ছিঃ আপন চাচার সাথে এরকম করে কেউ?
তুমিও দেখছি চাচার মতোন প্যাচাল আরম্ভ করছো। যাও, ইফতার রেডি করো। রোজা থাইকা এত কথা খরচ করতে হয় না। এতে রোজা হালকা হয়।
রোজা হালকা-ভারী হওয়ার জ্ঞান স্বামী হারিসের কতটুকু আছে জানে না রোখসানা। তবু হারিসের সামনে থেকে সরে এলো। মানুষটা রোজা রেখে খিদের কষ্ট সহ্য করে আছে, খিদে পেটে সাধারণ কথাতেই হুট করে রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তখন হারিসকে সামলানো মুশকিল। রোখসানা সরে গিয়ে সংসার কাজে মনোনিবেশ করল।
আজান হতে মিনিট বিশের মতো বাকি। ইফতারের সামনে আট বছরের মেয়েকে নিয়ে বসে আছে হারিস। পাশে চুপ করে বসা রোখসানা। অনেকক্ষণ হলো স্বামীকে একটা কথা বলি বলি করেও বলতে পারছে না। মাগরিবের আজান হতে আর বেশি বাকি নেই। যা বলার এখনই বলতে হয়। সাহস সঞ্চয় করে সে বলে বসল, যদি রাগ না করেন মাকে আমাদের সঙ্গে ইফতারের জন্য ডেকে নিয়ে আসি?
হারিস বরফ শীতল গলায় বলল, রাগ করব কেন? ডাকতে ইচ্ছে হইছে ডাকো। আমাগো বাড়ির ইফতার কত মানুষই তো খায়!
রোখসানা উঠে বাইরে চলে গেল। অল্প পরেই ঘরে এসে ঢুকল জাফর চাচা। পাছে শাশুড়ির সঙ্গে রোখসানা। মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে হারিস নড়েচড়ে বসল। চাচাকে বসার জন্য জায়গা দিল।
মায়ের মুখের দিকে আজ বহু বছর পর হারিস ভাল করে তাকাল। বাবা যখন মারা যায় ষোল বছর বয়স মাত্র হারিসের। পরিবারের সবাই মিলে জাফর চাচার সঙ্গে মায়ের বিয়ে দিল। কোনো ভাবেই এই বিয়েতে রাজি ছিল না হারিস। বাবার পরে মা ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সংসার করবে, এটা কেন জানি এতকাল পর আজ অবধি মেনে নিতে পারেনি সে। তাই তো নিজের মতো করে আলাদা সংসার নিয়ে থাকে।
জাফর চাচা বললেন, আর কত মিনিট বাকি আছে বউ?
রোখসানা বলল, একটু পরেই আজান হবে।
জাফর চাচা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ছোটবেলায় একবার রোজা ছিলাম। তখন খুব খিদা লাগছিল। মা ইফতারির জন্য মাছ ভেজে রাখছিলেন। আমি লুকিয়ে রান্না ঘরের একটি পাতিল থেকে মাছভাজা তুলে খেয়েছিলাম। তখন ভাবতাম অন্য মানুষ না দেখলে এবং না খেয়ে থাকলেই রোজা হয়ে যায়। বুঝতাম না রোজাটা কি এবং জানতাম না মহান আল্লাহ তায়ালা অন্তর্যামীও।
আট বছরের মেয়ে বলল, বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
ঘরের সবাই তাকিয়ে দেখল, হারিস সত্যি সত্যিই কাঁদছে। দুটো চোখ থেকেই পানি পড়ছে। কান্নার কোনো শব্দ নেই। একটা কঠিন হৃদয়ের মানুষের চোখ বিনা কারণে ভিজে উঠতে দেখে সবাই অবাক!

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT