রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩০ মে ২০২০, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:৫১ অপরাহ্ণ

জলবায়ু পরির্বতন

প্রকাশিত : ১২:০৯ PM, ২ এপ্রিল ২০২০ Thursday ২৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রামিমা সুলতানাঃ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচ্য বিষয় হলো জলবায়ুর পরিবর্তন। এটি বর্তমানে দুশ্চিন্তার একটি প্রধান বিষয়। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমান ইত্যাদির পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলা হয়। আর এই জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকায় অথবা দেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন হয়ে থাকে। জলবায়ুর পরিবর্তন এর ফলে অনেক নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
জলবায়ুর পরিবর্তন এর জন্যে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট অনেক গুলো কারণ রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে গাছ কাটার ফলে দিন দিন আমাদের বনজ সম্পদ কমে যাচ্ছে ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমান। এছাড়াও কল কারখানার ধোয়া, আমাদের আরামদায়ক বসবাসের জন্য ব্যবহৃত এসি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদিতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন এগুলো জলবায়ুর পরিবর্তন এর জন্যে দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত দেশ গুলো প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে আর তার ভুক্তভোগী হচ্ছে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশ গুলো। উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্বন নিঃসরন বেশি বিধায় জলবায়ুর পরিবর্তনটাও দিন দিন প্রকট আকার ধারন করছে।
আমাদের ব্যাক্তি জীবনের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে আমরা অযথা গ্যাস জ্বালিয়ে রাখছি, আমাদের ভালো কোনো ময়লা-আবর্জনা পয়নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা নেই। এমনকি আমরা এসব ব্যাপারে চিন্তিতও না। আমরা তাকিয়ে আছি সরকারি কর্মকান্ডের দিকে। কিন্তু নিজেরা নিজেদের সচেতন করে তুলছিনা।

একটি দেশের উন্নয়ন ও বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের উচিত এমন ভাবে রিসোর্সটা ব্যবহার করা যেন প্রোডাক্ট গুলো এবং অব্যবহৃত মেটারিয়ালস গুলো পুনরায় ব্যবহার করা যায়। বহু পশুপাখি, গাছপালা ইত্যাদি জলবায়ুর পরিবর্তন এর কাছে অসহায়। ফলে দিন দিন আবহাওয়ার পরিবর্তন এর সাথে টিকে থাকতে না পেরে অনেক প্রানী গাছপালা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির মধ্যে প্রানীর অস্তিত্ব, বংশবিস্তার ও বিবর্তন ভারসাম্য ভাবে ঘটে চলছে।
জলবায়ুর এই পরিবর্তন কমানো না গেলে প্রকৃতির কাছে মানুষ হয়ে পড়বে অসহায়। ঘুর্নিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টির পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশে আরো ভুমিহীন লোক ও জলবায়ুর উদ্বাস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানবসম্পদ ও কৃষিক্ষেত্রে। কারন কৃষকরা তাদের ফলন কেন্দ্রিক বিষয় গুলো ঋতুর উপর নির্ভর করে ফলাতো। উন্নয়নয়ের ধারাবাহিকতায় আজ তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে একসময় প্রচুর বনজঙ্গল ও পশুপাখি ছিল। নিচু জলাভুমিতে ছিল প্রচুর জলজ প্রানি। জলবায়ু ও তাপমাত্রার নানা পরিবর্তন এর ফলে জীবজগতে তাদের অনেকেই বিলুপ্তির পথে।
বাংলাদেশকে বলা হয় ষড়ঋতুর দেশ। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে সেই আমেজ এখন আর পাওয়া যায় না। গ্রীষ্মকালে ও বর্ষাকাল আরো প্রলম্ভিত হচ্ছে আর শীতকাল সঙ্কুচিত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদগণ বলেছেন, আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘতলে এই শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা গড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পাড়ে। এমন পরিবর্তন দিন দিন বৃদ্ধি পেলে সেটি কমিয়ে আনা অসম্ভব প্রায়।
তাপমাত্রার এই বৃদ্ধির ফলে বরফ আবৃত দেশগুলোর বরফ গলতে শুরু করবে। ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিন্ম অঞ্চল গুলো পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। গত শতাব্দীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ১০cm থেকে ২০cm পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনও ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে।

সুতরাং আমাদের বনজ সম্পদ রক্ষা করা উচিত। উচিত আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়া। গাছ লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। উচিত আমাদের বন্যপ্রানি সংরক্ষণ করা। মানব জাতিকে রক্ষা করার জন্য যেকোনো মুল্যে জলবায়ু পরিবর্তন বন্ধ করা উচিত। নবায়নযোগ্য শক্তির (বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি) পরিয়ান বাড়ানো উচিত। অধিক পরিমানে গাছ লাগানো উচিত। এছাড়াও আমাদের উচিত প্লাস্টিকের ব্যাবহার কমিয়ে আনা। যেহেতু প্লাস্টিকের দ্রব্য মাটিতে মিশে যায়না সেজন্য এতির ব্যাবহার কমানো উচিত। আর সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করাও উচিত। আমাদের উচিত পরিবেশ বান্ধব কল কারখানা তৈরি করা এবং সবাইকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। যা কার্বন নিঃসরণের পরিমান কমাতে অনেকটাই সাহায্য করবে। আমাদের উচিত আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোর সঠিক ব্যাবহার করা।

লেখকঃ রামিমা সুলতানা, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT