রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:৪০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ সরকার বাজার শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রুপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান ও সম্পাদক সেলিম ◈ শেরপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলর মর্তুজার মতবিনিময় ◈ রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানুর তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ◈ নতুন দায়িত্বে নূরে আলম মামুন ◈ ভাষা সৈনিকের নাতি শুভ্র’র খুনীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা রেহাই পাবে না…..গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ◈ ২ টাকার খাবারের কার্যক্রম এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন ◈ মহানবী (সাঃ)এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে,মধ্যনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আইনের ফাঁকে বের হয়ে যাচ্ছে হামলাকারীরা

প্রকাশিত : ০২:৫৬ PM, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ Sunday ৭২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব হামলার ঘটনায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নানা প্রক্রিয়া। মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আতঙ্ক ও মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করছেন। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করা কর্মকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও পেশিশক্তির প্রভাব কমছে না। রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি ও রাজনীতিতে স্বার্থন্বেষী মহলের উত্থান এসব হামলার কারণ বলে উল্লেখ করছে বিশেষজ্ঞরা। এমনকি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এমন ইঙ্গিত তুলে ধরছেন গণমাধ্যমের কাছে।

এ পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য যেসব হামলা হয়েছে, দৃশ্যত এসব হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি হয়নি। মাঠ পর্যায়ের যেসব কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারহীনতার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সাধারণদের ভাষ্য, যেসব মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা আমাদের নিরাপত্তা দেবেন, তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় কতটুকু বিচার নিশ্চিত হবেÑতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এসব হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমে হইচই পড়ায় হামলাকারীদের কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে তারা জামিনে বেরিয়ে পড়ছে। বিশেজ্ঞদের মত, হামলাকারীদের অনেকে সহজেই জামিনে বেরিয়ে পড়ার ঘটনায় দুষ্কৃতকারীরা এসব হামলার ঘটনাকে ‘ডোন্ট কেইস’ বলে মনে করে আবারও প্ররোচিত হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

তারা এসব মামলার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ফলোআপ করা যেতে পারে। তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে হামলার বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ার বাইরে নয়। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় তারা নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাছাড়া এসব বিচারকার্যে অনেকেই সাক্ষী দিতে আসতে চান না। এভাবে নানা কারণে এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের (বাসা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অণুবিভাগ) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বেশকিছু জনপ্রতিনিধিকে সাসপেন্ড করেছি। কিন্তু অনেকেই গ্রেফতার হওয়ার পরও তারা আইনের মারপেঁচে আদালত থেকে নানাভাবে ছাড়া পায়। তা ছাড়া যাদের সাসপেন্ড করা হয়, তারাও আদালতের আদেশে পুনর্বহাল পান। শেষ পর্যন্ত অনেকের বিচার নিশ্চিত হয় না। এজন্যও অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাগুলো অনাকাক্সিক্ষত। তবে সারা দেশে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছেÑব্যাপারটি এরকম নয়। যে দু-চারটি ঘটনা ঘটছে, এটা মোটেও কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এসব হামলার ঘটনা যাতে আর ভবিষ্যতে না ঘটে, এটা নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারাও সতর্ক থাকবেন।

এ বিষয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সজাগ আছেন, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় তারা সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি, তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। এসব ঘটনায় বিচার কীভাবে গতিশীল করা যায়, তা নিয়েও আমরা ভাবছি। আশা করি, অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন। ফলে সরকারের বড় দায়িত্ব তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব হামলার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এসব ঘটনার মূল উৎস বের করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব।

এসব ঘটনায় প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য প্রচলিত যে আইন আছে, তা অপ্রতুল নয়। তাদের বাধা দেওয়া বা আঘাত করার ব্যাপারে যথেষ্ট শাস্তির বিধান প্রচলিত আইনে আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। অনেকে আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

তাই এক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ করার বিকল্প নেই। প্রকৃত দোষী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। তবেই এ ধরণের ঘটনা কমবে, এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT