রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২:০৭ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ এখন থেকে রোববার সাহিত্য সকাল প্রকাশ ◈ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশের রোল মডেল পবা উপজেলা ভূমি অফিস ◈ ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার ◈ নেত্রকোণার কলমাকান্দায় টানা বৃষ্টির কারণে জমির আমন ধান ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন কৃষকরা ◈ রাণীশংকৈলে পাঁচ জুয়াড়ি আটক ◈ সবাই জানে! জানেনা যাদের জানার কথা. . . . . ◈ নান্দাইলে প্রস্তাবিত প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ◈ দুর্গাপুরে থামছে না সোমেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙ্গন ◈ কুড়িগ্রামের সকল থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সেবা ডেস্কে চলছে সেবা ◈ শেকৃবিতে ভিসির দায়িত্বে রেজিস্ট্রার,বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

দল থেকে দূরে বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত : ০৪:৩৪ PM, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ Sunday ৬৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে। স্বাভাবিকভাবেই দলটির রাজনীতি রাজপথকেন্দ্রিক। ফলে সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যয় বেড়েছে। আর এই ব্যয়ের বড় জোগানটা দিয়ে থাকেন আর্থিকভাবে সচ্ছল দলের ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু হামলা-মামলায় কোণঠাসা এসব নেতা ক্রমেই দলের রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে অনেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন। একাধিক প্রভাবশালী নেতা এরই মধ্যে দলই ত্যাগ করেছেন। ব্যবসায়ী নেতারা দূরে সরে যাওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলকে আর্থিক সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দলের কোষাগারে অর্থের প্রভাবও কমে গেছে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী গত অর্থবছরে বিএনপির আয় আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। আগের বছর দলের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো। এবার আয় হয়েছে এক কোটি টাকারও কম। শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দায়িত্ব পান। গত ২২ জানুুয়ারি তিনি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। দলের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে বয়স ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও একাধিক সূত্র বলছে, এই ব্যবসায়ী নেতা তাঁর ব্যবসা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী চাপে আছেন। এখন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে কিছু হলেও স্বস্তিতে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন। বিএনপির প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের অন্যতম একজন ছিলেন এম মোরশেদ খান। মহাসচিব বরাবর চিঠি লিখে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। কারণ হিসাবে যা-ই উল্লেখ করুন না কেন, মূলত নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তিনি দল ছেড়ে গেছেন বলে মনে করেন অন্য নেতারা। দলটির নির্বাহী কমিটির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৫ মার্চ কারামুক্ত হওয়ার পর স্থায়ী কমিটির সদস্যের বাইরে একমাত্র সাক্ষাৎ পেয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদধারী এক ব্যবসায়ী নেতা। ওই নেতাকে নেত্রীর বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিতে বললে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা দেন। তবে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও আরেক ভাইস চেয়ারম্যানকে এই অর্থ পরিশোধের কথা বললে তাঁরা সরকারি চাপে ব্যবসায় ধস নেমেছে উল্লেখ করে কিছু টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মাত্র। নেতারা আরো জানান, বিএনপির মুখপত্র দৈনিক দিনকাল অর্থসংকটে বেশ কয়েক বছর ধরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে দলের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার কাছে মাসিক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। নিজেরা অর্থসংকটে থাকার কথা বলে তাঁরা অনেকেই তাতে রাজি হননি। সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। ওই কমিটি ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা পদত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আসগর লবি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাসেম, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শোকরানা, সাবেক সংসদ সদস্য সালিমুল হক কামাল, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক শাহাব উদ্দিন ও ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল (সদ্যঃপ্রয়াত) অন্যতম। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এ ব্যাপারে বলেন, ‘মোরশেদ খান বড় ব্যবসায়ী। তাঁর আরো অনেক ব্যবসা রয়েছে। রাজনীতির কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিবেচনায়ই হয়তো তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে আরো যাঁরা পদত্যাগ করছেন বা দূরে থাকছেন, মুক্ত পরিবেশ পেলে তাঁরা সবাই পুনরায় সক্রিয় হবেন বলে আমি মনে করি।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের সুসময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে এমপি-মন্ত্রী হতে দেখেছি। তাঁরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে বর্ণাঢ্য জীবন লাভ করেননি। দেশের এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তাই তাঁদের চলে যাওয়া নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরকার প্রথম থেকেই বিএনপিকে নির্মূল করার চেষ্টা করছে। সে জন্য তারা বহু মামলা-মোকদ্দমা দিয়েছে। ভয়ংকর একটা নির্বাচন করার পরও তারা দেখছে যে বিএনপির কিছু করা যাচ্ছে না। এ জন্য সরকার ও তার এজেন্সিগুলো বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসার দিকে নজর দিচ্ছে। ফলে অনেকেই নিজ ব্যবসা রক্ষার স্বার্থে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT