রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০১:২১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ এখন থেকে রোববার সাহিত্য সকাল প্রকাশ ◈ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশের রোল মডেল পবা উপজেলা ভূমি অফিস ◈ ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার ◈ নেত্রকোণার কলমাকান্দায় টানা বৃষ্টির কারণে জমির আমন ধান ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন কৃষকরা ◈ রাণীশংকৈলে পাঁচ জুয়াড়ি আটক ◈ সবাই জানে! জানেনা যাদের জানার কথা. . . . . ◈ নান্দাইলে প্রস্তাবিত প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ◈ দুর্গাপুরে থামছে না সোমেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙ্গন ◈ কুড়িগ্রামের সকল থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সেবা ডেস্কে চলছে সেবা ◈ শেকৃবিতে ভিসির দায়িত্বে রেজিস্ট্রার,বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

‘পরে জানলাম সালমান শাহ এটা আমার জন্য পাঠিয়েছে’

প্রকাশিত : ০১:৩৫ PM, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ Sunday ৫৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

পুরো নাম গুলশান আরা আক্তার চম্পা। দেশীয় চলচ্চিত্রে তিনি চম্পা নামেই দর্শকের নিকট সুপরিচিত। এ দেশে যে ক’জন হাতেগোনা শিল্পীর আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে তার মধ্যে চম্পা অন্যতম। দেশে ও দেশের বাইরে তিনি অনেক প্রথিতযশা পরিচালকের নান্দনিক ছবিতে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রে এখনও কাজ করছেন তিনি। তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল এফডিসি’র সোনালি সময়গুলো। চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-এর আয় বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে ৩ ও ৪ নম্বর শুটিং ফ্লোর। সেখানে তৈরি হবে ১৫ তলা বিএফডিসি কমপ্লেক্স।
শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৮৫ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর ‘নিষ্পাপ’, ‘যোগাযোগ’, ‘ভেজা চোখ’, ‘কাসেম মালার প্রেম’, ‘টপ রংবাজ’, ‘অন্ধ প্রেম’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘ত্যাগ’, ‘ডিসকো ড্যান্সার’, ‘সিপাহী’, ‘অন্য জীবন’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শাস্তি’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘মনের মানুষ’, ‘একটি সিনেমার গল্প’সহ অসংখ্য সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। যার মধ্যে বেশিরভাগ সিনেমার শুটিং হয়েছে এই এফডিসির ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরে। এছাড়া সন্দ্বীপ রায়ের ‘টার্গেট’, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘লালদরজা’, গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র মত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন চম্পা। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। এফডিসি জুড়ে রয়েছে তার অসংখ্য কাজের স্মৃতি। চম্পা বলেন, ‘এফডিসির ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরজুড়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবো। অনেক কিছু মনে পড়ছে এখন। এরমধ্যে ‘ডিসকো ড্যান্সার’ সিনেমার কথা বলতে পারি। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এ সিনেমার কাজ চলছিল চার নম্বর ফ্লোরে। শুটিং এর সালটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। অনেক আগের কথা। সেসময় রিয়াজ এসেছিলো আমার শুটিং দেখতে। তখনও রিয়াজ চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেনি। আমি শট দেবার সময় দেখছিলাম ইয়াং একটা ছেলে চার নম্বর ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার শুটিং দেখছে। শট শেষ করে যখন আমি চেয়ারে এসে বসলাম তখন রিয়াজ পরিচয় দিলো। কথা বললাম। জানলাম সম্পর্কে রিয়াজ আমার সম্পর্কে কাজিন হয়। মূলত সেসময় চলচ্চিত্রের আরেক গুনী অভিনেত্রী ববিতার সঙ্গে রিয়াজের যোগাযোগ থাকলেও চম্পার সঙ্গে রিয়াজের সেদিনই কথা হয়। চম্পা যোগ করে বলেন, তখন বিমানবাহিনীতে ছিল রিয়াজ। তবে সিনেমায় আসার ইচ্ছে ছিল বলেই সময় পেলে এফডিসিতে আসত । প্রায় সময় শুটিং দেখতো। কাজের প্রতি অনেক আগ্রহ দেখেছিলাম রিয়াজের। এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর শুটিং ফ্লোর নিয়ে আরও অনেক কথা আজ মনে পড়ছে। স্মৃতির পাতা হাতড়ে চম্পা আরও বলেন, ৩ নম্বর ফ্লোরে আমার অভিনীত ‘নয়া লায়লা নয়া মজনু’ ছবির শুটিং করেছিলাম। এ ছবিতে আমার বিপরীতে ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনয় করেন। মান্নার সঙ্গে ‘কান্দ কেনো মন’, ‘অন্ধপ্রেম’, ‘কাশেম মালার প্রেম’সহ কত সিনেমা আমার। এসব স্মৃতি আমি কিভাবে মুছে ফেলবো! এরপর অনন্ত জলিলের ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ ছবিতে দিতি এবং আমার আলাদা আলাদা কাজ হয়েছিল। তবে ওই ফ্লোরে এ সিনেমার একটা দৃশ্যে আমরা পাশাপাশি বসে অভিনয় করেছিলাম। দিতির সঙ্গে আমার স্মৃতি ছিল অনেক। কাজের বাইরে লম্বা সময় ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরে বসে আড্ডা দিতাম আমরা। দিতির কথা আসতেই চম্পা উচ্ছাস প্রকাশ করে বললেন, দুজন আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। দেখা কম হলেও বোঝাপড়া খুব ভালো ছিল। আর ৩ নম্বর ফ্লোটে শুটিং চলছিল ২-৩ দিন ধরে তাই ফ্রি হলেই গল্প করতাম আমরা। দিতি মনের মধ্যে কোনো কথা রাখত না। ভালো বন্ধু পেলে কষ্টের কথাগুলো বলে হালকা হত। আর সুখের স্মৃতিগুলোও আমাকে শেয়ার করত। আমারও শুনতে ভালোলাগত। আর দিতির সঙ্গে এসব নিয়ে সবশেষ গল্প হয়েছিলো ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরে। এখনও দিতির চেহারাটা মনে পড়ছে। দিতি আজ নেই। তবে সেদিনের শুটিংয়ের কথা, আড্ডার কথা আজ খুবই মনে পড়ছে। সবসময় দিতিকে এ রকম সুন্দর লাগে। তখন মজা করে দিতিকে আমি বলেছিলাম যে, সৌন্দর্যের দিক দিয়ে আমি তো তোমাকে হার মানাতেই পারবো না। আর একটি স্মৃতির কথা মনে করিয়ে চম্পা আরও বলেন, ‘ঘৃণা’ নামে একটি ছবির কাজ এই ফ্লোরগুলোতে করেছিলাম। মালেক আফসারী পরিচালিত এ সিনেমায় আমার বিপরীতে অভিনয় করেন রুবেল। এছাড়া ‘বানেছাপরী’ ছবির কাজ করার সময় একবার মজার একটা ঘটনা ঘটেছিল। হঠাৎ দেখি, সোনারগাঁও হোটেল থেকে বড় স্যান্ডউইচ বক্স এসেছে আমার জন্য। পরে জানলাম আমাদের সবার প্রিয় নায়ক সালমান শাহ এটা আমার জন্য পাঠিয়েছে। এরপর সালমান শাহ দেখা হলেই আমাকে বলতো, একসঙ্গে কাজ করব আমরা। এমনকি ‘ডিসকো ড্যান্সার’ সিনেমায় কাজ করার সময় একটা শুটিং সেটে একসঙ্গে পোজ দিয়েছিলাম সালমান শাহর সঙ্গে। সবই আজ মনে পড়ছে। এছাড়া নায়ক আলমগীর ভাইয়ের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবির কাজ ৪ নম্বর ফ্লোরে এইতো কিছুদিন আগে কাজ করেছিলাম। সেসময় এই ফ্লোরে কাজ করার মাঝে মৌসুমী, ওমর সানী, ফেরদৌস, ঋতুপর্ণা, পূর্ণিমা সকলে মিলে আড্ডা দিয়েছিলাম। চম্পা বলেন, আগে শুটিং ব্রেক পেলে বিভিন্নসেটে, ফ্লোরগুলোতে ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম আমি। শাবানা আপাসহ সেসময় যারা নিয়মিত ছিলেন সবার সেটে গিয়ে হঠাৎ হাজির হতাম। এফডিসির একেকটা ওয়ালে স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমাদের। সেই প্রিয় শুটিং ফ্লোর ভাঙা হচ্ছে শুনে অনেক কষ্ট লাগছে মনে। এই কষ্ট সহ্য করার মত না। ছোটবেলায় বোনদের শুটিং দেখতে যেতাম আমি। তখন সুচন্দা, ববিতা আপা কাজ করতেন। যখন যেতাম দেখতাম ফ্লোরগুলো সুন্দর লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। রাজার মহলের মত সেট সাজানো হত সেসময়। এরপর নিজে যখন কাজ শুরু করলাম। তখন কত লাইট, মেকআপ, ড্রেস, পরিচালক, প্রযোজক, সহশিল্পী। সকলে মিলে ফ্লোরগুলো উজ্জল হয়ে ওঠত। তাই আজও আমার কাছে এফডিসির ফ্লোরগুলো রাজপ্রাসাদই মনে হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT