রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:০৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক
পর্ব ২

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!!

রাকিব সুমন

প্রকাশিত : ০২:১৬ PM, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার ৪৪৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আমার এসব কথা শুনার পর সে সময় এ্যানি আমাকে মেসেজ দিয়ে বলে না ব্লক করব কেন আমরা আজীবন ভালো বন্ধু হয়ে থাকবো।সেদিন এ্যানির মেসেজটা পেয়ে আমি মনে মনে খুশি হলেও মানতে পারেনি বন্ধুত্ব হয়ে থাকার কথাটা।কারণ আমি তাকে ভালোবাসি তারপরও রাজি হলাম এ্যানির কথায়।সেদিন এ্যানি আমাকে বলে আসলে সুমন আমি জানতাম তুই আমাক ভালোবাসিস কিন্তু তখন বলিস নি কেন? আমি বললাম কি করে বলব দেখেছি বলে স্যার কে দিয়ে মাইর খাওয়াছিস ভুলে গেলি ! সেই হেসে জবাব দিল না সেটা অন্য বিষয় তুই বুঝবিনা।তখন বুঝিনি এখন বুঝায় বল।

সেই বলল পরে বলব এখন ভালো বন্ধু হয়ে আমাদের সম্পর্কটা আজীবন ধরে রাখব আমি বললাম হে রাজি আছি।এসব কথা বলার পর সেদিন অনেক কথা হয়েছিল সেই দুপুর ১২ টার পর থেকে প্রায় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মেসেন্জারে কথা হয়েছিল আমাদের।

সেদিন কথা বলা শেষে রাতে ঘুমানো সময় হঠাৎ আমার মাথায় অন্য একটা চিন্তা এসে গেল।ভাবলাম এ্যানি তো এখন বিবাহীতা আর একজন বিবাহীতা মেয়ে সাথে কথা বলতেছি দুনিয়া সমাজ খারাপ বলবে না আমাদের। এমন একটা আজব চিন্তা মাথায় এসে কেমন জানি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম সেদিন।আবার অন্যদিকে চিন্তা করতেছি অনেক দিন পর প্রিয় মানুষটির দেখা পেলাম কথাও হল আর কথা বললে খারাপের কি দুর কেন আমি এসব বাজে চিন্তা মাথায় আনছি।এ্যানির সাথে মেসেন্জারে কথায় তো বলব এটা তো আর তেমন কিছু না।এইভেবে সেদিনের রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

তারপরের দিন থেকে নিয়মিত মেসেন্জারে এ্যানির সাথে আমার কথা হত।এইভাবে বেশ কিছুদিন দুজনে মেসেন্জারে এবং মোবাইলেও কথা বলতে বলতে কেটে গেল।হঠাৎ করে একদিন আমি মেসেন্জারে এ্যানি কে বললাম দেখ এ্যানি তুকে আমি বন্ধু ভাবতে পারব না তুই আমাকে বন্ধু ভাবতে পারিস কিন্তু আমি পারবো না।কারণ হচ্ছে ছোট কাল থেকে আমি তুকে ভালোবেসে আসছি তাই তুর সাথে আমি কথা বললে ভালোবাসার মানুষ হিসাবে কথা বলব।আর একটা কথা মনে রাখিস এ্যানি বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসার মানুষ হওয়া যাই কিন্তু ভালোবাসার মানুষ থেকে বন্ধুত্ব হওয়া যাই না। সেজন্য আমি তুকে বন্ধু ভাবতে পারব না।এই কথাটি এ্যানি কে বলার পর তখন সেই বলল তুর যা ইচ্ছা তুই ভাবতে পারিস আমার সমস্যা না।

এমনটায় বলার পর আমার মনে একটু শান্তি এলো। সেদিনের পর থেকে দুজন আরো অনেক কাছা কাছি চলে আসলাম।তখন আমাদের জীবনের সব কথা একজন একজনকে শেয়ার করতাম। এক পর্যায়ে এমন অবস্থা হল আমার এ্যানির সাথে কথা না বললে দিনটায় কাটতো না।এইভাবে কথা বলতে বলতে মনের আনন্দে দুজনের কয়েকমাস কেটে গেল।তার মধ্যে এ্যানি একদিন আমাকে বলে সে শশুড় বাড়ী থেকে নিজের বাড়ীতে বেড়াতে আসবে ৪ দিনের জন্য।এবং সে তাদের বাড়ীতে আসলে তার সাথে যেন দেখা করি।আমি বললাম অবশ্যই দেখা করব তুই আয় আমিও তুকে দেখতে চাই।তখন এ্যানি বলল ওকে আমি কয়েকদিনের মধ্যে যাব আর যাওয়ার সময় তুকে ফোন দিব।এ্যানি এই কথাটা বলার তিন চার দিন পর একদিন সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে বলে আমাকে সে পরের দিন তাদের বাড়ীতে যাবে সকাল ১০টায়।এবং আমাকে বলেছে ওই সময়টা যেন ওদের বাড়ীর রাস্তায় থাকি আমি বললাম আচ্ছা আয়।

তারপরের দিন এ্যানি আসার অপেক্ষায় তাদের বাড়ীর রাস্তার রেল লাইনে বসলাম।কেমন জানি একটা লজ্জা লজ্জা ভাব আসতেছে মনে কারণ এখন তো আর ছোট কালের বয়স না।মানুষ দেখলে কি বলবে খারাপ ভাববে সেজন্য চারিদিক দেখে সতর্কতার সাথে রেল লাইনে বসেছিলাম।কখন প্রিয় মানুষটি আসবে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর দেখি একটা সিএনজি এসে আমার থেকে কিছু দূরে দাড়ল।সেখান থেকে ব্লু কালারের একটি ড্রেস পরা মেয়ে নামে।সামান্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে বুঝে পেলেছি এটা এ্যানি।পরে সিএনজি থেকে নেমে সামনে আসতে আমার সেই প্রিয় মানুষটি চেহেড়া টা দেখি তখন নিজের ভিতর নিজে ছিলাম না কত বছর পর এ্যানির চেহেড়া টা সরাসরি দেখলাম।সেদিন এ্যানি কে দেখে মনটা ভরে গেলে আমার। মনে হলো শূণ্য বুকটা হঠাৎ যেন পূর্ণতা পেলো এমনটায় অনুভব হল আমার।সেইও আমাকে দেখল অনেকক্ষন তার দিকে তাকিয়ে রইলাম আমি একটি বারের জন্য তার দিক থেকে আমার চোঁখ এদিক ওদিক ফিরাইনি।শুধু এ্যানির দিকে তাকিয়ে রইয়েছিলাম।সেদিন কিন্তু এ্যানির সাথে সামনা সামনি কোনো কথা বলিনি। কারণ ওদের বাড়ীর লোকজন আর আশেপাশে কেউ দেখলে খারাপ মনে করবে তাই।এ্যানি রেল লাইনের পাশ দিয়ে আমাকে ক্রস করে তার বাড়ীর দিকে চলে যেতে লাগল।যাওয়ার সময় এ্যানি মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে দেখতেছিল আমায়।সেই সময়টা আমার মনের ভিতরে অন্য রখম একটা ভালোলাগার অনুভূতি ফিল হয়েছিল।পরে সে বাসায় ঢুকার পর আমিও চলে আসি সেখান থেকে।

সেদিন আমি অনেক খুশিতে ছিলাম।ওইদিন এ্যানি ওদের বাসায় ঢুকার ৪০-৪৫ মিনট পর কল দিল আমাকে। এবং বলতেছিল আমাকে দেখে অনেক সুন্দর লাগল। তখন আমিও বললাম তুকেও দেখতে অনেক সুন্দর লেগেছে।সেসময় যেন প্রশংসার শেষ নেই দুজনের। পরে এসব কথা বলার পর এ্যানি বলে আমাকে তাদের বাড়ীতে তেমন কথা বলতে পারবে না রাতে ছাড়া। কারণ ফ্যামেলির কেউ দেখলে মাইন্ড করবে তাই।তখন আমি বললাম ওকে কোনো সমস্যা না তুই ফ্রি থাকলে কথা বলিস।এইসব বলার পর এ্যানি মোবাইল রেখে দিল।

তার একদিন পর ২০১৮ আগষ্ট মাসের ২২ তারিখ দিবগত রাত প্রায় ১২টা এমন সময় এ্যানির সাথে মেসেন্জারে কথা বলতেছিলাম আমি।বলতে গেলে রাত ১২ টার পর ২৩ আগষ্টের ধরা হয়। সেই রাতে আমি এ্যানির সাথে কথা বলতে বলতে কিছুটা সময় পার করেছিলাম।

হঠাৎ রাতের ১২:৩০ এর সময় আমার রুমের দরজাটা কে যেন অনেক জোরে জোরে বারি দিচ্ছে।কে জিজ্ঞেস করাতে আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলাম আমার বড় ভাবি।দরজা খুলতেই ভাবি বলে আমাকে আমার মা যেন কেমন করতেছে তখন সঙ্গে সঙ্গে বললাম এ্যানি পরে কথা বলেতেছি আমার মা যেন কেমন করতেছে।এই বলে মোবাইল বন্ধ করে দিলাম দৌড়ে দুই তলা গিয়ে উঠলাম।দোতালাই গিয়ে দেখি বিচানায় আমার মা শুয়ে আছে কোন আওয়াজ নেই।তখন অনেক জোরে চিৎকার করে মা মা বলে ডাকতেছি আর হাত দিয়ে মায়ের বুকের উপর ফুস করতেছি ওইসময় হঠাৎ মায়ের মূখ থেকে হুম করে একটা শব্দ বের হয়।এরপর অনেক চেষ্ট করেছিলাম কিন্তু মায়ের মূখ থেকে আর কোনো শব্দ বের হয়নি। তখন বুঝতে আর বাকি রইলো না আমার মা এই পৃথিবীতে আর নেই। তবুও মনকে শান্তানা দিতে হসপিটালে নিয়ে গেলাম সেখানেও জবাব দেয় মা বেঁচে নেই। এসময় মা নেই এই কথাটা শুনে আমার নিজের পৃথিবীটা যেন অন্দকার হয়ে গেল।তখন কে যেন আমার কানের পাশে এসে বলতে লাগল সুমন তুই তুর জীবনের অংশ হারিয়ে ফেলেছিস।সুমন তুই শুধু মা হারাসনি হারিয়েছিস তুর স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার একটা পৃথিবী।আজ থেকে তুর জীবনের সমস্ত রং এর সমাপ্তি ঘটল।এইসব আজগবি শব্দ কানে বাজতে বাজতে আমি ধসে পড়ি মাঠিতে।একটু পর জ্ঞান পিরে আবার চিৎকার করে কাঁদেত থাকি মা মা করে। মা এভাবে আমাকে একা রেখে যেতে পারেনা এ কথাটা আমি কিছুতেই মানতে পারছি না।পৃথিবীতে আমার মা ছাড়া কেউ আপন ছিল আজ সেই মা আমাকে রেখে চলে গেল কিভাবে মনকে বুঝাতে পারছিলাম না আমি। তখন মনে হল এই পৃথিবীতে আমার কান্নার বুঝি আর শেষ রইলো না ।সেই রাতে আমি একটু পর পর চিৎকার করে করে কান্না করেছিলাম মা কই মা তুই কই কেন চলে গেলি এই দুনিয়ায় আমায় একা রেখে কার কাছে রেখে গেলি মা এসব বলে শুধু কান্না করেছিলাম।যা মনে পড়লেও এখনো চোঁখ দিয়ে অশ্রু ভেয়ে পড়ে।

তারপর সেই রাতে হঠাৎ করে লাইন থেক চলে গেছি আবার এ্যানিকে বলেছি মা কেমন জানি করছে মোবাইলও বন্ধ করে দিয়েছি।সেই চিন্তায় এ্যানিও ওই রাতে আর ঘুমাইনি। পরে সেদিন খুব ভোরে মোবাইল খুলছিলাম একটু করে কারণ এ্যানিকে বলার জন্য যে আমার মা আর নেই।কলটা ঢুকার দেরি সেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন রিসিব করে বলে কিরে কি হয়ছে? তার কন্ঠ শুনে আবার কান্না শুরু হল আমার। কেঁদে কেঁদে বললাম এ্যানি আমার জীবন থেকে আমার সব রং চলে গেছে এ্যানি আমার সুখ শান্তি রাজকীয় চলা ফেরা সব শেষ।এ্যানি আমার মা আমাকে রেখে না পেরার দেশে চলে গেছে এ্যানি আমি শুধু মা হারায়নি হারিয়েছি পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এখন এই পৃথিবীতে আপন বলতে আমার কেউ রইলনা।আমার এইসব কান্না দেখে এ্যানিও কাঁদতে শুরু করল আমার সাথে।সেই আমাকে বিভিন্ন ভাবে শান্তা না দিতে চেয়েছিল।

কিন্তু সেই সময় শান্তাটা ভালো লাগছিল না আমার পরে এ্যানিকে বললাম দুপুরের নামাজের পর মায়ের জানাযা।তারপর কবর স্থানে মাকে নিয়ে যাব আমার মায়ের জন্য দোয়া করিস বলে রেখে দিয়েছি ফোনটা।সেদিন মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ীতে অনেক লোকের আনা গোনা হয়েছিল।আত্মিয় স্বজন সবাই শোকে কাতর।একজন সুস্থ্য ব্যক্তি হঠাৎ কিভাবে কি হল সবাই দূশচিন্তায় কান্না কাটি করতেছে। তাদের মাঝে এসব কান্না দেখে আমি নিজেকে আরো বেশি হারিয়ে ফেলতেছি তখন।অবশেষে অনেক কষ্টের মধ্যে দুপুরের মায়ের জানাযা নামাজের পর আমাদরে পারিবারিক কবর স্থানে দাপন করে আসলাম।কবর স্থান থেকে আসার সময় কান্নার ঝড়জরিত মূখ নিয়ে বসেছিলাম এলাকার পাশের একটি নিস্তব্দ জায়গায়। মা নেই তাই বাসায় যেতে মন চাইছিল না সেজন্য একা একা বসে কান্না করতেছিলাম।তার ফাঁকে হাতে মোবাইলটা নিয়ে খুলতেই দেখি সঙ্গে সঙ্গে এ্যানির কল বাজতেছে।তখন মনে হল সারক্ষন ট্রাই করতেছে আমাকে।ওইসময় অনেক কষ্টের মধ্যে কলটা রিছিব করলাম।কলটা রিছিব করতে সেও কান্না কন্ঠে বলতেছে কি করিস কিছু খেয়েছি কিনা?সেই সময়টা কোনো খাবার পেঠে যাইনা। তবুও বলেছি হে খেয়েছি।ওইদিন সেই আমাকে বিভিন্ন ভাবে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু কোনো ভাবে মা হারানোর যন্ত্রণার কষ্ট ভূলতে পারছিনা।

সে সময় আমাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টার মধ্যে এ্যানি বলে সুমন আমার আজকে তিন দিন শেষ।আগামীকাল আমি চলে যাবো শশুড় বাড়ীতে।হয়তো অন্যকোনো সময় দেখা হবে আমাদের।আর তুই নিজের প্রতি খেয়েল রাখিস এই ভাবে ভেঙে পরিস না। তাছাড়া আমি তো আছি তুর খারাপ লাগলে আমাকে কল দিস চেষ্টা করব তুকে শান্তনা দিতে।জানি তারপরও শান্তনা দিতে পারব না তুকে কারণ মা তো মা পৃথিবীতে এর উপর আর কিছু নেই।তখন আমার আরো বেশি কান্না হচ্ছিল আমার সাথে এ্যানিও কান্না করেতেছে সেই সময়। তখন এ্যানিকে বললাম আমি একটু দেখতে আসি তুকে তুই একটু রাস্তায় বেড় হবি পিলিজ।এ্যানি আমার কথাটা শুনে তখন অবাক হয়ে গেল।কিছুক্ষন চুপ থাকার পর বলল তুই এখন কিভাবে আসবি?আর তুই এইখানে এলে তোর ফ্যামেলিতে কেউ কিছু বলবেনা?তখন আমি বললাম কেউ জানবে না তুই শুধু বল আসবো কিনা? শুধু তুকে একটু দেখে চলে আসব বাছ তখন এ্যানি আরো অবাক হয়ে যাই আমার কথাটা শুনে।সেসময় অবশ্যই এ্যানি আমার এসব কথা শুনে অবাক হওয়ার কথা কারণ মা কে একটু আগে কবর স্থানে দাপন করে এসেছি।আর এসময় কেউ কোনোদিন ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করবেনা।

কিন্তু আমি কিভাবে তার সাথে দেখা করার কথা বলছি।সেজন্য এ্যানি আমার দেখা করার কথা শুনে অবাক হয়েছিল। যার কারণ সমাজের মানুষ বাড়ীর কেউ যদি জানতে পারে আমি এ্যানিকে দেখতে গেছি তাহলে খারাপ বলবে আমকে সবাই তখন বলবে মা মারা গেছে গতকাল রাতে একটু আগে মাকে কবর দিয়ে আসলো আর ছেলে মায়ের জন্য দোয়া দুরুদ না করে চলে গেছে ভালোবাসার মানুষটির সাথে দেখা করতে।কি আজব দুনিয়া চলে এলো শেষ পর্যন্ত কি এটায় দেখার বাকি ছিল এসব ধরনের কথা বলে বেড়াবে সমাজের লোকজন সেজন্য অবাক হয়েগেছিল এ্যানি।কিন্তু আমি এসব কিছু না তোয়াক্কা না করে এ্যানি হা বলার পর তাকে এক নজর দেখতে চলে গেলাম তাদের বাড়ীর দিকে।যখন দেখা করি এ্যানির সাথে সেসময় দেখলাম এ্যানির মূখটা কেমন যেন কালো অন্ধকার হয়ে আছে।চোঁখে মূখে কান্না কান্না ভাব এ্যানির সাথে কোনো কথায় বলার সাহস পাচ্ছি না।

যখন এ্যানি ওদের বাড়ীর রাস্তায় পাশ দিয়ে হেটে আমাকে ক্রস করতেছে তখন এ্যানি আমাকে বলল কেমন আছিস তুই? আমি বিষ্ময় চোঁখে তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম হে ভালো।বাছ শুধু এই সামান্য টুকু দেখার জন্য গেলাম তাকে আর দেখে চলে আসলাম বাসায়। সেদিন সন্ধ্যার আগে এ্যানি আবার ফোন দেয় আমাকে বলে কোথায় তুই বললাম বাসায় বসে আছি একটু পর সন্ধ্যার নামাজ পড়তে যাব।তখন এ্যানির কন্ঠটা কেমন যেন লাগল জিজ্ঞেস করলাম কি হয়ছে তুর?এ্যানি আমাকে কান্না জরিত কন্ঠে বলল কিছু না।তাহলে তুর গলার আওয়াজ এমন লাগতেছে কেন? তখন এ্যানি বলে তুকে ফোন করেছি তুর সাথে আমার কিছু কথা আছে তুই কি আজকে রাতে আমার সাথে কথা বলতে পাড়বি?তখন আমি বললাম হে পাড়ব।ওই সময় আমি কথা বলতে পাড়ব শুনে এ্যানি বলল দেখিস গুমিয়ে যাইসনা তাহলে কারণ তুই গতকাল রাত থেকে গুমাসনি গুমাইলে কথা গুলো বলতে পাড়বোনা আবার।আমি ওই সময় এ্যানিকে একটা কথা বলেছিলাম বললাম আমি এই পৃথিবী মাকে সব চাইতে বেশি ভালোবাসি আর মায়ের পরের স্থানে তুকে রেখেছি।সেজন্য আজকে মা মারা যাওয়ার পরেও এখনো তুর সাথে কথা বলতেছি।

অন্যকেউ হলে ৫-১০ দিন কোনো যোগাযোগ করত না তাই বলছি আমি ঘুমাব না।কারণ আমার মা তো আমাকে রেখে চলে গেছে এখন তুই আছিস তুকে হলেও বুঝিয়ে দেয় তুকে কথা ভালোবাসি।আমার কপাল দোষে মাকে তো বুঝাতে পাড়লাম না তার আগে চলে গেছে। এসব বলার পর এ্যানি আমাকে বলে চুপ কর আমি আছি আমি বুঝেছি তুই আমাকে অনেক ভালোবাসিস।এখন তুর সাথে রাতে কথা আছে আমার মোবাইল খোলা রাখিস এই বলে মোবাইল রেখে দিল।সেদিন মা হারানোর শোকে জীবনটা বিষের মত লাগতেছিল ইচ্ছে হচ্ছিল মাকে কবর থেকে তুলে নিয়ে এসে বলি আমার মা বেঁচে আছে।কোনো কিছুই ভালো লাগছেনা শুধু কান্না আর কান্না। অবশেষে মায়ের শোকে কাতর হয়ে বিচেনায় শুয়ে থাকতে থাকতে রাতের ১১টা বেজে গেল।ওইসময় মোবালে একটা মেসেজ আসল ইনবক্সে এ্যানির মেসেজে লেখা ছিল অনলাইনে যেতে আমি রিপ্লে দিয়ে বললাম আসতেছি।তারপর যখন এ্যানিও লাইনে আসে মেসেন্জারে আমাকে জিজ্ঞেস করে কি করেছিস খেয়েছিস কিনা এসব।সেদিন কোনো খাওয়া মূখ দিয়ে যাচ্ছে না আমার ঘরটা কেমন জানি শূণ্য শূণ্য লাগতেছে তখন কিছুই ভালো লাগতেছে না।তবুও এ্যানিকে বলেছি হে খেয়েছি শুয়ে আছি।আমার উত্তরে এ্যানি বুঝতে পাড়ে মা হারানোর শোকে অনেকটা ভেঙে পরেছি আমি।তখন এ্যানি আমাকে আবারও বিভিন্নভাবে শান্তানা দেয়ার চেষ্টা করেছিল ওই সময় আমি এ্যানিকে বললাম ভালো লাগছেনা কিছু আমার তুর কি যেন কথা আছে আমার সাথে উঠা বল আমি সেটা শুনার অপেক্ষায় আছি।তখন সে বলল ওকে বলতেছি শুন তাহলে।তখন এ্যানি আমাকে বলে সুমন আমি জানি না জীবনে কি ভূল করে ফেলেছি।আমি একজন বিবাহীতা মেয়ে অতচ সবকিছু ভূলে কেন জানি তুকে ভালোবেসে ফেলেছি মনের অজান্তে।সুমন আমার প্রতি তুর ভালোবাসা দেখে আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি আমি সত্যি তুর ভালোবাসা দেখে তুকে অনেক ভালোবেসে ফেলছি।বিশ্বাস কর সুমন তুকে আমি অনেক ভালোবাসি ফেলেছি।

তখন এ্যানির এমন কথাটা শুনার পর মনের ভিতর কেমন জানি বিকট একটা ধাক্কা লাগার মত শব্দ হল।প্রথমে বিশ্বাস হয়নি ওর কথাটা জিজ্ঞেস করেছি এ্যানি তুই কি এসময় আমার সাথে মজা করছিস? আমার মা মারা গেছে আজকে কবর দিয়ে আসলাম মা হারানোর যন্ত্রণায় শোকে আমি কাতর। আর তুই এসময় এমনসব কথা বলে পাইজলামী করতেছিস আমার সাথে এটায় কি তুর কথা ছিল?তখন এ্যানি সঙ্গে সঙ্গে বলে সুমন বিশ্বাস কর আমাকে কোনো পাইজালামী নয় সত্যি সুমন আমি তুকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। আমি ওর কথা শুনে কিছুটা হতবম্ভব হয়ে গেলাম। তখন এ্যানিকে বলতেছি মনে হয় তুই আমাকে শান্তানা দিচ্ছিস মা হারানোর যন্ত্রণাটা হালকা হওয়ার জন্য আর আমার মনটা খুশি করার জন্য এটা বলে মিথ্যা শান্তানা দিচ্ছিস।

কিন্তু তখন এ্যানি আবার আমাকে বলে সুমন এক বিন্দুও মিথ্যা নয় আমার ধর্মের শপত করে বলতেছি সুমন আমি তুকে অনেক অনেক ভালোবাসে ফেলেছি। আমি ওর শপথ করা দেখে অনেকটা বিষ্ময় হয়ে চুপ হয়ে গেলাম। ওদিক থেকে এ্যানি বার বার মেসেজ দেয় কিরে সুমন চুপ করে আছিস কেন কিছু বল।আমি কিছুক্ষন পর জবাব দিলাম তুই আমাকে ভালোবসে ফেলেছিস ও কথাটা শুনে সত্যি অনেকটা হারিয়ে গেছি তাই চুপ করে আছি কারণ তুকে কি বলব বুঝে উঠতে পারছিনা।আমি বললাম তুর কথা শুনে এ্যানি চুপ করে আছি এই জন্য হঠাৎ আমার ছোট্ট বেলার ভালো লাগা ছোট্ট বেলার চাওয়াটা দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ পূর্ন হতে যাচ্ছে। কিভাবে কি বুঝতে পারছিনা তাই কি বলব তুকে সেটা ভাবতেছি।তখন এ্যানিকে বলতেছি এ্যানি একটা কথা কি জানিস আমার মা জানে ওকে হারিয়ে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারবোনা।

সেই জন্য আমার মা চলে যাওয়ার সময় আমার প্রিয় মানুষটি কে উপহার দিয়ে গেছে তাই আজকে তুই আমাকে ভালোবাসিস এই কথাটা বললি।তখন কান্না করতে করতে এ্যানিকে বললাম এ্যানি একদিকে মা হারানো শোকে কাতর অন্যদিকে নিজের ছোট বেলার স্বপ্ন পূরণ হল অতচ আমি আজ তুকে পেয়েও কোনো আনন্দ করতে পারছিনা।তবে এ্যানি তুই আমাকে ভালোবাসসি কথাটা শুনে মনে একটু শান্তি এসে গেল।পরে ওইদিন এ্যানি আমাকে জান বলে ডেকে বলল আনন্দ করতে হবেনা তুই যে আমাকে পেয়েছিস আমি তুকে পেয়েছি এটা ভেবে মনকে অানন্দ দে এখন। সমস্যা নাই কোনো একদিন আমারা অন্য সময় আজকের আনন্দটা করব।আমি বললাম হে তাই করব।তখন এ্যানি আবার আমাকে বলে জান তুকে আরো কয়েকটি কথা বলি কিছু মনে করিসনা ভূল বুঝিসনা আমাকে। আমি তুকে ভালোবাসি তবে তুই আমাকে কোনোদিন তুর কাছে চাইবিনা কারণ আমার বিয়ে হয়েছে আজ অনেক বছর আর এখন তুই চাইলেও আমি তুর কাছে যেতে পাড়ব না।

কারণ প্রথমে আমার ধর্মের বাধা দিত্বীয় আমার বিয়ে হয়ে গেছে আর এমন অবস্থায় তুর কাছে গেলে দুনিয়া সমাজ দুজনকে খারাপ বলবে তাই সুমন তুর কাছে অনুরোধ করলাম।তুই আমাকে তুর কাছে ডাকলে তখন আমি তুকে পিরিয়ে দিতে পাড়ব না।সেজন্য আমাকে তুর কাছে যেতে ডাকবি না।

চলবে…………………………………………………………………………………….

প্রথম পর্ব পরতে এই লিংকে যান ….

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!!

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT