রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৬ জুন ২০২১, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ বিলাইভ মিউজিক স্টেশন থেকে আগামী রবিবার আসছে রাহিব খানের ❝তুই আশিকি❞ ◈ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সংগঠক মোস্তফা কামাল মাহদী ◈ বিএসআরএফ দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় মোসকায়েত মাশরেককে শুভেচ্ছা ◈ ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষন মামলা আসামীকে পুলিশের সহযোগীতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ◈ ঘাটাইল লক্ষিন্দর ইউনিয়নে টাকা ছাড়া হয় না ভাতা কার্ড ◈ রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামের উদ্যোগে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন ◈ জাগ্রত আছিম গ্রন্থাগারের উদ্যোগে স্থানীয় মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন ◈ কালিহাতীতে বাড়ছে করোনা, সামাজিক সচেতনতায় ইউএনও’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অব্যাহত ◈ মুক্তাগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ জনের জেল ◈ রায়পুরায় ট্রেনের সাথে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, ঘটনার ৬ দিনপর এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শ্রীনগর উপজেলার বিক্রমপুর জাদুঘর

প্রকাশিত : ১২:২৯ AM, ২ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার ২৭৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আরিফুল ইসলাম শ্যামল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সাবেক যদুনাথ রায় বাহদুরের বাড়িটি এখন বিক্রমপুর যাদুঘর হিসেবে এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সারা দেশেই এর ব্যাপক পরিচিতি বাড়ছে। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দল বেঁধে দর্শনার্থী বিক্রমপুর জাদুঘর ও এখানকার পুরনো জমিদার বাড়িটি দেখতে আসছেন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে ও সরকারী অর্থায়ণে নির্মাণ করা হয়েছে জাদুঘর, গেস্টহাউজ, থ্রীমপার্ক। জাদুঘরের প্রথম তলায় দুইটি গ্যালারি করা হয়েছে। গ্যালারি দুইটির নাম করন করা হয়েছে জমিদার যদুনাথ রায় ও বিজ্ঞানী স্যার জগদ্বীশ চন্দ্র বসুর নামে। আর দ্বিতীয় তলায় করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা গ্যালারি। যাদুঘরের গ্যালারি গুলো ঘুরে দেখা যাবে আদি বিক্রমপুরের মানুষের ব্যবহারিক নানা ধরনের সামগ্রী বিশেষ। তারমধ্যে রয়েছে যুদ্ধে ব্যবহারকৃত ঢাল, তলোয়ার, সুরকিসহ অনেক প্রকার সরাজ্জম। কয়েকশত বছরের পুরোণ নানা ডিজাইনের নৌকা। জমিদার পরিবারের সদস্যদের রেখে যাওয়া সামগ্রী ও স্মৃতি। যা কিনা বিক্রমপুরের ঐতিহ্য, ইতিহাসের ও সভ্যতার কথা বলে। এছাড়াও বিক্রমপুর জাদুঘর চত্বরে ঢুকতেই দেখতে পাবেন বিশাল বিশাল পুকুর ও ভাসমান বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌকা। তার মধ্যে সাম্পান নৌকাও দেখতে পাবেন পুকুরে ভাসানো।

এছাড়াও জাদুঘর দেখতে এসে দর্শনার্থীরা আরো উপভোগ করতে পারেন নয়নাভিরাম বিখ্যাত আড়িয়ল বিল। এই বিলের ধারেই তৎকালীন সময়ে গড়ে তুলে ছিলেন যদুনাথ রায় বাহাদুর তার নিজের বাসভবনটি। বাড়িটিতে প্রবেশ কালেই দর্শনার্থীর চোখে পড়বে একই রকম দেখতে কারুকাজ সজ্জিত মুখোমুখি দুটি জরাজীর্ণ প্রাসাদ। কাচারী ঘর, দুর্গা মন্দির, লক্ষী মন্দির। বিভিন্ন প্রজাতির দূর্লভ সব ফুল ও ফলজ গাছগাছালি। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এক সময় এ বাড়িতে পূর্ণিমা তিথীতে খুব ঘটা করে আয়োজন করা হতো রাশ উৎসব। বাড়ির চারপাশ এক সময় রাতের আধাঁরে বিখ্যাত আড়িয়ল বিলের মাঝে আলোয় জলমল করত। প্রথা বিরোধী লেখক, ভাষা বিজ্ঞানী ডক্টর হুমায়ূন আজাদ তার লেখা এক প্রবন্ধ গ্রন্থে এ বাড়িটিকে প্যারিস শহরের সাথে তুলনা করে লিখে গেছেন বিলের ধারে প্যারিস শহর।

প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গা জুড়ে গড়ে জমিদার বাড়িটি এখন বিক্রমপুর জাদুঘর হিসেবে ব্যাপক সুপরিচিতি হয়েছে । সুন্দর ও মনমুগ্ধকর পরিবেশ ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সারা বছরেই দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার অনেক দশনার্থী আনন্দ ভ্রমণে আসেন এখানে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা: ঢাকা গুলিস্তান থেকে বালাশুরের উদ্দেশে আরাম, নগর ও সেবা পরিবহনের বাস ছাড়ে কিছুক্ষন পরপর ভাড়া ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া পোস্তগোলা থেকেও সেবা পরিবহনে করে যেতে পারেন । সময় লাগবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা। বালাশুর বাস স্ট্যান্ডে নেমে রিক্সায় যাওয়া যাবে বিক্রমপুর জাদুঘর। ভাড়া লাগবে ২০ টাকা।
অগ্রসর বিক্রমপুর শ্রীনগর শাখার সাধারণ সম্পাদক লেখক মুজিব রহমান জানান, বিক্রমপুর জাদুঘরটি শীতকালীন সময় খোলা থাকে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১টা এবং দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৪ টা পযর্ন্ত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি আর শুক্রবার ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে বিক্রমপুর জাদুঘরটি। কোন প্রকার প্রবেশ মূল্য নেই। জাদুঘরে রাখা আছে শতবছরের পুরনো বিভিন্ন প্রকার ধাতব বস্তু, আসবাবপত্র ও নৌকা। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংগ্রহে থাকা কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন ইতিমধ্যে জাদুঘরে নতুনভাবে যোগ হয়েছে। জাদুঘরটি আদি বিক্রমপুরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের স্বাক্ষী।

অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সর্বোপরি প্রদর্শনের জন্য অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন ডক্টর নূহ-উল-আলম লেলিন। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীনগর উপজেলার বালাশুরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিক্রমপুর জাদুঘর। আমরা আলোর পথযাত্রী শ্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এ অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT