রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৭ মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৭ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লোহাগড়ায় ১৭ই মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত ◈ কালিহাতী থানায় নতুন ওসির যোগদান ◈ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৪০ বস্তা চাল জব্দ, আটক-১ ◈ নওগাঁর আত্রাইয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ◈ ঈদ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ,বড় দল বনাম ছোট দল, বিশেষ আকর্ষণ দেশের দ্রুত তম মানব ইসমাইল ◈ বিরলে শেখ হাসিনা’র স্বদেশ-প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের দোয়া ও খাদ্য বিতরণ ◈ বুড়িচং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত ◈ মতিন খসরু’র স্মরণ সভা ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত ◈ স্ত্রী কানিজ ফাতিমা হত্যায় আটক সেনা সদস্য স্বামী রাকিবুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ◈ বাঁশখালীতে বেড়াতে আসা তরুণীকে ধর্ষণ করে আবারো আলোচনায় সেই নূরু

জঙ্গিবাদের ঠাঁই নেই

প্রকাশিত : ০৪:২৪ AM, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২২০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ত্রিশ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই নেই। বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলার রায়ে ফের জাতির সামনে উঠে এসেছে এ বার্তা। রায়ে ধিক্কারজনক ওই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য ৭ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালায়। গতকাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।

দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু করেন বিচারক। এ সময় তিনি বলেন, ‘তথাকথিত জিহাদের মাধ্যমে খিলাফত কায়েম এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তিন পরিকল্পনাকারী (বন্দুকযুদ্ধে তিনজনই নিহত) ও অভিযুক্ত সাত আসামির অভিপ্রায় ছিল একই। পরিকল্পিতভাবে হামলা করে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো চাপাতি দিয়ে ১৭ বিদেশি, ৪ বাংলাদেশি নাগরিক ও ২ পুলিশ অফিসারকে হত্যা করা হয়। অনেককে গুরুতর আহত ও জিম্মি করা হয়। আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা ও সহানুভূতি পেতে পারে না। সাত আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।’

রায়ে দণ্ডিতদের আরও কয়েকটি ধারায় বিভিন্ন মেয়াদের দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। হামলায় সম্পৃক্ততা না থাকায় আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আসলাম হোসেন সরদার ওরফে র‌্যাশ (২২), রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২২), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী (৩৪), আবদুুস সবুর খান ওরফে হাসান (৩৫), মো. হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর ওরফে আবু আল বাঙালি (৩৭), মো. শরিফুল ইসলাম খালিদ এবং মো. মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন (৩২)। রায় ঘোষণার পর খালাস ও দ-প্রাপ্ত সবাইকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে বড় মিজান খালাস পেলেও তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না, জানান আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন। আসামিপক্ষের এই আইনজীবী জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

এদিকে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বকে প্রমাণ করতে পেরেছি, বাংলাদেশে এ রকম হত্যাকাণ্ড হলে অত্যন্ত দ্রুত ও সঠিক এবং আইনি সব প্রক্রিয়া ফলো করে এর বিচার সম্পন্ন হয়। আমরা বলতে চাই, চাঞ্চল্যকর যেসব মামলা দেশের শেকড়ে ধাক্কা দেয়, সেসব মামলা দ্রুত শেষ করতে পারছি- সেটাও সন্তুষ্টির কারণ।’

খালাস পাওয়া মিজানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি তো এখনো জাজমেন্ট পড়িনি। কেন খালাস পেল দেখে নিই, তারপর সিদ্ধান্ত। মন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় ডেথ রেফারেন্স হিসেবে সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে যাবে। সেখানে গেলে পেপারবুক তৈরি হবে। এটার বিচার সেখানেও যেন দ্রুত শেষ হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। আসামির মাথার কালো টুপিতে আইএস প্রতীক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কী এর জবাব দিতে পারব? সেটা নিশ্চয় তদন্ত করা হবে।’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ রায়ের পরে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য) হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে আসবে। আমরা চেষ্টা করব আদালত যে রায় দিয়েছেন তা যেন বহাল থাকে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদে যারা সম্পৃক্ত- এ রায় তাদের কাছে যেন একটা মেসেজ হিসেবে যায়।

ঢাকা মগহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডে আমরা খুশি। তবে খালাস পাওয়া আসামির বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি তদন্ত করে সাক্ষ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। ট্রাইব্যুনাল বিচার-বিশ্লেষণ করে রায় দিয়েছেন। এখন রাষ্ট্রপক্ষে রায় পর্যালোচনা করে খালাসপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে কিনা সিদ্ধান্ত দেবে।

মামলা দায়ের ও বিচার : চার্জশিটে মামলার ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়, হামলাকারী রোহান ইবনে ইমতিয়াজ (২১), মীর সামেহ মোবাশে^র ওরফে শুভ (১৯), নিবরাস ইসলাম ওরফে লম্বু (২৫), মো. খায়রুল ইসলাম পায়েল (২২) ও মো. শফিকুল ইসলাম উজ্জল ২০১৬ সালের ১ জুলাই কাঁধে অস্ত্র-গুলি, গ্রেনেড, চাকুভর্তি ব্যাগ নিয়ে রাত ৮টা ৪২ মিনিটে হলির মেইন গেটে যায়। গেটের নিরাপত্তারক্ষী নূর ইসলাম তাদের পরিচয় ও কোথায় যাবেন জিজ্ঞাসাকালে নূর ইসলামের ডান চোখের নিচে ঘুষি মেরে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে নিবরাস ভেতরে প্রবেশ করে। ঢুকেই গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক তৈরি করে। ২০ মিনিটের মধ্যে সেখানে হামলাকারীরা গুলি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৭ জন বিদেশিসহ ২৩ জনকে হত্যা করে। হত্যার পর ছবি তুলে অ্যাপসের মাধ্যমে মিরপুর ১-এর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শাপলা সরণির ৪৪১/৮ বাসায় অবস্থানরত তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পাঠায়। এ ছাড়া হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের স্পিøন্টারের আঘাতে ওই বছর ৮ জুলাই বেকারির কর্মচারী জাকির হোসেন চিকিৎসাধীন মারা যায়। এ ছাড়া ১ জুলাই হামলা প্রতিরোধ করতে এসে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। ২ জুলাই কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী ৫ জঙ্গি ও হলির কর্মচারী সাইফুল চৌকিদার নিহত হয়। কমান্ডো অভিযানের পর ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। হামলার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৫ বিদেশিসহ ২৭ জন বিভিন্নভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ঘটনার পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানের আগে কানাডা প্রবাসী তাহমিদ হাসিব খান ও নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে এবং ভারতীয় নাগরিক ডা. সত্য প্রকাশ, বাংলাদেশি তাহানা তাছমিয়া ও ফাইরুম মালিহাকে জঙ্গিরা রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে আসতে দেয়। ২০১৬ সালের ৪ জুলাই রাতে গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করেন। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা ১ বছর ১৯ দিন তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এ ঘটনায় জড়িত নয় মর্মে তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আর অভিযোগ প্রমাণ হলেও ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডার বোল্টে’ নিহত হামলাকারী রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল এবং পরিকল্পনারী পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, সারোয়ান জাহান মানিক, তানভীর কাদেরী, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, রায়হান কবির ওরফে তারেক, মেজর (অব) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজানদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট চার্জশিট আমলে নিয়ে পলাতক দুই আসামির (পরে গ্রেপ্তার) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী হাসনাত করিমকে এবং মৃত ১৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই বছর ২৬ নভেম্বর আদালত ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন ও বিচার শুরু করেন। ৩ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৬ কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটের ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ১৭ নভেম্বর ২৭ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল রায় ঘোষণার ৫ মিনিট পূর্বে ৮ আসামিকে হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। বিচারক বেলা ১২টা ৫ মিনিটে এজলাসে উঠেন। তিনি বলেন, হলি আর্টিজান মামলার বিচারের সঙ্গে জড়িত প্রসিকিউশন, ডিফেন্স ও সাংবাদিকসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সবার সহযোগিতা পেয়েছি। রায়ে আমি বিচারক হিসেবে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি রায় পড়া শুরু করেন।
রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৭ জনের মধ্যে মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ছাড়া অপর ৬ জনের একই আইনের ১০ ধারায় অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রে কেউ লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদ- অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৭ আসামির একই আইনের ৮ ধারায় নিষিদ্ধ সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য হওয়ার জন্য প্রত্যেকের ৬ মাসের এবং ৯ ধারায় নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থন করে প্রচার চালানোয় ৫ বছর করে সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দ-িত সাত আসামির বিরুদ্ধে একই আইনের ১০/১১/১২/১৩ ধারার অভিযোগ থাকলেও ওই সব ধারার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় তাদের খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া রায়ের মামলায় জব্দ করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তসহ ধ্বংসযোগ্য আলামত ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ঢাকার নিম্ন আদালত অঙ্গনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে বুধবার সকাল ৫টা থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের যে ভবনে রায় ঘোষণা হবে, সেই ভবনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে।

তামিম চৌধুরীই মূল পরিকল্পনাকারীহলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী। গতকাল আদালতের রায় ঘোষণায়ও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তামিম কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসে নতুন ধারার জঙ্গিগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। এ গোষ্ঠীটি পরবর্তীকালে নব্য জেএমবি নামে পরিচিতি পায়। হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার জন্য অর্থ, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও জনবল সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট আরও সব কর্মকা- তার পরিকল্পনায় ও দিকনির্দেশনায় সম্পন্ন হয়। এছাড়া দলে নতুন ভেড়ানো জঙ্গিদের জঙ্গিবাদের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও প্ররোচিত করেন তিনি। নব্য জেএমবির হয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগও গড়ে তোলেন এই তামিম চৌধুরী।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল তামিম চৌধুরী। আসামি আসলাম হোসেন র‌্যাশ তার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ‘আমি তখন তামিম ভাইয়ের কাছে গুলশান বা কোনো কূটনৈতিক এলাকায় আক্রমণের উদ্দেশ্য জানতে চাই। তামিম ভাই বলেন যে, আমাদের সংগঠন নব্য জেএমবি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় হামলা প্রয়োজন।’ কাজেই এটা প্রতিষ্ঠিত যে, তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে নারায়ণগঞ্জের একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযান চলাকালে ক্রসফায়ারে নিহত হন তামিম চৌধুরী।

দ্রুত বিচারের প্রশংসায় জাপান ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা আদালতের রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বাংলাদেশের আদালত দ্রুত বিচারে পৌঁছেছেন, আমরা এর প্রশংসা করি। হলি আর্টিজান হামলার রায় উপলক্ষে তিনি শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বলেন, ঢাকার জাপান দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT