রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৭ আগস্ট ২০২২, ২রা ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৪ অপরাহ্ণ

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি

প্রকাশিত : 05:46 AM, 10 October 2019 Thursday 666 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের শিক্ষাঙ্গন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে নতুন ১০ দফা দাবি। অন্যতম দাবি হচ্ছে, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তাঁদের দাবির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, ছাত্ররা কয়েক দশক আগেও রাজনীতি করত আদর্শের জন্য। এখন তারা রাজনীতি করে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোই পরিচালনা করে ছাত্রসংগঠনগুলোকে। রাজনৈতিক দলের ইন্ধনেই চর দখলের মতো তারা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু রাজনৈতিকচর্চা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। এ জন্যই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছাত্রসংগঠনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে আইন করেই ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে বিশিষ্টজনদের অভিমত। তাঁদের মতে, এখন যে ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে, তা মানুষকে কাঁদাচ্ছে, মেরে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের কোনো উপকারে আসছে না। যে ছাত্ররাজনীতি মানুষ হত্যা করে, সেই রাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বুয়েটের তিন হলে সাত টর্চার সেলের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯০(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা শিক্ষক; কোনো আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা শ্রমিক এবং অন্য যেকোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন করা নিষিদ্ধ। এ বিধান না মানলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধনও বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার আছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু বাস্তবে এ বিধান কার্যকর হচ্ছে না। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের এবং ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবেই এখনো পরিচিত। শিক্ষকদের মধ্যে নীল-সাদার বিভাজন শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের বিপরীতেই কাজ করছে বলে অনেকের বিশ্বাস। আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো এখন পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শিক্ষকদের রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতাও নষ্ট করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ। কাজেই এসব বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT