রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০২:২৭ পূর্বাহ্ণ

চোখ ধাঁধানো সবুজের বুকে হলুদের সমাহার

প্রকাশিত : ০৩:৪২ PM, ২৪ মার্চ ২০২০ Tuesday ৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

নজরকাড়া সৌন্দর্য। সেই সাথে তেল হিসেবেও ব্যবহার রয়েছে। কথাগুলা বলছি সূর্যমুখীর ফুলের। সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন এক কৃষক। মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহে চোখ জুড়াতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়তই আসছেন দর্শনার্থীরা। এ যেনো চোখ ধাঁধানো সবুজের বুকে সমারোহ। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মান্দারকান্দি গ্রামের পার্থ সারথি ঘোষ বাড়ীর পাশের ৬২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে।

পার্থ সারথি ঘোষের সফলতা দেখে অন্যান্য চাষীরাও এবার সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে পার্থ সারথি ঘোষ বলেন- সূর্যমূখী ফুলের চাষে ৬২ বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কর্তন করতে কিছু টাকা খরচ হবে। পুরো ফসলে সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয়। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগীতায় ফসলে সফলতা পেয়েছি। আগামীতে আরো ১০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের পরিকল্পনা আছে। এদিকে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে আসছে। অনেকেই ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এবং সৌন্দর্যে ভরপুর সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখে আনন্দিত দর্শনার্থীরা। তারা বলেন- চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য। সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য পুলকিত করে যে কাউকেই। ওই অ লের বল্কে দায়ীত্বরত নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অলক কুমার চন্দ্র বলেন- আগে ওই জমিতে বছরে একবার ধানের ফসল হতো।

তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য এবারই প্রথম সূর্যমুখী ফুলের চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। কারণ সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল বেশি পুষ্টিগুনসম্পন্ন। আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় এ ফুলের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচ আর অধিক লাভ হওয়ায় নবীগঞ্জের কৃষকরা সূর্যমুখীর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যেখানে বছরে ১ বার ধান ফসল হতো সেখানে এবার সূর্যমূখী ফুলের বীজ বপন করার পর ১শ থেকে ১শ ১০ দিনে ফুল তোলা যায় বলেও জানান অলক কুমার চন্দ্র। নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম মাকসুদুল আলম বলেন- এ বছর সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের রাজস্ব প্রকল্প থেকে ও প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় ফসল করতে বীজসহ সার্বিক সহযোগীতা করা হয়েছে। এটা আমাদের কৃষি বান্ধব সরকারের একটা বিশেষ অর্জন এবং মুজিব বর্ষে সফল ফসল হয়েছে। এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন, তারা ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করছেন। এছাড়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অলক কুমার চন্দ্র এখানে সার্বক্ষণিক থেকে সহযোগীতা করে চাষীদের পরার্মশ দিচ্ছেন।

এখন অনেকেই যোগাযোগ করছেন বীজ নেয়ার জন্য। আগামীতে সরিষা ও সূর্যমুখীর চাষ বাড়বে বলেও আশাবাদী তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের আরো সার্বিক সহযোগীতা ও সূর্যমূখী চাষে আগ্রহী করে তুললে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক তমিজ উদ্দিন খান বলেন- নবীগঞ্জে এই প্রথম এক সাথে ৬২ বিঘা সূর্যমূখী ফুলের চাষ হয়েছে। এখন এই প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর্য দেখে ফুলে ফুলে সজ্জিত এই নবীগঞ্জের মাঠ। এই ফুলের সুন্দর্য উপভোগ করছেন প্রতি শ্রেণী পেশার লোকজন। সূর্যমুখী ফুলের এই সফল ফসলের ফলে বাংলার কৃষিতে নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানী করা হয়। দেশের চাষকৃত সূর্যমূখীর মাধ্যমে তেলে ঘাটতি পূরন করা সম্ভব। এই তেল অনেক পুষ্টিকর এবং অন্য তেলের চেয়ে অনেক ভালো। হবিগঞ্জ জেলায় ৫২০ বিঘা জমিতে শতাধিক কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। চাষ করতেও অনেক কম সময় লাগে। এ বছর আড়াই কোটি টাকার তেল বিক্রি করা হবে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT