রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ভিবিডি গোপালগঞ্জ জেলা কর্তৃক আয়োজিত “আনন্দ আহার” ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শুভ আহমেদ ◈ কবিতা : শীতের পিঠা – মোঃ শহিদুল ইসলাম ◈ ধামইরহাটে জঙ্গিবাদ মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ ◈ ধামইরহাটে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপন ◈ ধামইরহাটে মাস্ক না পরায় বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের জরিমানা, সচেতন করতে রাস্তায় নামলেন এসিল্যান্ড ◈ সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান ◈ ধামইরহাটে অজ্ঞাত রোগে মাছে মড়ক, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিতে মৎস্যচাষী’র হাহাকার ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই জনকল্যানমূলক কাজ সবচেয়ে বেশি হয়েছে- এমপি শাওন ◈ উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের স্মার্ট কার্ড বিতরনের উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান ননি

চল্লিশেই থেমে যাচ্ছে চলচ্চিত্রের ২০১৯

প্রকাশিত : ০৭:০৩ AM, ৩ নভেম্বর ২০১৯ Sunday ১০৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ছবি নির্মাণ, মুক্তি ও ব্যবসায়িক দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড যেন ভেঙে দিল চলচ্চিত্রের ২০১৯। তবে সাফল্যের নয়, এ রেকর্ড হতাশা আর ব্যর্থতার। প্রতি বছরের তুলনায় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিপর্যয়ের বছর বলেও মন্তব্য করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। ছবি মুক্তির সংখ্যা যেমন সর্বনিম্ন ছিল, তেমনি ছবি মুক্তির সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেক কম। আর ব্যবসা সফল ছবির তালিকায় রয়েছে মাত্র একটি ছবি। সামনে মুক্তির তালিকায় রয়েছে যেসব ছবি, সেগুলো আহামরি ব্যবসা করতে পারবে না বলেই ধরে নিচ্ছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। সব মিলিয়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে চলচ্চিত্র পরিবারে।

যদিও হতাশা দিয়েই শুরু হয় চলতি বছর। দেশীয় কোনো ছবি প্রস্তুত না থাকায় গত ৪ জানুয়ারি আমদানিকৃত বিদেশি ছবি (বিসর্জন) দিয়েই যাত্রা শুরু করে ২০১৯। পরের সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া দেশীয় ছবি ‘আই অ্যাম রাজ’ প্রথম দুদিনেই মুখ থুবড়ে পড়ে। পরের মাস ফেব্রম্নয়ারিতে তারকাবহুল একগুচ্ছ ছবি মুক্তি পেলেও কোনোটাই সাফল্যের মুখ দেখতে পারেনি। একই চিত্র দেখা গেছে রোজার ঈদ পর্যন্ত। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি ধুন্ধুমার ব্যবসা করার পর আবার শুরু হয় ফ্লপের জোয়ার। সর্বশেষ শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ভারতীয় ছবি ‘পদ্মার প্রেম’। সব মিলিয়ে এই ১০ মাসে মাত্র ৩৫টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। আগামী দুই মাসে ৫/৬টি ছবি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলিস্নশেই থেমে যাচ্ছে এবারের বছর। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে ‘বিশ্ব সুন্দরী, ‘ইতি তোমারই ঢাকা’, ‘বাংলাশিয়া ২.০’, ‘পদ্মাপুরাণ’ এবং ‘মায়া, দ্য লাস্ট মাদার’ ছবিগুলো।

গত বছরে ছবি মুক্তি পায় ৫৬টি ছবি। এর আগের দুই বছর অর্থাৎ ১৬-১৭ সালেও ছিল একই সংখ্যা। স্থানীয় ছবির বাইরে চলতি বছর এ পর্যন্ত আমদানি করা কলকাতার ছবি মুক্তি পেয়েছে ৮টি ও যৌথ প্রযোজনার ১টি (তুই আমার রানী)। ব্যবসা না করতে পারলেও আলোচনায় ছিল ‘যদি একদিন’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘আবার বসন্ত’, ‘মায়াবতী’, ‘সাপলুডু’, ‘ডনগিরি’, ‘অন্ধকার জগৎ’, ‘আব্বাস’, ‘বয়ফ্রেন্ড’, ‘রাত্রীর যাত্রী’, ‘মায়াবতী’ ছবিগুলো। শাকিব খানের ওপর প্রযোজকদের ভরসা থাকলেও শাকিব অভিনীত অন্য দুই ছবি ‘নোলক’ ও ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ থেকেও বিনিয়োগ ফেরত আসেনি।

‘রাত্রীর যাত্রী’ ছবি থেকে ৩০ ভাগ টাকাও উঠে আসেনি বলে জানান ছবির পরিচালক হাবিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছবিতে বিনিয়োগ যা করেছি, তার ৩০ ভাগ টাকাও উঠে আসেনি।’ প্রেক্ষাগৃহে এ ছবির টান না থাকায় ভিন্নভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করেন পরিচালক। দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরগুলোর মিলনায়তনে টিকিটের মাধ্যমে দেখানোর ব্যবস্থা করা হলেও সাড়া মেলেনি। মাহিয়া মাহি অভিনীত ‘অবতার’ ছবিটির নির্মাণ খরচ কোটি টাকার ওপরে। ছবিটির পরিচালক হাসান সিকদার বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহ থেকে যা এসেছে, তার সঙ্গে ডিজিটাল ও টেলিভিশন স্বত্বের টাকা যোগ করলে বিনিয়োগের ৫০ ভাগ টাকা উঠবে।’

চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো হতাশা করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের। তারা মনে করেন, ভালো গল্প, দুর্বল নির্মাণশৈলী, প্রাণহীন অভিনয়, ভালো মানের শিল্পীর অভাব, প্রযোজকদের অনাগ্রহসহ নানা সংকটে চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে সমিতির কার্যক্রমে তৎপর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে এসব সংগঠনের গুরুত্বও আছে বলে মনে করেন অনেকে।

মধুমিতা হলের মালিক ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘ছবিতে ভালো গল্প নেই, ভালো গান নেই, নির্মাণশৈলীর অভাব, ভালো শিল্পীর অভাব। ফলে এসব নিম্নমানের ছবির কারণে নতুন দর্শক তো আসছেনই না, পুরনো দর্শকরাও সরে পড়ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় নতুন সিনেমা শুটিংয়ের আগে পুরো টিম নিয়ে আলোচনা হতো, গ্রম্নমিং হতো, তারপর শুটিংয়ে যেত সবাই। তাছাড়া এ সময়ে কিছু নতুন প্রযোজক ফুর্তি করতে আসেন এখানে। তাদের সরাতে হবে। ফেরাতে হবে পেশাদার প্রযোজকদের। আরেকটি বিষয়, দেখতে সুন্দর হলেই একটা নতুন মেয়েকে ধরে এনে নায়িকা বানিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দূর করতে হবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন বলেন, ‘এক সময় বছরে শতাধিক ছবি মুক্তি পেত। এখন কমতে কমতে অনেক নিচে নেমে গেছে। এর কারণও আছে। একদিকে সিনেমা হল কমছে। প্রযোজকরা ছবি বানাতে সাহস করছেন না। ছবি না চললে প্রযোজকরা এগিয়ে আসবেন কি করে? অন্যদিকে ভালো ছবির সংকট দীর্ঘদিন ধরে। দর্শক এখন আমাদের ছবিতে প্রাণ পাচ্ছেন না। ভালো গল্পের অভাব। ভালো অভিনয়শিল্পীর সংকট। শাকিব খানের ছবি ছাড়া অন্যদের ছবি দেখতে দর্শক হলে আসতে চান না। আবার শাকিব খানের সব ছবিও ব্যবসা সফল হচ্ছে না। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো নয়। তবুও আমরা ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখি।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT