রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:৫০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ করোনার দ্বিতীয় টিকা নিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান – মোফাজ্জল হোসেন খান ◈ কাভার্ডভ‌্যান চাপায় না.গ‌ঞ্জ সিআইডির কন‌স্টেবল নিহত ◈ নারায়ণগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে মিলছে দুধ ডিম মাংস ◈ ধামইরহাটে নর্থওয়েষ্ট ক্যাবল নেটওয়ার্কে তালা, ভোগান্তিতে স্যাটেলাইট গ্রাহকরা ◈ ধামইরহাটে ২য় ধাপের করোনা মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্য প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা আইসোলেশনে ◈ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলেন  গৌরীপুরের গণমাধ্যমকর্মীরা ◈ ইউএনও’র মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকা দাবি ! ◈ রাজারহাট উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর শুভ উদ্বোধন ◈ শ্রীনগরে বাড়ৈগাঁও-পশ্চিম নওপাড়া সড়কটি এখন মৃত্যুকুপ! ◈ তিতাসে গোমতী নদীর পাড় ও ডিম চরের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

ঘাঁটিতেই নেতৃত্বশূন্য বিএনপি আওয়ামী লীগে বিভক্তি নিষ্ক্রিয় জাপা

প্রকাশিত : ০৭:৩৫ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার ১৭২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এখন অনেকটাই উত্তাপহীন লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন। পারস্পরিক আস্থার অভাব ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার কারণে বড় দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ আর হতাশা। এই জেলায় অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড।

বিএনপি : ১৮ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত লক্ষ্মীপুরকে এক সময় বলা হতো ‘বিএনপির ঘাঁটি’। এখান থেকে বিএনপিদলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পরপর দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ পাঁচ মাস ধরে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি শূন্য রয়েছে। নেতৃত্বের লড়াইয়ে কমিটি নিয়ে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির জেলা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। জেলায় সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে দলটি। গত ৯ এপ্রিল কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলা কমিটি বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি করার কথা থাকলেও চার মাসেও তা সম্ভব হয়নি।

২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে সভাপতি ও সাহাবউদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পরপর সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা হয়নি এ জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির পৃথক কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। এসব কর্মসূচিতে একদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব নেতৃত্ব দেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এই গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ছেন। যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখা কমিটিতে পাল্টাপাল্টি কমিটিও দিয়েছেন এসব নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, নেতারা সব ব্যস্ত রয়েছেন কমিটি নিয়ে। জেলা সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাবু, সাবেক সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইনউদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ লবিং করছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সদর উপজেলা ও রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে। জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও নিষ্ক্রিয় রয়েছে বিএনপি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান বলেন, জেলা কমিটি না থাকায় বর্তমানে লক্ষ্মীপুর বিএনপি’র কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাবু বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছি। জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে আশা করি, শিগগিরই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে সুন্দর একটি জেলা কমিটি দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করবে কেন্দ্র। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, জেলা কমিটি না থাকলেও বিএনপির কার্যক্রম থেমে নেই। জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন।

আওয়ামী লীগ : লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি দিয়েই চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের অভিযানও থমকে আছে। এজন্য নেতাদের সাংগঠনিক অদক্ষতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০১৫ সালের মার্চে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গোলাম ফারুক পিঙ্কুকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনম ফজলুল করিম ও তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী দুলালসহ এ কমিটির সাতজন সদস্য মারা গেছেন।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলটির জেলা কার্যালয় না থাকায় বর্তমানে দুই শীর্ষ নেতার বাসভবনে পৃথকভাবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে দলীয় কর্মীরা মনোবল হারিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। জেলার ৫৯টি ইউনিয়নের ৫৮টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান থাকলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন। এক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে জেলার শীর্ষ একাধিক নেতা অবস্থান নেওয়ায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৩ সালে বর্তমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে উপজেলা সভাপতি ও আবুল কাশেম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। এরপর থেকে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০১৫ সালে জেলা কমিটি গঠনের পর গঠনতান্ত্রিক নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় বিজন বিহারীকে বর্তমান জেলা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই অবস্থা বিরাজ করছে রায়পুর, রামগতি, কমলনগর উপজেলা এবং রামগতি ও লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগেও। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন মাস্টার বলেন, জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা দলকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যস্ত। ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন না পাওয়ায় সংগঠনে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে জেলা কমিটির শীর্ষ দুই নেতার মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে লক্ষ্মীপুরের তিনটি উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন। লিডারশিপের দুর্বলতার কারণে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আবু তাহের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলার শীর্ষ নেতারা গ্রুপিং, টেন্ডারবাজি ও কমিটি নিয়ে চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যস্ত। জেলার শীর্ষ নেতাদের অযোগ্যতার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোনো গতি নেই। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ অতীতের তুলনায় সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কু বলেন, দলীয় কার্যালয় না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জাপা : দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুরে রাজনীতির মাঠে জাতীয় পার্টি নিষ্ক্রিয় রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ নোমান নির্বাচনের আগমুহূর্তে ভোটের মাঠ থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। এরপর থেকে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। সংগঠনটির দলীয় কার্যালয়ও নেই। কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বাম দল : লক্ষ্মীপুরে বামদলসহ অন্য দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। এসব সংগঠনের নামসর্বস্ব কমিটি থাকলেও দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত নেই। হাতেগোনা কয়েকজনকে নিয়ে এসব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নিজের এ জেলায় দলটির এক সময় জৌলুস থাকলেও এখন আর তা নেই। জেলার কমলনগরকেন্দ্রিক বাসদ ও লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মাঝেমধ্যে ছোট পরিসরে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT