রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:২০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইভাই নিহত ◈ রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক এর অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন কারিগরি শিক্ষার ফেরিওয়ালা তৌহিদ ◈ নাটোরে সুগার মিল শ্রমিকদের কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান ◈ নওগাঁয় সাংবাদিক পাভেলের পিতার রুহের মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল ◈ ধামইরহাটে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে পূনর্বাসন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ◈ নাটোরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ জন জেল হাজতে ◈ পরিসংখ্যানের প্রয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে: রাষ্ট্রপতি ◈ করোনায় প্রধানমন্ত্রী সকল সেক্টরকেই সহায়তা করছেন: তোফায়েল ◈ দেশে করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু ◈ রোহিঙ্গা নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডস দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: স্টেফ ব্লক

গ্যাস বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভরসা কয়লা এলএনজি

প্রকাশিত : ০৬:৩৯ AM, ৪ অক্টোবর ২০১৯ Friday ১৭৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে আমদানিনির্ভর জ্বালানিকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যাচ্ছে সব পরিকল্পনা। সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানির চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং কয়লা আমদানি শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন গ্যাসভিত্তিক যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে তার জন্য প্রায় ১৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দরকার। এ চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। এ কেন্দ্রগুলোয় সরকারের কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এখন প্রায় প্রতিদিন সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। বর্তমানে বেসরকারি কোম্পানি সামিট পাওয়ার এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে আরও এলএনজি আনার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। এখন ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ১৭টি কোম্পানির শর্ট লিস্ট করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে এলএনজিভিত্তিক পাঁচটি কোম্পানিকে লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। বাকি তিনটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ৩৬০০ মেগাওয়াট একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে। এ কেন্দ্রটির জন্য বছরে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন টন বা প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের এলএনজি দরকার হবে। এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি এলএনজি বেইজড কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। যা চালু হবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি। এখানেও অব্যাহত এলএনজি সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া সম্প্রতি আরও দুটি বড় কোম্পানির সঙ্গে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছে। একটি বেসরকারি স্বনামধন্য কোম্পানি ইউনিক পাওয়ার এবং অন্যটি ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স।

শুধু এলএনজি নয়, বিদ্যুৎ খাতও নির্ভরশীল হচ্ছে আমদানির করা কয়লার ওপর। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি চায়নার সিএমসি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে আরেকটি ফেজে আরও ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে কোম্পানিটি। ধারণা করা হচ্ছে এ দুটি প্রকল্পে প্রতিবছর প্রায় ৮০ লাখ টন কয়লার জোগান দিতে হবে। বাংলাদেশ কোল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির চুক্তিও করেছে। চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম জাহাজ পায়রা বন্দরে কয়লা নিয়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে সরকার। এ ছাড়া রামপালে নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২১ সালে উৎপাদনে আসবে। মৈত্রী সুপার ১৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির জন্য কয়লা আমদানির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াটের একটি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে উৎপাদনে আসবে। এ প্রকল্পটির জন্যও বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি করতে হবে। এ ছাড়া রুরাল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (আরপিসিএল) পটুয়াখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটির জন্য অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর যৌথভাবে ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এটি ২০২৯ সালে উৎপাদনে আসবে। এ প্রকল্পের জন্য কয়লা আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, দেশে নিজস্ব জ্বালানির সোর্স ফুরিয়ে আসছে। নতুন করে গ্যাস উত্তোলনে কাক্সিক্ষত সাফল্য নেই। আমাদের নিজস্ব কয়লাখনি থেকেও নানা জটিলতায় কয়লা উত্তোলন করা যাচ্ছে না। ফলে আমদানি করে জ্বালানির চাহিদা না মিটিয়ে উপায় নেই। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থনীতির গতি সচল রাখতে হলে আমদানি করেও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে হবে। এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের যে জনসম্পদ রয়েছে শিল্পায়নের মাধ্যমে সেটা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুত উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। কিন্তু আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছিÑ এমন ভাবনা থেকে বসে থাকলে ক্রমশ দারিদ্র্যের দিকে যেতে থাকবে জনগোষ্ঠী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT