রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

যে কোনো সময় গ্রেফতার

গোয়েন্দাজালে সম্রাট

অপেক্ষা করুন, যা ঘটবে দেখবেন - সম্রাট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন

প্রকাশিত : ০৬:৩৮ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২৭৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গোয়েন্দাজালে আটকা পড়েছেন। তার অবস্থান ঘিরে নজরদারি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দারা। তিনি যেখানে আত্মগোপন করছেন সেখান থেকেই তথ্য আসছে সংস্থাগুলোর কাছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। গ্রেফতার করে তাকে আইনের আওতায় নেয়া হবে। এদিকে তিনি গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দায়িত্বশীল একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সম্রাটের গ্রেফতারের বিষয়ে শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখবেন, আপনারা শিগগিরই দেখবেন। আপনারা অনেক কিছু বলছেন, আমরা যেটা বলছি ‘সম্রাট’ হোক আর যেই হোক অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনব। আমি এটা এখনও বলছি, সম্রাট বলে কথা না, যে কেউ আইনের আওতায় আসবে। আপনারা সময় হলেই দেখবেন।’

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সম্রাটের ওপর নজরদারি শুরু করে। যুবলীগ অফিস থেকে বের হওয়ার পর প্রথমদিকে তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি থাকলেও গত কয়েক দিন একাই ঠিকানা বদল করেছেন। প্রভাবশালী নেতার বাসায় তিনি একাই গেছেন। ঘনিষ্ঠ কাউকে কিছুই জানতে দেননি। এত কিছুর পরও তিনি গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি। যখন যেখানে অবস্থান করেছেন সেখানের সব তথ্য চলে এসেছে সংস্থাগুলোর হাতে। বিশেষ করে গত তিন-চার দিন ধরে সম্রাটের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আছে একাধিক সংস্থার কাছে। তিনি যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। সব মিলে অবস্থা এমন যে- তাকে গ্রেফতার করা এখন সময়ের ব্যাপার।

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ এবং জি কে শামীম গ্রেফতারের পরও সম্রাটের ধারণা ছিল তিনি গ্রেফতার হবেন না। তাকে কেউ স্পর্শ করবেন না। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার এড়াতে পারবেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে যুবলীগ দক্ষিণের কাকরাইলের কার্যালয়ে কয়েকদিন অবস্থান করেন। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ছদ্মবেশে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি খুব বেশিদূর যেতে পারেননি। একাধিকবার ঠিকানা বদল করে তিনি রাজধানীর অভিজাত এলাকায় প্রভাবশালী এক নেতার বাসায় আশ্রয় নেন। গ্রেফতারে বিলম্বের কারণেই সম্রাট বারবার অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন। তার ঠিকানা বদলের বিষয়টিও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি দেখে সম্রাটও মোটামুটি নিশ্চিত যে তিনি গ্রেফতার হবেন। কাজেই যেকোনোভাবে গ্রেফতার এড়াতে সব ধরনের চেষ্টা করেছেন তিনি। তদবির করছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী অনেক নেতার কাছে। কিন্তু এ সময়ে কেউ তার পাশে দাঁড়াতে চাচ্ছেন না। অধিকাংশই এড়িয়ে চলছেন। তার ফোনও ধরছেন না। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিযানের বিষয়ে রয়েছেন কঠোর অবস্থানে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমের সামনে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনের এ অভিযান নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা বলছেন। এজন্য সম্রাটের পক্ষে কেউ তদবির করার ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

সূত্রটির দাবি, সম্রাট অসুস্থতার অজুহাতে দেশ ছাড়ার পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু এখন তার বৈধপথে বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরই মধ্যে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের অভিযানে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতেই যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতার হন। ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন জি কে শামীম। এদের জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটই ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো পরিচালনার মূল ব্যক্তি। তার হাত ধরেই ঢাকায় ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বিস্তারিত ঘটে। সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য তিনি ঘনিষ্ঠদের দায়িত্ব দেন। তারা আস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে নিয়মিত অর্থ তুলে দিতেন সম্রাটের হাতে। এ অর্থের বড় একটি অংশ ভাগ হয়ে বিভিন্ন হাতে চলে গেছে। বাকি অংশ গেছে নিজের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে।

এছাড়া টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে। এ ধরনের বিষয় জানতে পেরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার হিসাব স্থগিত করে। এরপর থেকে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তার হিসাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিকভাবে তার বিভিন্ন হিসাবে বিপুল অংকের অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি কীভাবে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে গোয়েন্দা ইউনিট। ক্যাসিনোতে বেশ কিছু কয়েন পাওয়া গেছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক মানের। এসব কয়েনের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে কিনা- তাও খতিয়ে দেখছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT