রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ পটুয়াখালীতে ভারি বর্ষনে জনজীবন বিপর্যস্ত, ক্ষতি হতে পারে আমনের ◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ

গুজবের টার্গেট এবার বাংলাদেশ ব্যাংক!

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২৪১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কিছুদিন পরপরই দেশে এক একটা বিষয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে গুজব। নির্দিষ্ট কোনো তথ্য ছাড়াই এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে ঘটেছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। সর্বশেষ পদ্মা সেতুর জন্য মাথা সংগ্রহের নামে ‘ছেলে ধরা’ গুজব ছড়িয়ে সারা দেশে বেশ কয়েকজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে একটি মহল। বিশেষ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব গুজব ডালপালা মেলছে।

তবে এসব গুজবের বিষয়ে কান না দিতে বারবারই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল গুজব ছড়ায় যে, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বহুল প্রচারিত একটি দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি গুটিকয়েক তথাকথিত সংবাদ মাধ্যমেও এটা প্রকাশ করা হয়।

এই গুজব এমন একটা সময়ে ছড়ানো হয়, যখন দেশে ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযান চলছে এবং বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হচ্ছে। এর সঙ্গে অনেকে ভারতের মোদি সরকারের নোট বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে। ফলে এই গুজবকে অনেকেই সত্য বলে মনে করতে শুরু করে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমানও ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের খবর সত্য নয় বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে। কেননা, কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়, সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই হোক না কেন। আর রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রিপোর্ট করার আগে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। গুজব বা ভাসা ভাসা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কিছু সংবাদমাধ্যমে ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট বাতিলের বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা খবর ছাপানো হয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যার ফলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে। ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট বাতিলের কোনো চিন্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

একই সময়ে বগুড়ায় টুকরা করা টাকার স্তূপ নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বাজারে ছেঁড়া, ফাটা, কাটা টাকা যেগুলো অচল হয়ে যায়, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিনষ্ট করে ফেলে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখা পরিত্যক্ত টাকাগুলো টুকরো টুকরো করে বিনষ্ট করে ফেলে দেয়। কিন্তু একটি মহল ওই টুকরো টাকার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এটা নিয়েও নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল নোট পুড়িয়ে ধ্বংসের কাজ সীমিত করে তা বিনষ্টকরণে শ্রেডেড পদ্ধতি (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরায় পরিণত করা) অনুসরণ করছে। বাতিল নোটের শ্রেডেড ও পাঞ্চডকৃত ছোট ছোট টুকরা আবর্জনা হিসেবে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মাধ্যমে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সিদ্ধান্তটি চলতি বছরের ৩০ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানানোর জন্য সব ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাতিল করা নোটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রেডেড টুকরাগুলো সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফেলার কথা।

কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর বগুড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের বাতিল করা নোটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রেডেড টুকরা পৌরসভার আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থানে না ফেলে অন্য জায়গায় ফেলেছে, যা বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল নোটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরার (শ্রেডেড ও পাঞ্চড) কোনো ব্যবহারিক কিংবা বিনিময়মূল্য নেই। তাই এ নিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত ১০০ টাকার একটি নোটের ছবি ঘুরতে দেখা যায়। তখনও বাংলাদেশ ব্যাংক এই নোটের বিষয়টি ভুয়া বলে জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়, শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত কোনো নোট তারা ছাড়েনি। এ ধরনের নোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্তও নেই তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, একটি মহল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের গুজব ছড়ায়। এসব গুজবে কান না দিয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে সেটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাদের খুঁজে বের করে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত পদক্ষেপ নিলে, গুজব সৃষ্টিকারীরা কিছুটা হলেও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT