রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:৩৭ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধামইরহাটে সোনার বাংলা সংগীত নিকেতনের বার্ষিক বনভোজন ◈ ধামইরহাটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ◈ পত্নীতলায় করোনা সচেতনতায় নারীদের পাশে তথ্য আপা ◈ ফুলবাড়ীয়া ২ টাকার খাবার ও মাস্ক বিতরণ ◈ কাতারে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের দোয়া মাহফিল ◈ হাসিবুর রহমান স্বপন এমপির রোগ মুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ◈ দৈনিক আলোকিত সকালের ষ্টাফ রিপোর্টার আশাহীদ আলী আশার ৪৩তম জন্মদিন পালিত ◈ সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফুটবলার রফিকুল ইসলাম স্মরণে দোয়া ও মিলাদ আজ ◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয়

গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করছে ক্যাসিনোর সুবিধাভোগীরা

প্রকাশিত : ০৬:১৩ AM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Thursday ২৮০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযানের আগে থেকেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। এই তদন্ত শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগই নয়, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা, এমনকী মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরও ক্যাসিনো জুয়ার ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ক্যাসিনো জুয়ার বোর্ডের গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ মাহমুদ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ-সাংবাদিকসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো জুয়ার বোর্ডের টাকার ভাগ নেয়ার বিষয়ে তদন্ত করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং তার নিজস্ব টিম এই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় র্যাবের অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনাম ও তার ভাই রুপনের বাড়িসহ তিন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমেই এই টাকা উপার্জন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

দৈনিক আমার সংবাদে গতকাল ‘৮ বছরে ৩০ বাড়িসহ হাজার কোটি টাকার মালিক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। স্থানীয়রা গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকার হকারদের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে বিলি করেছেন। আর এনাম ও তার ভাইয়ের অন্যতম সহযোগীরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সিরাজ উদ্দিন ওরফে লালা, হানিফ, নুর হোসেন, প্রদীপ কুমার, আমিন, সাইজউদ্দিন অন্যতম। এদের মধ্যে এনাম ও রুপন তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রতিদিন এক হাজার করে টাকা দিতেন। এছাড়াও প্রতিমাসে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতেন। ঈদের সময়ও এককালীন মোটা অংকের টাকা তাদের দেয়া হতো। সোমবার দিবাগত রাতে র্যাবের অভিযানের পর তারা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া, রাজধানীতে ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযানের পর চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে গত পাঁচ বছরে ক্লাবটির মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামছুল হক চৌধুরী ১৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন বলে সাইফ আমিন নামের একজন পুলিশ পরিদর্শক অভিযোগ করেছেন। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক ওয়ালে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি এক সময় হালিশহর থানা, চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের হাজতখানাসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘ক্যাসিনো, ফ্লাশ, হাউজি, হাজারি, কাইট, পয়সা (চাঁন তারা) এগুলো আবহমান কাল থেকেই মহানগর ও জেলা সদরের বিনা ঝামেলায় ওসিদের মোটা টাকা পাওয়ার পথ। মহানগরের ফ্ল্যাটকেন্দ্রিক দেহব্যবসা, ম্যাসেজ পার্লারগুলো ওসি সাহেবদের ২য় ইনকাম জেনারেটিং এসিসট্যান্স করে, থানার ক্যাশিয়ার কালেকশন করে ওসির প্রতিনিধি হিসেবে। ক্লাবপাড়ার ওসিরা এই দুই খাত থেকে দৈনিক পাঁচ লাখ টাকা করে নিলেও মাসে সেটা দেড় কোটিতে পৌঁছায়।

এরপর আছে থানার সিভিল টিম, সিয়েরা ডে-নাইট, লিমা ডে-নাইট, গল্ফ ডে-নাইট। এরপর ডিবি। ডিবি একসঙ্গে নেয় না, তালিকা অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করা হয়। প্রত মাসেই স্ব স্ব ইউনিট থেকে কর্মরত অফিসারদের তালিকা আপডেট করে হাউজগুলোতে পাঠানো হয়। আর মফস্বলের ওসিরা চায় সারা বছর মেলা। মেলা মানে ধামাকা ধামাকা নৃত্য, জুয়া, হাউজি, ওয়ান-টেন আর ডাব্বা খেলা।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘মেনন সাহেব একটির চেয়ার অলঙ্কৃত করেছেন। দোষের কিছু নাই। রাজনীতি বলে নকশালীরা টাকশালি। অর্থাৎ টাকশালের মালিক তারা হন।’

চট্টগ্রামের শামসুল হক মাস্টারকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার হিসাবে তিনি ৫ বছর যাবত চট্টগ্রাম আবাহনীর জুয়ার বোর্ডের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক এবং গডফাদার। দৈনিক সর্বনিম্ন ১০ লাখ করে নিলেও গত ৫ বছরে শুধু জুয়া থেকেই ১৮০ কোটি টাকা নিয়েছেন। ক্লাবটি হালিশহর থানায়, এমপি সাহেব ওসির জন্য মাসে হাজার দশেক টাকা পাঠান তথাকথিত যুবলীগ নেতার মাধ্যমে।’

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭ জন এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার পরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হতে পারে। এই ২৭ এমপির মধ্যে রাজধানী ঢাকার তিনজনের নাম রয়েছে।

এই তিনজন এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির জমি দখল, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দান, ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আর ১৪ জনের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জের। আর অন্যরা হলেন— চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, কুমিল্লা ও রাজশাহী এলাকা থেকে নির্বাচিত। এদেরকে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

আরেক সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার আরামবাগ-ফকিরাপুলের ক্যাসিনো পাড়া থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার উপরে আয় ছিল। এ নিয়ে এখন পুলিশের মধ্যেই কানাঘুষা চলছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই ক্লাবটির সভাপতি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ক্লাব থেকে ১৪২ জন নারী ও পুরুষকে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দিন রাতেই ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও বনানীস্থ গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্যাসিনোতে অভিযান চালান র্যাব সদস্যরা। এরপর গত রোববার আরামবাগ, মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, দিলকুশা ও বাড্ডার ইস্টওয়েস্ট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এসব ক্লাব থেকে জুয়া ও ক্যাসিনোর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের সদস্যরাই নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার জ্ঞাতেই এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে আসছিল। এমনকী অনেকের বিরুদ্ধেই এই অনৈতিক স্থান থেকে নিয়মিত বখরা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যাসিনোর জুয়ার আসরের নিয়ন্ত্রণ ও টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যেমন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তেমনি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও আতঙ্কে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাদের নাম ফাঁস করা হতে পারে। আর মহানগর পুলিশের সাবেক ওই কর্তার নির্দেশে পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা ক্যাসিনো ও ক্লাবগুলোর জুয়ার বোর্ড পাহারা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT