রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৪ জুন ২০২১, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৯:১৪ অপরাহ্ণ

গাছেরও প্রাণ আছে কিন্তু তা ভুলে গিয়ে অনেক ব্যক্তি গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগায়

প্রকাশিত : ০৬:৪৫ PM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ৩৭০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আজকাল প্রায় লক্ষ্য করা যায় রাস্তার পাশে বিভিন্ন নামি দামি লোকের বা পেশার মানুষের নাম পদবী খোচিত সাইনর্বোড লোহার পেরেক দিয়ে বসানো বা আটকানো গাছের শরিরে থাকে।

গাছকে এভাবে আঘাত করা নেহাতী সেটা ঠিক কিনা আমার জানা নেই তবে জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করেন ও গবেষনা করেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছন এটা ঠিক না । গাছ এবং মানুষ একে অপরের উপর র্নিভরশীল গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে মানুষ তা গ্রহন করে এবং মানুষ র্কাবনডাঅক্সাইড নির্গত করে তা গাছ গ্রহন করে । তাই গাছ না বাচঁলে মানুষ বাচঁবে না ।

উপজেলা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন ছোট বড় গাছে একাধিক সাইনর্বোড আটকানো । প্রকৃতির শোভা বর্ধনেই নয় গাছ আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। গাছ থেকে যে পরিমাণ অক্সিজেন আমরা গ্রহণ করি ঠিক সেই পরিমাণ মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নেয় গাছ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের আয়তন ও জনসংখ্যানুপাতে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ৮-১০ ভাগ বনভূমি। মানুষের প্রয়োজনে গাছের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অক্সিজেন তৈরি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি থেকে আমাদের রক্ষা করে।

বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম দৃশ্যে পরিণত করে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে আরও প্রখর করে। শুধু কি তাই— গাছ আমাদের ফল দেয়, ছায়া দেয়, জীবন রক্ষায় ওষুধ দেয়, গাছের কাঠ দিয়ে আমরা ঘরের শোভা বর্ধনে এবং ব্যবহারে প্রয়োজনে আসবাবপত্র তৈরি করতে পারি। অভাব ও বিপদে টাকার জোগান দেয়।

আগেরকার আমলে আমরা দেখেছি বাড়ির চারদিকে বিরাট আকৃতির বটবৃক্ষ ছাড়াও কড়ই, তাল, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু প্রভৃতি গাছ। কিন্তু মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সেই সব বড় বড় গাছ কেটে ফেলছে। একশ্রেণির বৃক্ষ নিধনকারীর হাত থেকে গাছ যেন কোনোভাবেই রক্ষা পাচ্ছে না। ইটের ভাটার জলন্ত আগুনে পুড়ছে আজ বৃক্ষ।

একদিকে দেশি প্রজাতির গাছগাছালি যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি ভিন্নদেশি গাছ লাগানো হচ্ছে বেশি। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর লেখাতেই প্রথম জেনেছি। গাছেরও প্রাণ আছে। নিজের যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন। আঘাত পেলে এরা কাঁদে, খুশীতে আনন্দ করে। প্রাণ থাকলে আমাদের মত মস্তিষ্কও নিশ্চয় আছে। যেখানে মনের কথা লুকিয়ে থাকে। সমগ্র অংগ-প্রত্যংগ পরিচালনার জন্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ব্রেইন) আছে।

একটি ডালা বা পাতা ছিড়লে জীব-জন্তুর রক্তের মত কষ্ বের হয়। জলের পাইপ অজৈব বস্তু। ফেটে বা কেটে গেলে একজন কারিগর মেরামত না করলে জল পড়তেই থাকে। কিন্তু জীব-জন্তুদের মস্তিষ্ক আছে।মস্তিষ্ক রক্তপড়া বন্ধের জন্য ততপর হয়ে উঠে। রক্ত জমাট বাঁধে। পড়া বন্ধ হয় আপনা থেকেই। গাছেদেরও কষ্ পড়া নিজ থেকেই বন্ধের ব্যাপার আছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষন ফেডারেশনের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটনোরী এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক জালল উদ্দিন সরদার ও পত্নীতলা জীববৈত্রি সংরক্ষন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা জানান, গাছে লোহার পেরেক দিয়ে আঘাত করে সাইন র্বোড আটকানো ঠিক না এতে জীববৈচিত্র্যও ক্ষতি হয় তাই তারা এসব সাইনর্বোড সারানোর জন্য নিজ নিজ এলাকার স্থানিয় প্রশাসনের সু দৃষ্টি কামনা করছেন ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT