রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:৩১ অপরাহ্ণ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই অসুস্থ!

প্রকাশিত : ০৮:৩১ PM, ৪ মার্চ ২০২১ বৃহস্পতিবার ৪৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, স্টাফ রিপোর্টার :

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এতে এ এলাকার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা গেছে, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। প্রসবজনিত সমস্যাসহ অপারেশনের রোগীদের শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেলসহ বাহিরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসা কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইসিজি মেশিন না থাকায় হার্টের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে হতদরিদ্র, বিত্তহীন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের রোগীসাধারণ আর্থিক সংকটসহ সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ যেনো হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ হয়ে পরে আছে।

সূত্র থেকে জানা যায়, ১০ টি চিকিৎসক পদের মধ্যে পাঁচটিই শূন্য। মেডিসিন, এ্যানেসথেসিয়া, শিশু, সার্জারি, গাইনী পদগুলো শূন্য থাকায় রোগী চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ ডাক্তার ও এসএসএমওগণ কোনোমতে রোগীদের সেবা দেয়ার কাজ চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সাতটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে নেই মেডিকেল অফিসার, চারটিতে নেই উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, পাঁচটিতে নেই ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক নেই তিনটিতে।

এছাড়াও, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ৮৫টি পদ থাকলেও ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ইউনিয়ন সহকারী মেডিকেল অফিসার আটটি পদ থাকলেও আটটি পদই খালি আছে। হাসপাতালের জনবল সংকটে সেগুলোতে কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৯ লাখ লোকের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যা থেকে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবলসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করায় অন্তহীন সমস্যায় চিকিৎসাসেবা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের ভিড়। এ সময় ডাক্তার ও এসএসএমওদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এখানে শুধুমাত্র বহিঃর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দুইশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। করোনার প্রতিরোধে প্রায় দৈনিক একশজন টিকা গ্রহণ করেন। তাছাড়া, ৫০ থেকে ৬০ জন মা ও শিশু ভ্যাকসিন সেবা নিয়ে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, চিকিৎসকসহ জনবল এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। চিকিসৎসক ও জনবলসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি সহসা এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে আমরা সঠিকভাবে রোগী সাধারণকে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবো।

গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আ.ম আখতারুজ্জামান বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুরো জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অনেক পদ খালি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় পদগুলো পূরণে একটু সময় লাগবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT