রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:৩৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

গল্প : আরও খেল ক্রিকেট!

প্রকাশিত : ০১:১২ AM, ২৭ জুন ২০২১ রবিবার ১৭০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আরও খেল ক্রিকেট!
আরাফাত আহমেদ রিফাত

অতিরিক্ত গরমের জন্য ছুটি চেয়ে আবেদন!
জৈষ্ঠ্যের শরীর সেদ্ধ করা গরমের মধ্যে স্কুলে ক্লাস চলছে। ফ্যানটাও ঘুরছে মন্থর গতিতে। এমনিতেই গরম তার উপর টিনের ক্লাস রুম। ঘেমে একদম শার্ট ভিজে যাচ্ছে। রিয়াজ স্যারের বোরিং ক্লাস। আমি, মনির আর নয়ন পেছনের বেঞ্চে বসে বসে দোয়া করতেছি কারেন্টটা যেন চলে যায়। দোয়া কবুল হলো। রিয়াজ স্যারের ক্লাস শেষ না হতেই কারেন্ট চলে গেল এবং সাথে সাথেই সবাই আমার দিকে তাকাল। এমন চাহনির অর্থ হেডস্যারের কাছথেকে ছুটি আনতে হবে, কারণ আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন। আগে থেকে লিখে রাখা রেডিমেড দরখাস্তে শুধু আজকের তারিখ বসালাম। সিয়ামকে দরখাস্ত ধরিয়ে দিয়ে বললাম উলটো পেইজে সব ক্লাস ক্যাপ্টেনদের স্বাক্ষর আনতে। গণস্বাক্ষর যাকে বলে। এই কাজটা সিয়াম ভালোই পারে।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে স্বাক্ষর জোগাড় করে এনেছে সিয়াম। দরখাস্ত নিয়ে একটা একটা পা ফেলে স্যারের রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর একটা অদৃশ্য ভয় আমাকে জড়িয়ে ধরছে। হেডস্যারকেই সবচেয়ে বেশি ভয়পাই আমি। শুধু আমি কেন, স্কুলের সবাই ভয়পায়। খুব একটা প্রয়োজন না হলে এই মানুষটার সামনে আসতে চায়না কেউ। সাহসের যোগান দেওয়ার জন্য নয়নকে সাথে নিয়েছি। নয়ন একবার বলল, ‘রিফাত, আয় সহকারী হেডস্যারের কাছে দরখাস্ত দেই।’
আমি বললাম, ‘আরে না, তাহলে স্যার ছুটি দিবো না!’
হেডস্যার ল্যাপটপে কাজ করছিল।
‘স্যার, আসতে পারি?’
‘আস!’
রুমে ঢুকতেই অদৃশ্য ভয়টা যেন আমাকে জাপটে ধরল।
‘বলো রিফাত, কী হয়েছে?’ স্যার আমাকে ছোট থেকেই খুব স্নেহ করতেন। কখনো আমাকে ‘তুই’ বলে ডাকেনি।
‘স্যার, প্রচন্ড গরম আর কারেন্টও নেই, জেনারেটরটাও নষ্ট। ক্লাস করতে পারছি না।’
‘গরমের দিনে তো গরম লাগবেই।’ তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, ‘যাও, ক্লাসে যাও।’
আমি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। সকলেই নিশ্চিত ছিল স্যার ছুটি দিবেন। কারণ আমি যতদিন দরখাস্ত দিয়েছি ততদিনই স্যার ছুটি দিয়েছেন। কিন্তু এবার আমার মধ্যে একটা খটকা ছিল, স্যার ছুটি দেবেন কি না! অবশেষে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি, মিনিট দশেক পরই সামিউল ভাই ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটির সংকেত দিল।
‘এই, সবাই রাস্তায় গিয়ে দাঁড়া।’ নয়ন আর সিয়ামকে ব্যাট, বল, স্ট্যাম্প আনতে পাঠালাম। চিনির খোঁজ পাওয়া পিঁপড়ার মতো সবাই লাইন ধরে যেতে লাগলাম হাসানের ধানের খোলায়। প্রথমে স্টেডিয়ামেই যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই কাঠফাটা রোদে এতদূর কেউ যেতে চাইল না।
মেইন রোডের পাশেই হাসানের খোলা। রোদের তাপে পা পুড়ে যাওয়ার অবস্থা, কিন্তু সেদিকে কারও নজর নেই। ক্রিকেট খেলা বলে কথা! ব্যাট, বল, স্ট্যাম্প চলে এসেছে। দুটো টিম করে খেলা শুরু করে দিলাম।
টসে জিতে আমি ব্যাটিং নিলাম। আমি আর বাপ্পি ওপেনিংয়ে। কোথাও ছায়া নেই। মনিরকে আম্পায়ার দাঁড় করিয়ে ব্যাটিং টিমের সবাই গিয়ে বসল মেইন রোডের ধারে। সিয়াম উঠে বসল রাস্তার ধারে দাঁড়ায়ে থাকা বালুভর্তি ট্রাকে। পাশেই ট্রাক মালিক সমিতির অফিস। ড্রাইভাররা এখানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে সেখানে গিয়ে কাগজপত্র দেখায়।
গরমে খুব বেহাল অবস্থা। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকজন গায়ের শার্ট খুলে ফেলেছি। আমি আর বাপ্পি খুব ভালোভাবেই ইনিংস শুরু করেছি। একটা করে বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি হাঁকাচ্ছি আর সিয়াম ট্রাকের উপর শার্ট খুলে নাচছে। নয়নের বলে দলীয় ৪৭ রানে আমি আউট হই। সাথে সাথেই সিয়াম ট্রাক থেকে লাফিয়ে নেমে দৌড়ে আসে ব্যাটিং করতে। কিন্তু আমি সিয়ামকে ব্যাট না দিয়ে মনিরকে ব্যাট দেই।
সিয়াম রেগে আবার ট্রাকের দিকে যেতে লাগল। সাব্বির সিয়ামকে খোঁচা মেটে বলল, ‘কিরে ব্যাটিংয়ে নামবি না? আয়, ব্যাটিং কর!’
এতে সিয়ামের রাগ আরও বেড়ে গেল যেন ডিজেল শেষ হয়ে ধুকতে ধুকতে চলা ইঞ্জিনে কেউ ডিজেল ভরে দিয়েছে। এমন সময় ট্রাকটাও চলে যায়। রাগের মাথায় ট্রাকের দিকে একটা ঢিল ছুড়ে বলে, ‘শালার ট্রাক, একটু বইছিলাম তাও গেলিগা!’
সেই ম্যাচে সিয়াম আর ব্যাটিং করেনি। এরপর যখন আরেকটি ম্যাচ শুরু করেছি তখন সিয়ামকে ওপেনিংয়ে খেলিয়েছি। প্রথম বলেই একটা ছয় হাঁকিয়ে বুক ফুলিয়ে রাখে। পরবর্তী বলে আরও একটা ছয় হাঁকিয়ে বল হারিয়ে ফেলে। আমরা মোটামুটি ঘণ্টাখানিক খুঁজেও বল পাইনি। আছরের আজান দেওয়ার পর বল খুঁজে না পেয়ে ফায়ারসার্ভিসের আগুন নেভানোর অভিযানের মতো ঘোষণা দিয়ে খেলা সমাপ্ত করি।
তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে সূর্য। রোদ কমে এসেছে। খুলে রাখা শার্ট পরে বাড়ি ফিরতে যাব এমন সময় শুরু হল আরেক বিপত্তি। সিয়ামের শার্ট পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বললাম, ‘সব শার্ট তো এক জায়গাতেই রাখা হয়েছিল। তাহলে যাবে কোথায়?’
কিছুক্ষণ পর সাব্বির সিয়ামকে বলল, ‘তুই তো ট্রাকে উঠে শার্ট খুলে নাচানাচি করেছিস, ট্রাকে রাখিসনি তো?’
সাব্বিরের কথা শুনে সবাই মেইন রোডের দিকে তাকালাম। কিন্তু ট্রাক তো সেই কখন চলে গেছে! তারপর সবাই মিলে যাই ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে, যদি ড্রাইভারের ফোন নাম্বার পাওয়া যায়। কিন্তু খেলনা বন্দুক দিয়ে অন্ধকারে গুলি করে হারানো পুতির মতো সিয়ামের শার্টও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরদিন স্কুলে গিয়ে জানতে পারি সহকারী হেডস্যার বাড়ি যাওয়ার পথে আমাদের খেলতে দেখে। গরমের জন্য ছুটি নিয়ে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার অপরাধে সবাইকে ক্লাসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্কুল ড্রেসের শার্ট না পরার জন্য সিয়াম বোনাস হিসেবে দুটো বেতের বাড়িও খায়।
কয়েকটা মেয়ে আমাদেরকে ক্লাসে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘আরও খেল ক্রিকেট!’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT