রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:৫১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধর্মপাশায় সুনই জলমহাল অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ◈ মাদক কারবারিদের বাড়ির সামনে ছবি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হবে—–ধামইরহাটে অপরাধ দমন সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ◈ মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের  বিরুদ্ধে পত্নীতলায় মানববন্ধন ◈ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সমাহিত হলেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতা দেওয়ান হালিমুজ্জামান ◈ ধামইরহাটে সড়ক ও জনপদের কাছে জনগণের অসন্তোষ-ক্ষোভ প্রকাশ ◈ কুড়িগ্রামে রাজাকার পূত্রের মনোনয়ন বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ◈ কালিহাতীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যডভোকেসি সভা ◈ মানিকগঞ্জে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ◈ শ্রীনগরে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিক্ষোভ মিছিল ◈ শ্রীনগরে বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১

গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে- মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ০৭:২৮ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ২২০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের অধিকার ফিরে পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হেবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

রাজশাহীতে বিভাগীয় মহাসমাবেশে এ আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের পূর্ব পাশে এ সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিএনপি দুপুর আড়াইটায় এটি শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার শেয়ার বাজার, ব্যাংক লুট করেছে। হাজার হাজার টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আর যারা এসব লুট করছে, তারাই এসব জায়গার উপদেষ্টা হচ্ছে। দেশেকে ভঙ্গুর করেছে এ সরকার। এটা চলতে পারে না।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় হবে না বলেই বিএনপি নেতাকর্মীদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের মুক্তির জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তিনি দেশের মানুষকেও শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তারেক রহমানের কাছে যায়’- তথ্যমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন দাবিকে হাস্যকর বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমাদের তথ্যমন্ত্রী খুব ক্রিয়েটিভ।

এ ধরনের অলৌকিক তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করা তার অভিনব একটি আবিষ্কার। এই আবিষ্কারের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। তবে তিনি যে ধরনের কাল্পনিক তথ্যই উপস্থাপন করুন না কেন, দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ ভালোভাবেই জানেন প্রকৃত ঘটনা কী।

মির্জা ফখরুল ক্যাসিনো নিয়ে আরও বলেন, যারা চুনোপুঁটি তাদেরই শুধু এক্ষেত্রে ধরা হয়েছে। কিন্তু যারা মূলহোতা তারা এখনও অন্তরালে রয়ে গেছেন। তিনি ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের রাঘববোয়ালদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ধারাবাহিক জুলুম, নির্যাতন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। ৩০ ডিসেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ মিথ্যা ও সাজানো মামলা করা হয়েছে।

এসব মামলায় বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা ও নির্যাতনে বিএনপির আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাজশাহীর বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক ও গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়েছে।

সমাবেশে যাতে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ অংশ নিতে না পারেন সেজন্য পথে পথে বাধা সৃষ্টি করেছে পুলিশ। বন্ধ করা হয়েছে সব ধরনের যানবাহন। এমনকি রাজশাহীমুখী ট্রেনগুলোও আশপাশের স্টেশনে আটকে রাখা হয়।

এই সমাবেশ বানচাল করতে প্রশাসন এক ধরনের অঘোষিত কারফিউ জারি করে। এরপরও বিএনপি নেতাকর্মী ও জনগণ মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন এবং সমাবেশকে সফল করেছেন। এজন্য তিনি রাজশাহী বিভাগের বিএনপি নেতাকর্মী ও রাজশাহীর মানুষকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি সারা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন, কিন্তু বাইরের পুরস্কার নিয়ে লাভ হবে না।

এসব পুরস্কারের বদলে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন। জনগণকে নির্যাতন করে আপনি তাদের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন।

সমাবেশের বিশেষ অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার পূজা উপলক্ষে ভারতকে ৫০০ টন ইলিশ উপহার দিয়েছে। অথচ সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশিদের নির্দয়ভাবে হত্যা করছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এ ভারতের তোষামোদি করেই এ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

কিন্তু এভাবে ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না। তিনি বলেন, এ সরকারকে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে কিন্তু সরকারই এক সময় পুলিশের পাশে থাকবে না। পুলিশের ওপর ভর করে ক্ষমতাতেও বেশিদিন থাকা যাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ দু’বার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। একবার পঁচাত্তরে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ, আরেকবার ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বরখাস্ত হওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাঁদাবাজি করেছেন, ঈদ সেলামির নামে তারা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে ৮৬ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা দেশের অর্থ সমানে লুটপাট করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের সতেরো কোটি মানুষই খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। শুধু শেখ হাসিনা চান না। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে একমাত্র বাধা শেখ হাসিনা। জনগণ খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। একদিন তারাই তাকে মুক্ত করবেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের পরিচালনায় মহাসমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ, হাবিবুর রহমান হাবিব, কামরুল মুনীর, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফা, জিএম সিরাজ এমপি, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

এদিকে বিএনপির এ মহাসমাবেশ উপলক্ষে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহীমুখী যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। অঘোষিতভাবে পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল দিনভর। ট্রেন চলাচলও বন্ধ ছিল দিনের বেশিরভাগ সময়।

সমাবেশে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান- রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, গোদাগাড়ী, মোহনপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। তবে সন্ধ্যার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

সকাল থেকে হঠাৎ রাজশাহী মহানগর থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে দূরপাল্লার রুটগুলোতে বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক নেতারা বলছেন, সমাবেশের কারণে হামলা ও ভাংচুর আতঙ্কে কিছু গাড়ি বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা যেন মহাসমাবেশে যোগ দিতে না পারেন সেজন্য অঘোষিতভাবে এ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। সকাল থেকে হঠাৎ অঘোষিতভাবে আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT