রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:২০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রায়পুরে উপ-নির্বাচনে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম ◈ গৌরীপুরে কলতাপাড়া শুভ্র হত্যায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ◈ গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইভাই নিহত ◈ রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক এর অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন কারিগরি শিক্ষার ফেরিওয়ালা তৌহিদ ◈ নাটোরে সুগার মিল শ্রমিকদের কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান ◈ নওগাঁয় সাংবাদিক পাভেলের পিতার রুহের মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল ◈ ধামইরহাটে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে পূনর্বাসন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ◈ নাটোরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ জন জেল হাজতে ◈ পরিসংখ্যানের প্রয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে: রাষ্ট্রপতি ◈ করোনায় প্রধানমন্ত্রী সকল সেক্টরকেই সহায়তা করছেন: তোফায়েল

ক্যাসিনো মেতে ছিল চীনের মাহজংয়ে

প্রকাশিত : ০৭:৪৪ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ১০৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

খেলাটির নাম মাহজং, জনবহুল দেশ চীনের মানুষের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। সে দেশে এটি একটি পারিবারিক ও সামাজিক খেলা। কিন্তু ক্যাসিনো কারবারিরা কৌশলে একে পুরোপুরি জুয়া বানিয়ে ফেলেছে। অনেক দেশের জুয়ার আসর এখন সরগরম করে রাখে মাহজং।

বাংলাদেশের ক্যাসিনোগুলোতেও এটির বেশ কাটতি থাকায় এর সরঞ্জাম আমদানি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্যাম্বলার বা জুয়াড়িরা। সর্বনাশা এ মাহজংয়ের সঙ্গে জড়িত জুয়াড়িদের খোঁজে এখন মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

বাংলাদেশে সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এখানে বসবাসকারী চীনের অনেক জুয়াড়ি তাদের কাছে রাখা মাহজং খেলার সরঞ্জামাদি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে চাইছেন। এ জন্য কেউ কেউ গোপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। খবর শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রের।

সূত্রমতে, মিথ্যা ঘোষণায় খেলনাসামগ্রী ছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে এসেছে ক্যাসিনোর বিভিন্ন সরঞ্জাম। এসবের বেশির ভাগই ছিল মাহজংয়ের। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কিংবা কৌশলে মূল তথ্যাদি গোপন রেখে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানিকারী ২০টি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা

গেছে, চিহ্নিত ২০টির মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানই আমদানি করেছে মাহজং গেম চালনার ম্যানুয়াল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ক্যাসিনোসামগ্রী আমদানির বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের শুনানির মুখোমুখি হয়েছেন। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শুনানির জন্য ইতোমধ্যে তলব করা হয়েছে।

ক্যাসিনোসামগ্রী আমদানিতে জড়িত যে ২০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে, তার একটি বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ। গতকাল রবিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে প্রতিষ্ঠানটির ‘নিজস্ব মোবাইল ফোন’ তৈরির কারখানার গুদাম থেকে মাহজং ক্যাসিনো বোর্ড ও এটি চালনার বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শামীমা আক্তারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে শামীমা আক্তার আমাদের সময়কে জানান, বাংলাদেশে বেশকিছু ক্যাসিনোসামগ্রী (মাহজং গেমের) আমদানির বিষয়টি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নজরে এসেছে। বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ মিথ্যা ঘোষণায় মোবাইল ফোন কারখানার কাঁচামালের সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এ ক্যাসিনোসামগ্রী চীন থেকে আমদানি করেছিল। তিনি জানান, মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামাল না হওয়া সত্ত্বেও আমদানিকালে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কর অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রতীয়মান। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরেই চীনা মালিকানাধীন বেস্ট টাইকুনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে শুনানিতে উপস্থিত হন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সাফাই পেশ করার পর এদিন বিকালেই এর কারখানাতে চালানো হয় অভিযান। ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি কমলাপুরের আইসিডি থেকে ২২০ কেজি ওজনের ক্যাসিনো ওঅর গেমটেবিল আনে ১৯ উত্তর কমলাপুরের পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ। এসব পণ্য খালাস করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেত্রাবতী ট্রেড সিন্ডিকেট।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তলবে পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার তাপস জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি কমলাপুরের আইসিডি থেকে খালাস করা ক্যাসিনো ওঅর গেমটেবিল তার অজ্ঞাতসারে আনা হয়েছে। ক্রীড়াসামগ্রীর কথা বলে কমলাপুরের সোহাইলা এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেল ক্যাসিনোর এসব সরঞ্জাম আনেন এ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে। তাপস জানান, সোহেলের নিজস্ব লাইসেন্স না থাকায় তার মালামালের সঙ্গে এসব পণ্য আনার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। পরে এ মাল খালাস করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেত্রাবতী ট্রেড সিন্ডিকেট।

গতকাল রবিবার অভিযুক্ত সোহাইলা এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেলকেও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় নানা অসংলগ্ন তথ্য দেন তিনি। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের তিনি জানান, গত বছর অচেনা হিন্দিভাষী দুই নেপালির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নেপালিরা তার কাছে ক্যাসিনো ওঅর গেমসামগ্রী কোথায় পাওয়া যায়, জানতে চাইলে তাদের গুলিস্তানের খেলাধুলাসামগ্রীর দোকানে নিয়ে যান সোহেল। সেখানে না পেয়ে এ ক্যাসিনোসামগ্রী কীভাবে আনা যায়, জানতে চাইলে নেপালিদের কমলাপুরের পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজে নিয়ে যান তিনি। এর পর সবার যোগসাজশেই আনা হয় এসব সামগ্রী। সোহেল কখনো বলছেন, চালানটি থেকে তার আয় হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা, কখনো বলছেন ৭০ হাজার। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে।
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণাসহ বিভিন্ন কৌশলে ২০টি আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে আসা ক্যাসিনোর সরঞ্জাম চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ এএম ইসলাম অ্যান্ড সন্স, ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ, বি পেপার মিলস লিমিটেড, এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, জাহিন ইন্টেরিয়র কম্পোন্যান্ট, এমএস চৌধুরী ট্রেডার্স, অ্যালাইড রক ইন্টারন্যাশনাল, এমএস বিবি ইন্টারন্যাশনাল, এভারগ্রিন প্রডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লি., নিউ হোপ এগ্রাটেস বাংলাদেশ লি., মুন ট্রেডিং করপোরেশন, রেডিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, সোলজার গিয়ারস, চায়না হোটেল সুইপলি, জান্নাত ট্রেডিং, সিক্স সি করপোরেশন, এমএস এমআর ইন্টারন্যাশনাল ও ডংজিন লংজারভিটি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আনা ক্যাসিনোর মালামাল যেসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খালাস করে সেগুলো হলো-কাউসার কার্গো কমপ্লেক্স লি., আয়শা ট্রেডিং এজেন্সি, বেত্রাবতী ট্রেড সিন্ডিকেট, প্রান্তিক প্লাস লি., মিতালী, সাদ ইন্টারপ্রাইজ, অজান্তা এন্টারপ্রাইজ, এমএস কামাল এন্টারপ্রাইজ, সুরিয়া এন্টারপ্রাইজ, এমএন ট্রেড কিং, এসঅ্যান্ডএস এজেন্সি, ক্রিস্টাল কার্গো কমপ্লেক্স, এমএন ট্রেড কিং, এমএম ট্রেডার্স, অন্যান্য ট্রেডিং, জেমস ইন্টারন্যাশনাল, মমতা ট্রেডিং কং লি., আকাশ করপোরেশন, এমএস আগামী এন্টারপ্রাইজ ও মাহাবুব ট্রেডিং করপোরেশন। ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করা ২০ প্রতিষ্ঠান এবং ২০ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসংশ্লিষ্টরা নজরদারিতে রয়েছেন। ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গত ১০ বছরের বাংলাদেশে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আনার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খুঁজে পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় ক্যাসিনোসামগ্রী আনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে মাঠে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে খেলনার সামগ্রীর দোহাই দিয়েই শুধু নয়; জুতা, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ কিংবা ফার্নিচারের আড়ালে আমদানি হয়েছে বিপুল ক্যাসিনো সরঞ্জাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানিনীতির সুযোগ নিয়ে মাহজং গেমের সামগ্রী, রোলেট গেম টেবিল, পোকার, ক্যাসিনো ওঅর গেম, টেবিল, চিপস ইত্যাদি সরঞ্জাম রয়েছে এ তালিকায়। জুয়ার কাজে লাগানো প্রতিটি মেশিন ও সরঞ্জামের মধ্যে কোনোটি এক লাখ টাকা দামের, কোনোটির দাম আবার ৩ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণায় কোটি কোটি টাকার শুল্ক-করও ফাঁকি দিয়েছে আমদানিকারকরা।

এ আমদানিকারকদের মধ্যে ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর এএম ইসলাম অ্যান্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউস হয়ে একটি বড় চালান ছাড় করায়। কিন্তু গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার্ড আনা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা কাস্টমস হাউস হয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটারের মাদার বোর্ডের নামে, এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্টে জন্মদিনের সরঞ্জামের নামে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বি পেপার মিলস লিমিটেড ফার্নিচারের নামে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করে বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT