রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

ক্যাসিনোর এইসব দিনরাত্রি

প্রকাশিত : ০৬:১৪ AM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Thursday ২৪৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। মন্ত্রীপাড়া, সচিবালয় থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান সবখানেই সরগরম এ অভিযানবিষয়ক খবরাখবরে। রাজনীতির মাঠও গরম হয়ে উঠেছে ক্যাসিনো নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে। এরই মধ্যে এ অভিযান এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এ সময় র‌্যাব-পুলিশ মোট ২৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এ সব অভিযানে যুবলীগ, কৃষকলীগের ডাকসাইটে নেতাসহ গ্রেফতার হয়েছে ২২৫ জনের বেশি অপরাধী, অস্ত্র-মদ-ইয়াবাসহ উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের এইসব দিনরাত্রিতে চলমান অভিযান যেমন ব্যাপকভাবে সাধুবাদ পেয়েছে আবার তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নও।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, অভিযুক্তদের দমন করা হবে। ওই সভাতে চাঁদাবাজি ও জাবির উন্নয়নকর্ম থেকে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেন।

যুবলীগের নেতাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, শোভন-রাব্বানীর চেয়েও তারা খারাপ। প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার চারদিনের মাথায় গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান দিয়ে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যুবলীগের শত শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের সাম্রাজ্যে হানা হয় আঘাত।

এর পরদিন (১৯ আগস্ট) গণভবনে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। সমাজের সব অসংগতি দূর করব। অপরাধ, অনাচার রোধে যা যা করার করা হবে। যাকে যাকে ধরা দরকার, তাদের ধরা হবে। জানি, কাজটা কঠিন, বাধা আসবেই, কিন্তু জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফেরাতে সরকার তা করবে।

গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার অবর্তমানেও চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতদিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব ১৬টি, পুলিশ ১৩টি অভিযান চালিয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১টি ক্লাব, ৪টি বার, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের চার নেতার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ক্লাবে পরিচালিত ক্যাসিনো, বার, বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭ কোটি ২৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, ৯ হাজার ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরী ডলার, ৫ লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার, জাল টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। মদ, বিয়ার, ইয়াবাসহ উদ্ধার হয়েছে মাদক। ১১টি অস্ত্র ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। যুবলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতা ও কৃষক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। এ ছাড়া মোট ২২৯ জন গ্রেফতার হয়েছে।

ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের এই সাতদিনে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বক্তব্যে। গত ১৮ আগস্ট (বুধবার) ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান যখন শুরু করেছে র‌্যাব, তখন এ অভিযানের যৌক্তিকতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৭২ বছর বয়সী যুব সংগঠনের এই নেতা।

অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বলছেন ৬০টি ক্যাসিনো আছে, ‘আপনারা ৬০ জনে কি এতদিন আঙুল চুষছিলেন? তাহলে যে ৬০ জায়গায় এই ক্যাসিনো, সেই ৬০ জায়গার থানাকে অ্যারেস্ট করা হোক। সেই ৬০ থানার যে র‌্যাব ছিল, তাদের অ্যারেস্ট করা হোক। আমাকে অ্যারেস্ট করবেন। করেন। আমি রাজনীতি করি। আপনি এরেস্ট করবেন, আমি বসে থাকব না। আপনাকেও অ্যারেস্ট হতে হবে। কারণ আপনি প্রশ্রয় দিয়েছেন।’

এর পরের দিন তিনি সুর নরম করে চলমান অভিযানকে স্বাগত জানান। তিনি এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। ফলে এটিকে তিনি শুভ উদ্যোগ হিসেবে দেখেন। সর্বশেষ গত ২০ তারিখ যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পত্রপত্রিকা দেখছেন না? সমস্ত পত্রিকা এখন ক্যাসিনোতে ভরা। এটি মিথ্যা নয়। এই পত্রিকার ইনফরমেশন যদি আমরা আগে পেতাম তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকটিভ। একের পর এক ধরছে, যারে ধরবে তাকে বহিষ্কার করব। যেই হোক না কেন, ক্যাসিনো পরিচালনায় জড়িত থাকলে তার রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না।

অভিযানের প্রথম দিন অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। তার গুলশানের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা, অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রাজধানীতে তিনি প্রায় ১৫টি ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন। র‌্যাব রাজধানীর কমলাপুরে তার টর্চার সেন্টারেরও খোঁজ পায়। রিমান্ডে নেওয়ার পর এক সময়কার ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার খালেদ তার পৃষ্ঠপোষক ও সুবিধাভোগীদের নাম বলে দেন। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নাম আসে, তাতে বিব্রত হন ডিএমপি কমিশনার।

খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে ঢাকায় ক্যাসিনো বাণিজ্যের গডফাদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ঢাকায় ক্যাসিনো চালুর একচ্ছত্র সম্রাট যুবলীগের এই নেতা। যুবলীগে তার প্রভাব প্রতিপত্তির মূলেই ক্যাসিনো থেকে আসা কোটি কোটি কাঁচা টাকা। প্রথমদিনের অভিযানে ইয়ংমেন্স, ওয়ান্ডারার্স, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন লায়ন্স ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। চারটিতেই মেলে ক্যাসিনো। সেগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়।

বুধবার রাতে যখন ক্যাসিনো অভিযান নিয়ে চারদিকে তোলপাড় চলছে সে সময়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন বেসামরিক গেয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা। তার সঙ্গে ছিলেন দুজন পুলিশ। ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন নেপালি জুয়াড়িরা। গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় পালিয়ে যান তারা।

১৯ সেপ্টেম্বর রিমান্ডে নেওয়া হয় যুবলীগ নেতা খালেদকে।
একদিন অভিযান বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর আবার শুরু হয় অভিযান। এবার যুবলীগ নেতা ও টেন্ডার মোগল জি কে শামীম। প্রথমে সাত অস্ত্রধারী দেহরক্ষী আটক। এরপর নিকেতনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান। তার অফিস থেকে নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের কাগজপত্র, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

যুবদল থেকে যুবলীগ নেতা বনে যাওয়া শামীমের জীবনযাপন ছিল গডফাদারের মতো। সঙ্গে সব সময় থাকত ছয় দেহরক্ষী। সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে চলত তার গাড়িবহর। মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাইকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে সব সরকারি কাজ নিজ কব্জায় নিতেন তিনি। এ ব্যাপারে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন সম্রাট।

এ দিনই রাতে রাজধানীর কলাবাগান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো সামগ্রীর সন্ধান মেলে। অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয় ক্লাবটির সভাপতি ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলমকে। একই রাতে ধানমন্ডি ক্লাবের বার সিলগালা করে দেওয়া হয়।

ক্যাসিনো ও দুর্নীতিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি আলোচিত চরিত্র ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। গ্রেফতার নেতারা বারবার তার নামই উচ্চারণ করেছেন। মিডিয়ার অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে ঘুরেফিরে নাম এসেছে তার। কিন্তু অভিযানের সাতদিনের মাথায়ও গ্রেফতার হননি সম্রাট। প্রথম কয়েক দিন সদলবলে কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে ছিলেন তিনি। গত চার দিন তিনি লাপাত্তা। বাড়ি, কার্যালয় কোথাও খোঁজ মিলছে না তার। সম্রাটের গ্রেফতার না হওয়া এ অভিযানের বড় দুর্বলতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২১ তারিখ (শনিবার) রিমান্ডে নেওয়া হয় শামীম ও শফিককে। ঢাকায় যে ২০১৭ সাল থেকে ক্যাসিনো চলছে তা জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ এমন সংবাদে সমালোচনা শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাসিনো পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। অভিযান চলবেই। এদিনে চট্টগ্রামে আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ ও ফ্রেন্ডস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সরঞ্জাম পায় পুলিশ-র‌্যাব।

এ অভিযানের পরদিন রোববার জাতীয় সংসদের হুইপ ও আবাহনী ক্লাবের মহাসচিব সামশুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষু্ণ্ন হয়েছে। কোনো ক্লাবে যদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জুয়া বা ক্যাসিনো ব্যবসা চলে তা নিশ্চিত হয়ে এবং খোঁজখবর নিয়েই অভিযান চালানো উচিত।

চট্টগ্রামে আবাহনী, মোহামেডানসহ বেশ কিছু ক্লাব আছে যেগুলো প্রিমিয়ার লিগে খেলে। এগুলো প্লেয়িং ক্লাব। নিজেদের অবসর সময় কাটাতে ক্লাবের কার্ডধারী মেম্বাররা চাঁদা দিয়ে নিজেরাই তাস খেলে। সেই টাকায় ক্লাবের পরিচালন খরচ বহন করা হয়। এভাবে অভিযান চালানো হলে ক্লাবগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ছেলেপেলেরা ছিনতাই-চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হবে। খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা তো কাম্য নয়। তাছাড়া সরকার ক্লাবগুলোকে কোনো টাকা দেয় না।

জুয়ার পক্ষে হুইপ শামসুলের এ ছাপাই সমালোচনার ঝড় তোলে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, জুয়ার মাধ্যমে শামসুল পাঁচ বছরে ১৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন।

২২ তারিখ (রোববার) অবশেষে অভিযানে শামিল পুলিশ। রাজধানীর আরামবাগ, মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া ও দিলকুশা ক্লাবে অভিযানে মেলে বিপুল পরিমাণ ক্যাসিনো সরঞ্জাম, জুয়ার বোর্ড ও মাদকদ্রব্য। জানা যায়, যুবলীগ নেতা সম্রাট, মমিনুল হক সাইদের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন নেপালি জুয়াড়িরা। কিন্তু তারা আগেই লাপাত্তা হয়ে যায়। এ দিন পুলিশ গুলশানের স্পা সেন্টারেও অভিযান চালায়।

এর পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর চারটি ক্লাব ও বারে অভিযান চালায় পুলিশ। এগুলো হলো কাকরাইলের ফিল্ম ক্লাব, গুলশানের ফুওয়াং ক্লাব, মগবাজারের পিয়াসি রেস্টুরেন্ট ও বার, বাংলামোটরের গোল্ডেন ড্রাগন বার। এ দিন সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাঁচ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এনামুল হক, তার ছোট ভাই ও একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভুঁইয়া ও তাদের বন্ধু ও কর্মচারীর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসার পাঁচটি ভল্ট থেকে পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, চার কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। থানা পর্যায়ের এ দুই নেতা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনোর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। তাদের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ক্যাসিনো থেকে আসা আয়। এ দুই ভাই রাজধানীতে ৩০টি বাড়ির মালিক।

এদিকে ক্যাসিনোকাণ্ড ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। আওয়ামী লীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে বাহাসে মেতে উঠেছেন। গত মঙ্গলবার সিলেটে বিভাগীয় সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তোপ দাগেন এই বলে যে, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের যে রোল মডেলের কথা বলে, সেটা হচ্ছে ঘরে ঘরে ক্যাসিনো।

এর প্রতিত্তোরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেন, ‘হাওয়া ভবনই ক্যাসিনোর জন্মস্থান, এটা অনেকেই জানেন। কাজেই এ প্রশ্নের জবাব প্রথমে ফখরুল সাহেবকেই দিতে হবে। মদ ও জুয়া বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই মদ জুয়ার প্রবর্তন করেছে বিএনপি সরকার। কাজেই একথা বলে লাভ নেই। এর বিরুদ্ধে বিএনপি ব্যবস্থা নিতে পারেনি, আমরা নিচ্ছি। খালেদা জিয়া যা পারেন নাই, শেখ হাসিনা তা পেরেছেন।’

কাদের-ফখরুল শুধু নন, এ বিষয়ে পরস্পরের দিকে তোপ দাগছেন দুই দলের অন্য নেতারাও। খালেদ-শামীম গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর আসে, ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির টাকার ভাগ যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়ার কাছে।

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে বলেন, ‘কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে নিউজ এসেছে, জি কে শামীম প্রতি মাসে এক কোটি টাকা করে তারেক রহমানকে দিতেন। বিএনপির অনেক নেতাকেও তিনি পয়সা দিতেন। অর্থাৎ এই যে ক্যাসিনো কালচার যারা শুরু করেছিল, তারাও নিয়মিত মাসোহারা পেত।’

গতকাল তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি লন্ডনে তারেক রহমান যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন, সেখানে ক্যাসিনো থেকেও আয় দেখানো হয়েছে। তার (তারেক রহমানের) আয়ের একটি বড় অংশ হচ্ছে ক্যাসিনো থেকে। কারণ, ইংল্যান্ডে ক্যাসিনো থেকে আয় করলে ট্যাক্স দিতে হয় না। বিএনপি ক্যাসিনো সম্রাটকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়ে রেখেছে।’

এর উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা ক্যাসিনোর টাকা যদি তারেক রহমানকে পাঠাতেনই, তাহলে সরকার তখন কী করত? সরকার কি বসে বসে আঙুল চোষে?’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার যোগাসাজশে দুর্নীতিবাজরা কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। এদের সবাইকে ধরতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ‘কালো বিড়াল’ লুকিয়ে থাকলে সমাজের ভূত-দুর্নীতিবাজদের ধ্বংস করা যাবে না এবং চলমান শুদ্ধি অভিযানও সফল হবে না বলে সতর্ক করেন সাবেক এই মন্ত্রী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT