রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

কেশরহাটের রাস্তার উপর নির্মীত অবৈধ বেলকোনি অপসারিত

প্রকাশিত : ০১:০১ AM, ২ অক্টোবর ২০১৯ Wednesday ১৬৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সুমন শান্ত,মোহনপুর প্রতিনিধি (রাজশাহী): রাজশাহী মোহনপুরে কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি মহল্লার মধ্যপাড়ায় শত বছরের পুরাতন একটি রাস্তা জবর দখল করে বাড়ি ও বেলকোনি নির্মাণ করেছিলেন গ্রামের মৃত লালমন সোনারের ছেলে রুস্তম আলী সোনার। এতে ১০ পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এবিষয় নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুস্তম আলী প্রামাণিক। স্থানীয় শালিসি বোর্ডে রাস্তার উপর থেকে বেলকোনি সরিয়ে নেয়ার রায় হলেও সেই রায় অমান্য করেন বাড়িওয়ালা।

এরপর পৌরসভায় সমঝতার দিন ধার্য্য হলে সেটিও অমান্য করেন তিনি। স্থানীয়রা বিষয়টি মোহনপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার সানওয়ার হোসেনকে অবগত করলে তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দিন ধার্য্য করে উপজেলা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জরিপ কাজ চালানো হয়। জরিপে দেখা যায় রাস্তা দখলকারি রুস্তম আলী সোনারের প্রাপ্ত জমির পরিমাণ প্রায় ০.৯৩৭ একর অথচ তিনি বাড়িসহ বেলকোনিতে দখল করে রেখেছেন প্রায় ০.১০৪৫ একর জমি। ফলে দেখা বেলকোনি ও বাড়ি দিয়ে তিনি পুরো রাস্তাটি দখল করে নিয়েছেন। জনস্বার্থে ইউএনও বেলকোনি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। বাড়িওয়ালা নির্দেশ উপেক্ষা করে কালবিলম্ব করেন। গোপনে তিনি আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
অবশেষে ইউএনওর মাধ্যমে কেশরহাট পৌরসভায় গত সোমবার পৌর সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পৌর বিচার বিভাগের সালিশি বৈঠকে মেয়র শহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে গঠিত বোর্ড বেলকোনিসহ সকল স্থাপনা ওইদিন সরিয়ে নেয়ার রায় ঘোষনা দেন।

বাড়ির মালিক এসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মেয়র এবং ইউএনওর উপস্থিততে স্থানীয়রা বেলকোনিসহ সিমানা প্রাচীর অপসারণ করে। এতে ভুক্তভুগিদের মাঝে চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে।

জানতে চাইলে সংশিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রুস্তম আলী প্রামাণিক বলেন, রাস্তা দখলকারি রুস্তম আলী সোনার ইতোপূর্বে অন্তত্ব দশটি বৈঠকে বেলকোনি সরিয়ে নিতে চাইলেও তা সরিয়ে নেয়নি। এমন কি ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশ একাধিকবার উপেক্ষা করে কাল ক্ষেপন করেছেন। জনগণকে দুর্ভোগে রেখে ভাড়াটিয়া বাহীনির প্রভাব খাটিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি সরকারের আদেশ অমান্য করেছেন। জনজগণের দুঃখ লাঘবে ইউএনও মহোদয়ের মহতি উদ্যোগেই আজ রাস্তা দখল মুক্ত হয়েছে। এর ফলে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান বলেন বাড়ি, বেলকোনি, প্রাচীর নির্মাণে পৌর প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছিল না। যে যার মতো স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সর্বপরি জনসাধরণের চরম দুর্ভোগরোধে উভয় পক্ষের সম্মতিতে পৌর বিচার বিভাগের রায়ের মাধ্যমে আইনি সহযোগিতার জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসারের সহযোগিতায় বেলকোনিসহ অন্য সকল স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের মাঝে শান্তি ফিরে পাবে বলে আশাবাদী তিনি।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার সানওয়ার হোসেন বলেন সরোজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ কাজ শেষে মানুষ চলাচলের রাস্তা দখল করে নির্মীত বেলকানি সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।বাড়ির মালিক বেলকোনি সরিয়ে না নেয়ায় জনস্বার্থে কেশরহাট পৌরসভার আওতাভুক্ত সেখানকার রাস্তার সকল অবৈধ স্থাপনা পৌরসভার মাধ্যমে মঙ্গলবার অপসারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT