রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১০ মে ২০২১, ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কুক্ষিগত সড়ক খাত!

প্রকাশিত : ০৪:২৯ AM, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার ১৫৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দীর্ঘদিনের একক আধিপত্যের সুযোগ নিয়ে মতের অমিলে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করা হয় গোটা পরিবহন ব্যবস্থা। জিম্মিদশায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এমনকি অসহায় হতে হয় রাষ্ট্রকেও। যা একমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেই পরিবহন সেক্টরের এমন অবস্থা জানা নেই কারো। কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সরকারের নিয়ম-নীতি অনুযায়ীই চলে বহির্বিশ্বের প্রতিটি দেশের গণপরিবহন। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কোনো দাবি থাকলেও তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়। যার প্রভাব পড়ে না সড়কে।

কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশের গণপরিবহন সেক্টরই এক্ষেত্রে চলছে ভিন্ন পরিবেশে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও নেতাদের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে একটি নির্দিষ্ট শ্রমিক সংগঠনই নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টর। যা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন-২১০৮ কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিককালের ধর্মঘটেও উঠে এসেছে। দায়িত্বশালী মন্ত্রীদের আশ্বাসেও গোটা দেশ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার না করেই ক্ষমতাশীল এক নেতার নির্দেশে গতকাল থেকে মূলত সচল হয় গোটা দেশের পরিবহন খাত।

বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং দেশের পরিবহন খাতকে এমন নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন কিংবা নেতার কব্জা থেকে মুক্ত করতে পরামর্শ দিয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবহন সংগঠনগুলো যাতে তাদের ইচ্ছেমতো ধর্মঘট ডাকতে না পারে কিংবা উদ্ভট কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্যও আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকরের পর পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে অস্থিরতার সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। কিন্তু এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রীর প্রচেষ্টায়ও কার্যত সমাধান আসেনি। রাজধানী কিংবা এর আশেপাশের দুই এক জায়গায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই ধর্মঘটে ছিল পরিবহন শ্রমিকরা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের কথায়ও চিড়া ভিজেনি বরং এ নিয়ে ফলপ্রসু কোনো সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের কাছ থেকে না আসলেও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের ঘোষণায় অবশেষে সচল হয় দেশের গোটা পরিবহন খাত।

চার থেকে পাঁচ দিন পর যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও এবার বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তবে কি একক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে পরিবহন খাত? দেশের পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিবহন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারার রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার সুযোগই নিচ্ছে একটি মহল।

জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান। দীর্ঘ অচলাবস্থা শেষে অবশেষে নির্দেশ এলো পরিবহন নেতার। এর পরপরই স্বাভাবিক হতে শুরু করে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সবকটি বাস টার্মিনাল থেকেই শুরু হয় স্বাভাবিক বাস চলাচল। পরিবহন খাতের স্থবিরতা থেকে মুক্তি দিতে এর আগে সরকারের দুই মন্ত্রী নানা প্রচেষ্টা চলালেও তারা ব্যর্থ হয়। পরিবহন শ্রমিকরা বন্ধ রাখেন যান চলাচল।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতের নিষেদাজ্ঞা উপেক্ষা করেই একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সংশোধীত ২০১৮ মোতাবেক এরূপ প্রতিটি সংগঠনের দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান থাকলেও অত্র ফেডারেশন নির্বাচন না করে পেশি শক্তির বলে ফেডারেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা শ্রম আইন পরিপন্থি। শুধু তাই নয় বিগত ১২ বছরে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন শ্রম আইন পরিপন্থিভাবে কর্মবিরতির নামে অসংখ্য ধর্মঘট আহ্বান করে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে নৎসাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এছাড়াও বিএনপি-জামায়াতপন্থি নেতারাই দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সেক্টরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে জানিয়ে হানিফ খোকন বলেন, পরিবহন শিল্পে বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সংশোধীত ২০১৮ লঙ্ঘন করে ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহ ঢাকা মহানগরসহ সমগ্র বাংলাদেশে বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা-অটোটেম্পু, হিউম্যান হলার, মিনি ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ সকল পরিবহনে শ্রম আইন পরিপন্থি চাঁদা আদায় করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে।

হানিফ খোকন আমার সংবাদকে আরও বলেন, পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নেতারা ধর্মঘটের সামনে না গিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় তাদের ইউনিয়নের কর্মীদের দিয়ে করায়। দূরে থেকে ধর্মঘটের নামে তারা দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কথায় কথায় দেশব্যাপী তাদের এসব ধর্মঘটের নামে নানা অপকর্মেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। অবৈধভাবে ধর্মঘট আহ্বানকারী এ সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান হানিফ খোকন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের মধ্যে এই ধারা আনা উচিত যে, কেউ যদি জনগণের স্বার্থে গাড়ি চালায় এবং সেটাতে অন্য কেউ বাধা দেয় তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কিছু দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করে, বাস্তবতার নিরিখে দণ্ড নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাহজাহান খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT