রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৯ মে ২০২০, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:০০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ শাহজাদপুরে প্রথম ১জন করোনা রোগী সনাক্ত ◈ ঝড়ে পড়া ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন ছাতকের দিন মজুর মহিম উদ্দিন’র ◈ বাঁশখালীর চাম্বল এলাকায় হাতির আক্রমণে এক আমবাগান মালিকের মৃত্যু ◈ চট্টগ্রামে মোট ৪৫৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২২৯ জন করোনা পজেটিভ  ◈ পত্নীতলায়  ঘাতক ট্রাকে কেড়ে নিল  আপন দু ভাইয়ের  প্রাণ! ◈ নীলফামারিতে এক গৃহবধুর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার ◈ নীলফামারিতে র‌্যাব ক্যাম্পে ১০ জন করোনা সনাক্ত ◈ মনিরামপুরে ঝড়ে ঘর ভেঙে গেছে, ভ্যান চালক মুস্তাক মোড়লের ◈ কোটচাঁদপুরে পানির নিচে ৬টি অসহায় পরিবার বন্দি- প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ◈ কালিহাতীতে নতুন করে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত! মোট আক্রান্ত ৯

কারিগরি শিক্ষার ফেরিওয়ালা তৌহিদের গল্প

প্রকাশিত : ০৯:০৯ PM, ১১ মার্চ ২০২০ Wednesday ১,৩৮১ বার পঠিত

শরিফুল ‍ইসলাম সুজন, বার্তা সম্পাদক:
alokitosakal

ফাইল ছবি

সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় বেশ পরিচিতি পেয়েছে উদ্যোমী তরুণ তৌহিদ। মোঃ তৌহিদুজ্জামান, কারিগরি শিক্ষার প্রতি অসম্ভব দুর্বল এক মানুষ। মেধাবী তৌহিদ ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অজোপাড়া গায়ে বেড়ে উঠলেও ছাত্র জীবন আর কর্মজীবন অনেকটা গল্পের মতো। নিজে নগন্য মানুষ হলেও বিপথে চলে যাওয়া অনেক যুবককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার কমতি নেই তৌহিদের। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী কিংবা ডিপ্লোমা পাশ করা চাকুরী প্রত্যাশীদের সোস্যাল নেটওয়ার্কে সঠিক তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ সার্বিক সহযোগীতা করায় কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক প্রতিটি ফেসবুক গ্রুপে জনপ্রিয় মুখ তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ।

১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল দেওনাইপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করে তৌহিদ। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে তৌহিদ বড়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবা মোঃ আব্দুস ছালাম আর গৃহিণী মা মোছাঃ ফজিলা খাতুনের প্রথম সন্তান তৌহিদের শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি মমতাময়ী মায়ের হাত ধরে। শৈশব আর কৈশোরের শুরুটা নিজ গায়ে। বাড়ির পাশের ১৬ নং কুশমাইল কড়ইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর মক্তব্যে শিক্ষা জীবন শেষে উপজেলা সদরের আল-হেরা একাডেমি (উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে নিম্নমাধ্যমিক পাশ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা চলাকালে লোকমুখে শুনে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। মায়ের সম্মতিতে ভর্তির আগেই পরিদর্শন করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ময়মনসিংহ। মনের চাওয়াগুলো যেন সেখানেই পেয়ে যায় তৌহিদ। টিটিসি ময়মনসিংহে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে জিপিএ-৫.০০ পেয়ে এস.এস.সি. উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে ডিপ্লোমা কোর্সে ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পড়াশোনার সুযোগ হয়। নতুন পরিবেশে নিজেকে খুঁজে নিয়ে নতুন মাত্রায় যখন পথচলা তখন পারিপার্শ্বিক বেশ কিছু সমস্যার কারণে পরিবারের অনুরোধে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর হয়ে সেখানেই কোর্স সম্পন্ন করেন। কোর্স সম্পন্ন করার পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এস.সি. ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়ন শুরু করেন তৌহিদ। পাশাপাশি NTVQF’র তিনটি লেভেল সম্পন্ন করে অর্জন করেছেন জাতীয় দক্ষতা সনদ।

শিক্ষকতার প্রতি তৌহিদের অদম্য আগ্রহ ছেলেবেলা থেকেই। ডিপ্লোমা কোর্স চলাকালীন সময় থেকেই বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে পাঠদানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মোমেনশাহী টেকনিক্যাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন শিক্ষাকতার পর আইয়ুব-হেনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, কিশোরগঞ্জ এ জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর এবং পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ) এর ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বাকাশিবো)’র একজন অ্যাসেসর হিসেবে সারাদেশে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

নিজের জীবন জয়ের গল্প ছাড়াও রয়েছে ভিন্ন গল্প। যেসব ছেলে সারাদিন ঘুরে বেড়াতে অব্যস্ত ছিল সেসব ছেলেদের পড়াশোনায় আকৃষ্ট করে কারিগরি শিক্ষার ছায়াতলে এনে দক্ষ নাগরিক বানানোর চেষ্টার কমতি নেই তৌহিদের। নিজের অর্থ খরচে ভর্তি করেছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। ছোটবেলায় পড়াশোনার হিসেব চুকিয়ে বাড়ি ছেড়ে কর্মজীবী হয়ে উঠা ব্যক্তিকেও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ভর্তি করিয়েছিলেন একজনকে। সেখানে সফলতার হাসি উদয়ও হয়েছে। সে ব্যক্তিটি আজ স্টিল ও ফার্নিচার বিষয়ক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একজন সফল মালিক। মাধ্যমিকের আগেই পড়াশোনা থেকে ঝড়া পড়া আরেক কিশোরকে ভোকেশনাল বিভাগে ভর্তি করে সুযোগ মতো নিজে পড়িয়ে ফিরিয়ে এনেছেন আবারও শিক্ষার আলোয়। এ ছেলেটি অংশ নিয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। এসবের পাশাপাশি বর্তমানে যখন ফেসবুক যোগাযগের বৃহৎ প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে সহজেই অবগত করা যায়। সোস্যাল সাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন তৌহিদ। তার উদ্দ্যেশ্য কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যেন সকলের মাঝে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয় এবং এ শিক্ষায় শিক্ষিত কেউ যেন কর্মহারা না থাকে। সেজন্য প্রতিনিয়ত চাকুরী বিজ্ঞপ্তি কিংবা বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেন। এ বিষয়টি থেকে অনেকেই উপকৃত হওয়ার কথাও জানায় ফেসবুক টাইমলাইনে।

এরকম সহযোগীতামূলক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথেও জড়িত আছে তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ। তৌহিদ একজন রক্তদাতাও বটে। তৌহিদ বলে, “আমি তো সব গ্রুপের মানুষকে রক্ত দিতে পারব না, আর এক রক্তদানের পর আরেকবার দেওয়ার মাঝে একটা দীর্ঘ সময় যায়। তবে, কারও রক্ত প্রয়োজন হলে আমি চেষ্টা করি ঐ গ্রুপের দাতা খোঁজতে। রক্তদানের আনন্দই আলাদা!” ছুটিতে যখন বাড়িতে থাকেন তখন নিজ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সাথে সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসেন তৌহিদ। বিভিন্ন ছুটিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করে বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠান। কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক লেখালেখির পাশাপাশি যুগান্তর, আলোকিত সকাল, মানবকণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে নিয়মিত ছড়া-কবিতা ও পাঠকপ্রিয় চমৎকার একাধিক ছোট গল্প লিখছেন। অবসরে গান শোনা আর চর্চারও অভ্যাস আছে তৌহিদের।

ভিন্ন প্রতিভাধর তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ স্বপ্ন দেখে এক সুন্দর আগামীর, কারিগরি শিক্ষায় স্বাবলম্বী একটি জাতির। তৌহিদ তার স্বপ্ন নিয়ে দৈনিক আলোকিত সকালকে বলেন- “আমি আমার এলাকায় একটি বেকার যুবকদের জন্য টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার চালু করতে চাই। যেখানে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। তাদেরকে বেকারত্বের অভিশাপ দূর করে দক্ষ নাগরিক হিসেবে পরিচিত করে তুলতে চাই। যেহেতু আমি এখনও যথেষ্ঠ স্বাবলম্বী হই নি, সেহেতু এ বিষয়ে সমাজের বিত্তশালী ও সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

ভ্রমণ পিপাসু তৌহিদ সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ায় দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কথা বলেন সংশ্লিষ্টদের সাথে। শিক্ষার্থী এবং প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা আর পরামর্শমূলক মতবিনিময় করেন তৌহিদ। ইতোমধ্যে তিনি দেশের ত্রিশটির অধিক জেলা পরিভ্রমণ করেছেন। প্রতিনিয়ত তৌহিদ তার স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলছে এভাবেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT