রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২৩ মার্চ ২০২০, ৯ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৬:০০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ফরিদপুরের সাথে তিন ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ◈ মানিকগঞ্জে ৩ টি ড্রেজার বসিয়ে চলছেই ইছামতি নদীর বালু লুট ◈ বেনাপোলে গ্রেফতারী পরোয়ানা ভুক্ত আসামী সহ আটক-১৪ ◈ ইকলাস হত্যা মামলার প্রধান আসামি মৃদুলের অত্মসমপর্ণ ◈ কুড়িগ্রামে মাস্ক বিতারণ করলেন আমান উদ্দিন মন্জু ◈ করোনা সচেতনতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ◈ ভোলা জেলায় করোনা পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ ◈ বরগুনায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ ◈ ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এসিল্যান্ড জামশেদ আলম রানা ◈ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ একরাম উল্লাহ

করোনা ভাইরাস পৃথিবীর কত মানুষকে আক্রান্ত করবে? আক্রান্তদের মাঝে কতজন মারা যাবেন?

সোহেল রানা

প্রকাশিত : ১০:১৪ AM, ২১ মার্চ ২০২০ Saturday ২৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এই প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো ও একমাত্র সঠিক উত্তর হলো- আমরা জানি না। তবে কিছু কিছু পাবলিক হেলথ ও রোগত্তত্ব বিশেষজ্ঞ ও ডাটা সায়েন্টিস্ট মিলে এই ব্যাপারে তাদের প্রেডিকশন দিয়েছেন। গবেষকরা গাণিতিক মডেল ও বিভিন্ন ধরণের ডাটা সোর্স ব্যবহার করে ভাইরাস ভবিষ্যতে কিভাবে কোথায় কতটা ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ব্যাপারে প্রেডিকশন দেন।

কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া নিয়েও এ ধরণের ভবিষ্যদ্বানী রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার প্রফেসর ইরা লংগিনির মতে, পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ লোক করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। ইরা লংগিনির মতে, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়াকে ৫০% কমিয়ে আনলেও বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ লোক করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। সেই হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৬০ থেকে ৫২০ কোটি। ইরার যে গাণিতিক মডেল সেটিতে তিনি ধরেছেন এক ব্যক্তি থেকে ২/৩ জন আক্রান্ত হবেন। তবে, এই আক্রান্তের এক বড় অংশ হয় কোন লক্ষ্ণণই প্রকাশ করবে না অথবা খুবই মৃদু লক্ষণ প্রকাশ করবে।

লংগিনি মনে করেন দুই কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়াচ্ছে, এক, ভাইরাস দ্রুততার সাথে টেস্ট করতে না পারা এবং দুই, ভাইরাসের প্রকৃতি মৃদু হওয়ায়। দ্রুততার সাথে ভাইরাসের টেস্ট করার অক্ষমতার কারণে আমরা জানতে পারছি না কে আক্রান্ত আর কে আক্রান্ত না। এর ফলে, একে সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। এতে করে, আক্রান্তরা না জেনেই অন্যদের আক্রান্ত করছেন। অন্যদিকে, ভাইরাসের উপসর্গ বেশিরভাগ সময় মৃদু হওয়ায় মানুষ জানতেই পারছে না সে করোনায় আক্রান্ত কি না। এতেও ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে দ্রুত।

আক্রান্তের এই বিশাল সংখ্যার ভবিষ্যদ্বনীর ব্যাপারে লংগিনি একা নন। হংকং ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথের প্রফেসর গ্যাব্রিয়েল লিউং, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এইচ চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের প্রফেসর মার্ক লিপসিচও একই ধরণের প্রেডিকশন দিয়েছেন। লিপসিচ মনে করেন, এই হারে ছড়ালে ১ বছরের মধ্যে ৩০০ থেকে ৫৫০ কোটি লোক করোনায় আক্রান্ত হতে পারে।

প্রশ্ন হলো- উনারা কি সঠিক বলছেন? এই প্রশ্নটির উত্তরও আমরা আসলে জানি না। তবে, কয়েক কারণে এসব ভবিষ্যদ্বানী ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

প্রথমত, এই ভবিষ্যদ্বনী হলো সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনার একটি- ‘Worst Case Scenario’। দ্বিতীয়ত, লংগিনির বিশ্বের ২/৩ আক্রান্ত হওয়ার ভবিষ্যদ্বানী সঠিক হতে পারে যদি বর্তমানে যে হারে ছড়াচ্ছে সেই হারেই ছড়ায়। কিন্তু একইসাথে বিশ্বের সরকার ও অন্যান্য সংস্থাগুলো ভাইরাসের বিস্তার কমাতে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব পদক্ষেপের কল্যাণে ভাইরাস ছড়ানোর এই হার হ্রাস পাবে। এসব পদক্ষেপের সফলতার উপর নির্ভর করবে ভাইরাসের বিস্তার সম্মন্ধে লংগিনি, লিউং বা লিপসিচের ভবিষ্যদ্বানীর ভবিষ্যৎ।

তৃতীয়ত, শেষ পর্যন্ত এগুলো সবই গাণিতিক মডেল এবং অনেকগুলো ধারণার উপর ভিত্তি করে করা। ধারণাগুলো ভুল হলে মডেলের প্রেডিকশনও ভুল হতে পারে। চিন্তার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত সরকার বা বিশ্বে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যেমনঃ পাবলিক গ্যাদারিং বন্ধ করা, স্কুল কলেজ বন্ধ করা, ট্রাভেল ব্যান ইত্যাদি দিয়ে ভাইরাসকে ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে লংগিনি বা লিপসিচের ভবিষ্যদ্বানী ফলে যাওয়াও অসম্ভব না।

প্রশ্ন হলো, এই ভাইরাস যদি ৩০০ কোটি লোককে আক্রান্ত করেই ফেলে তাদের মাঝে কতজন মারা যাবে?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়াও আসলে অসম্ভব। এই মূহুর্ত পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১,৪৯,৫৯৬ এবং মৃতের সংখ্যা ৫৬০৪। সহজ অংকে মৃত্যুহার ৩.৭৪% (কেইস ফ্যাটালিটি রেইট)। এই মৃত্যুহার শুধুমাত্র যারা পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তাদের মাঝে মৃত্যুহার। আমাদের এটা মনে রাখা দরকার যে, এই মৃত্যুহার থেকে অংক করে বলে দেওয়া যায় না যে ৩০০ কোটি লোকের ৩.৭৪% মরে যাবে। কারণ,

প্রথমত, লিপসিচ বা লংগিনির ৩০০ কোটি মানুষের অনেকে করোনার লক্ষ্মণই প্রকাশ করবে না । অর্থাৎ তারা জানতেই পারবেন না তারা করোনায় আক্রান্ত। ফলে, তারা টেস্টও করবে না। এ কারণে, ৩০০ কোটির (যদি সত্য হয়) এক বিরাট অংশ মৃত্যুহারের হিসেবে থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, অনেকেই যারা মৃদু লক্ষ্ণণ প্রকাশ করবেন তারা হয়তোবা টেস্টই করবেন না। ফলে, তারা টেস্টে পজিটিভও হবেন না। এরাও মৃত্যুহারের হিসাব থেকে বাদ যাবে।

সেক্ষেত্রে, যদি লিপসিচ বা লঙ্গিনির ভবিষ্যদ্বানীর সর্বনিম্ন সংখ্যাও যদি সঠিক হয় (প্রায় ২০০ কোটি) এবং এর মাঝে বিশ্বের ১০% লোকও শেষ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ হয় এবং এদের মধ্যে কেইস ফ্যাটালিটি রেইট ৩.৭৪% থাকে তাতেও প্রায় ৭৫ লক্ষ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। সেটি পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার .০৯% এর চেয়েও কম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT