রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৮ মে ২০২২, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০২:২৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ করিমগঞ্জে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কোমর থেকে খণ্ডিত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার। ◈ পুরুষ সেজে চাচিকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করলেন তরুণী ◈ ইভটিজিং অভিযোগে ছাত্রদল পিটিয়েছে ছাত্রলীগ: ছাত্রদল বলছে ভিত্তিহীন! ◈ মডেল প্রেস ক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ : থানায় জিডি ◈ কালিহাতীতে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫! অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ◈ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিন জিএস এর পিতার স্মরণে দোয়া মাহফিল ◈ ভূঞাপুরে চরাঞ্চলে তিলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ◈ পথশিশুকে বিয়ে দিল গান্ধি আশ্রম ট্রাস্ট ◈ নবীগঞ্জের হাটবাজারে মৎস্য অফিসের অভিযান; পোনা মাছ অবমুক্ত ◈ রায়পু‌রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী‌দের মা‌ঝে পুরস্কার বিতরন

করোনা উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে

প্রকাশিত : ০২:২৮ PM, ৯ অগাস্ট ২০২১ সোমবার ১৯৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওবায়দুল হক। অবস্থার অবনতি হলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। এর পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২৫ জুলাইয়ের।

বগুড়ার দক্ষিণ কাটনারপাড়ার বাসিন্দা সুমন রায়। তিনিও জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে গত ৮ জুলাই নগরীর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। মৃতের বড় ভাই দীপক রায় জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা চিকিৎসকরা মৌখিকভাবে জানালেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাটুল বিশ্বাস। গত ২০ জুলাই নিজ বাড়িতে মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুর আগে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশিসহ করোনার নানা ধরনের উপসর্গ থাকলেও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।

শুধু ওবায়দুল হক, সুমন রায় কিংবা বাটুল বিশ্বাস নয়— এদের মতো দেশে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ২২২ জন এবং নারী ৫১৩ জন। গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে এ বছরের ০৩ আগস্ট পর্যন্ত উপসর্গে মৃত্যু বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস) রবিবার (০৮ আগস্ট) এমন তথ্য জানিয়েছে।

সিজিএসের বিশ্লেষণে বলা হয়, গত ২৮ দিনেই (০৭ জুলাই থেকে ০৩ আগস্ট পর্যন্ত) মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৪৯৬ জনের। ওই সময়টাতে দেশে করোনা উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ০৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৭৯৬ জনের। পরে ২১ জুলাই থেকে ০৩ আগস্ট পর্যন্ত উপসর্গে মারা গেছে আরো ৭০০ জন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সিজিএস এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি এখনো ভয়ংকর। মৃত্যু ও সংক্রমণে চলছে রেকর্ড ভাঙাগড়া। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এর বাইরেও সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু। গ্রামে এ সংখ্যা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেও তারা নমুনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী নয়। তাছাড়া সব এলাকায় পরীক্ষা করানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। সর্দি-কাশি-জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাচ্ছে বাড়িতেই। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে যাওয়ায় এদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিজিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১০৫৮ জন। এরপরই রয়েছে খুলনা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছে ৯৭০ জন। এছাড়া ৭৭২ জন চট্টগ্রাম বিভাগে, ৫৯৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৫০১ জন বরিশাল বিভাগের, ৩৩৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের, ১০৩ জন সিলেট বিভাগের ও ১০০ জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা।

এতে বলা হয়, গত মাসে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুতে শীর্ষে ছিল রাজশাহী জেলা (৫১০ জন)। এর পরে যথাক্রমে সাতক্ষীরা (৩৪৫ জন), বরিশাল (৩৩২ জন), বগুড়া (২৮৫ জন), কুমিল্লা (২৫২ জন), ময়মনসিংহ (২৪৫ জন), চাঁদপুর (২১৬ জন), খুলনা (১৮৩ জন), ফরিদপুর (১৫৩ জন) ও চট্টগ্রাম (১১৬ জন) জেলা।

গ্রামে করোনার সংক্রমণ বিস্তারের পেছনে উদাসীনতা এবং অসচেতনতাকেই দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেন না। এমনকি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। ঢাকা কিংবা বিভিন্ন নগরী থেকে গিয়ে আইসোলেশনে না থেকে অনায়াসে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। আবার করোনার উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা না করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমন অসচেতনতার কারণে গ্রামাঞ্চলে করোনা সংক্রমণে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

সিজিএসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, করোনা রোগীর মতো উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও তারা করোনা আক্রান্ত নাও হতে পারে। এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আরও কয়েকটি বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছে সিজিএ। এর মধ্যে বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগে গত ৭ জুলাই থেকে ০৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৩৭৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে এ বছরের ০৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশে করোনাসংক্রান্ত মোট ৩৭১টি প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT