রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ জামালপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান ও গুদামের ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই ◈ জামালপুরে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ◈ রাতের আধারে বাড়ি বাড়ি চাল-আলু পৌঁছে দিল জনি ◈ “মানুষ মানুষের জন্য” কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন এমপি ◈ রংপুর সদরের সদ্যপুষ্করিনীতে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ ◈ অসহায়দের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিলো যুবলীগ নেতা রাজু ◈ আখাউড়ায় করোনা মোকাবেলায় দরিদ্র মানুষের পাশে নেই জন প্রতিনিধিরা ◈ ময়মনসিংহে জেএমবি’র ৪ সদস্য গ্রেপ্তার ◈ গৌরীপুরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সামগ্রী ও হতদরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন মোহনা এন্টারপ্রাইজ ◈ তালোড়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার উদ্যোগে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ

করোনার স্বাস্থ্যক্ষতির চেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি কি বেশি হবে?

সোহেল রানা

প্রকাশিত : ১০:২১ AM, ২১ মার্চ ২০২০ Saturday ২৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সম্ভবত, হ্যা। যদিও স্বাস্থ্যক্ষতিকে পরিমাপ করা কঠিন। যেমনঃ এই মূহুর্তে আমি মারা গেলে কত টাকার ক্ষতি হবে সেটা পরিমাপ করা সহজ নয় বা অসম্ভব। ফলে স্বাস্থ্য ও অর্থ এই দুই ক্ষতির মাঝে বেশি কম নির্ধারণ করা সহজ না।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ সাধারণত কম্প্রোমাইজ করতে চায় না, অর্থনীতি নিয়ে মানুষ কম্প্রোমাইজ করে প্রয়োজনে। কারণ, একটা সারভাইভালের প্রশ্ন অন্যটা গ্রোথের।
এবং এ কারণেই অর্থনৈতিক ক্ষতি বেশি হলেও মানুষ স্বাস্থ্যক্ষতি করতে চায় না। উদাহরণঃ ধরুন আপনার কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেলো, আপনার অর্থনৈতিক সামর্থ্যের পুরোটাই আপনি দিয়ে দিবেন কিডনি সারাতে। এক্ষেত্রে টাকার হিসাব করার সম্ভাবনা খুবই কম।

দেশে দেশে লকডাউনের কারণে আর্ন্তজাতিক বাজারে ভয়ানক স্থবিরতা ও সংকট নেমে আসবে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনীতি একটি ম্যানুফাকচারিং সাবসেক্টরের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। সেটি হলো- বস্ত্র, টেক্সটাইল ( তৈরী পোশাক)! পোশাকে বাংলাদেশের মূল বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। করোনার কারণে, এই দুই অঞ্চলের বাজারেই তৈরী পোশাকের চাহিদা পড়ে যাবে। ফলে, বাংলাদেশের কারখানাগুলোর অর্ডার কমে যাবে বা অনেকক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাবে। এসব কারখানার সাথে যেসব মালিক শ্রমিক যুক্ত তাদের রুটি রুজির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শুধু যে বিশ্ব বাজারে চাহিদা কমবে তা না। করোনার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও অস্বাভাবিক না কারণ সেখানে শ্রমিকরা একসাথে সবাই নিলে ফিজিক্যালি কাজ করে। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনিশ্চিত হবে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়। গার্মেন্টস এর উপর নির্ভরশীল সকল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে ভয়ানক হলো, ইউরোপ আমেরিকার বাজার যতদিন পর্যন্ত না স্থিতিশীল হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারও স্থিতিশীল হবে না। সমস্যা হলো আমাদের ভবিষ্যতেরও কোন টাইম ফ্রেম নাই। করোনার এই মূহুর্তের পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে না কবে ঠিক কবে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেকেন্ডারি নেট ট্রান্সফার বা রেমিট্যান্স এর গুরুত্বও মোটামুটি। এই মূহুর্তে জিডিপির ৫-৬% এর কাছাকাছি। বিদেশের এই করুন অবস্থার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। যদিও বিদেশের সরকারগুলো যেকোন মূল্যে ওয়ার্কফোর্সকে পে করতে চাইবে তথাপি অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক চাকরিও হারাতে পারেন।

বিশ্বের অর্থনীতির ভয়াবহ সংকোচন ( রিসেশন) যেটা অবশ্যম্ভাবী সেটি বাংলাদেশকেও ভয়ানকভাবে ভোগাবে। যেকোন রিসেশন মানেই চাকরিচ্যুতি, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া, অসাধু বিজনেস প্র‍্যাকটিস বেড়ে যাওয়া।

অভ্যন্তরীণ বাজারে সেবামূলক খাতে যারা দিন আনে দিন খান টাইপের কাজ করেন যেমনঃ রিকশাচালক, হকার, বাস/ট্রাক ড্রাইভার হেল্পার ইত্যাদি তাদের সামাজিক সুরক্ষাদান আমাদের সরকারের পরিকল্পনা ও রিসোর্সের ঘাটতির কারণে সম্ভব হবে না। ফলে, ব্যাপক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরী হবে এই শ্রেণীর মানুষের জন্য। এতে করে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মানুষের লাইফস্টাইল সংকোচন ঘটবে, সংকুচিত হবে কনজাম্পশন। কম খাওয়া, কম কাপড় কেনা, কম বিলাস ইত্যাদি সবই দেখা দিবে। যাদের সেভিংস খুব সামান্য তাদের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিবে। ফলে, সরকারের আইনশৃঙ্খলা খাত ও বাজার নিয়ন্ত্রণ খাতে এনফোর্সমেন্ট খরচ বেড়ে যাবে। মজুদদার বা অবৈধ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে।

পুঁজিবাজারের নেমে আসবে ধ্বস। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে পুজিবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সেটি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের সরকার চাইলেও করতে পারবে না।

সমস্যা হলো, এই মূহুর্তে আমরা জানিনা কবে ও কিভাবে এই দুর্যোগের শেষ হবে? গ্রীষ্ম আসলে, ড্রাগ আসলে, ভ্যাকসিন আসলে না ন্যাচারালি?

আমরা জানি না! এটা জানি করোনার অর্থনৈতিক টোল হবে খুবই ভয়াবহ! আমরা এমন এক সময়ে বাস করি যেখানে অর্থনীতি আমাদের ব্লাডের মত হয়ে গেছে। শরীরের ব্লাড সাপ্লাই বন্ধ হলে যাহয় আধুনিক মানুষের অর্থনীতি বন্ধ হলেও একই অবস্থা হবে। অর্থপূর্ণ বাঁচা মানেই ভোগপূর্ণ বাঁচা এই ধারণা আমাদের ভোগাবে।

আল্লাহ/ঈশ্বর/দেবতা আমাদের সুরক্ষা করুন….

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT