রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:৫৩ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মধ্যনগরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ভিডিও প্রচার করায় ৫ যুবক গ্রেফতার ◈ চরফ্যাসনে গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, থানায় সমঝোতা ◈ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ◈ উলিপুরে গুনাইগাছে ১১৫ জন দুস্থ নারীর মাঝে ফুট প্যাকেজ বিতরণ ◈ নীলফামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ◈ হাজার বছর নয়-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান —পুলিশ সুপার, নওগাঁ ◈ লালমনিরহাটে বার্তা বাজার এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ◈ রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা ◈ কুড়িগ্রামে বিআরটিসি বাস ও প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষে  নিহত ৪ ◈ সিরাজগঞ্জে অটোরিকশা চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

করোনার আর্থ-সামাজিক অভিঘাত

জি,এম,তাজউদ্দিন

প্রকাশিত : ০৫:৩৫ PM, ২৬ জুলাই ২০২০ Sunday ৯৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মহামারী করোনার প্রাদূর্ভাব সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় কাঠামোকে মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালী, জাপান এর মত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনীতি ও সামাজিক শৃংখলা ভেঙ্গে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারগুলোতে ধ্বস নেমেছে। এক সপ্তাহে আমেরিকায় ৩.৩ মিলিয়ন আমেরিকান বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। জি-২০ ভুক্ত দেশ সমূহ জরুরী সভা ডেকেছে কি করে ক্ষতি হ্রাস করা যায়। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তার দাবী, তাদের বেকারত্ব হবে ৩০ % এবং অর্থনীতি অর্ধেক হ্রাস পাবে। শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার ৩% হ্রাস পেয়েছে। মানুষের অর্থ ব্যয় কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উপার্জন হ্রাস পেয়েছে। ফলে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রায় ৮০ টি দেশ আর্ন্তজাতিক মূদ্রা তহবিলে আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেছে । অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানিয়েছে, ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী ১.৫% হতে পারে। মন্দার আশঙ্কা এই কারণে যে, এ মহামারী কবে কাটবে তা অনুমান করা কঠিন। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, চাহিদা ও সরবরাহ এমন ভাবে ভাইরাস দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে যে, মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনা প্রকট হচ্ছে এবং পর্যটন শিল্প, হোটেল-রেস্তোরা, ক্রীড়া ইভেন্ট, পরিবহন খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লকডাউন ভ্রমণ ব্যবসায় ধ্বস নামিয়েছে। WTO এর পূর্বাভাস মতে, ২০২০ সালের শেষের দিকে রপ্তানি শেষ পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে তেল উৎপাদন কমায় তেল উৎপাদনকারী দেশ সমুহ বেশ চাপে রয়েছে। এত কিছু উল্লেখ করার কারণ হল অর্থনৈতিক মহামন্দা যে আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে তা অনুধাবন করানো। বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। রেডিমেড গার্মেন্টস এর ৩ বিলিয়ন ডলার অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। আইএমএফ আশঙ্কা করছে এদেশের প্রবৃদ্ধি ২% এর নীচে নেমে যেতে পারে। ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাপক সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফেরার অপেক্ষায়, ফলশ্রুতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে রেমিটেন্স প্রবাহে। রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন ও পরিসেবা খাত ও নির্মান শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে । ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনেক শিল্প চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দিন মজুররা। শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ায় প্রবণতা দৃশ্যমান। বিবিএস এর মতে দারিদ্রসীমা ৪০.৯ এ উন্নীত হতে পারে। যা গত দুই দশকের দারিদ্র বিমোচনের সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে। সরকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ও সুরক্ষা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, তদারকি ও মুল্যায়ন ব্যবস্থার উপর এর সাফল্য নির্ভর করছে। গ্রামমুখী মানুষদের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী, আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচীর মত প্রকল্পের আওতায় আনা গেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে । বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্রতা আনা যেতে পারে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আইটি খাত হতে পারে আমাদের অন্যতম অবলম্বন। আগামীতে স্বাস্থ্য খাত হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের আর এক নতুন ক্ষেত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুধাবন কে আস্থায় এনে কৃষি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে প্রথম ও প্রধান কাজ। করোনা পুর্ববর্তী যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে তাতে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। আমাদেরকে দীর্ঘদিনের অনেক অভ্যাস থেকে সরে আসতে হতে পারে। আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন, সোশ্যাল ডিসটেন্স এর মত নতুন নতুন অভ্যাস এর কারণে আমাদের মাঝে জন্ম নিচ্ছে স্বার্থপরতা । ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে আমদের প্রাধান্য দিতে হবে। বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ধরে রাখা হবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে আমরা হারাচ্ছি বেবি বুমারদের, যা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিশাল শুণ্যতার সৃষ্টি করবে। স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়া, বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, দৈনিন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন প্রভৃতি প্রজন্ম জেড অর্থাৎ (০৮-২৩) বছর বয়সীদের জীবনযাত্রা ও দৃষ্টিভঙ্গীর উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। করোনা থেকে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, শ্রমজীবিরা এ রোগে আক্রান্ত হয়নি বললেই চলে, তাই আগামীতে কৃত্রিম জীবনধারণ পদ্বতি থেকে মানুষ সরে আসবে। কম্পিউটারের মতই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে জীববিজ্ঞান। মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের ফলে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প ও সেবা খাত। সর্বোপরি, এদেশের মানুষের বড় শক্তি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অন্যকে আপন করে নেয়ার সহজাত ক্ষমতা, যা দিয়ে এ দূর্যোগেও মানসিক শক্তি পাবে এখানকার মানুষ। ঝড়-ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করে বেঁচে থাকা এ জাতি আগামী দিনেও টিকে থাকার সংগ্রামে সফল হবে। বিশ্ববাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে নতুন এক সকাল কে স্বাগত জানানোর জন্য। লেখক : শিক্ষক, ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT