রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:১৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ পত্নীতলায় ফেন্সিডিল ও মটরসাইকেলসহ ১ যুবক আটক ◈ নোয়াখালীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি ও লাইসেন্স না থাকায় ৪টি ফার্মেসিকে জরিমানা ◈ নোয়াখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু ◈ বেলকুচিতে মানববন্ধনের পর ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ◈ বগুড়াব শেরপুরে শ্রী-কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ◈ বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি’র মানববন্ধন ◈ ঈশ্বরদীতে রেলওয়ের ১১০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন ◈ মাদারীপুরের ডাসারে র‌্যাব-৮ এর অভিযানে মদ ও বিয়ার সহ আটক একজন ◈ বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার চুরির ঘটনায় ১৯ প্রহরীকে শোকজ নোটিশ ◈ শ্রীনগরে মাদক কারবারি স্বপন গ্রেফতার

করোনাভীতি কমায় ঝুঁকি বেড়েছে

প্রকাশিত : ০৫:১৫ PM, ২৭ জুলাই ২০২০ Monday ১৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনা সংক্রমণের ভয়ে মাসখানেক আগেও মানুষ জরুরি প্রয়োজনে একবার ঘরের বাইরে যেতে ১০ বার ভাবলেও এ দুশ্চিন্তা এখন পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। বরং কোনো কাজ ছাড়াই অনেকে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে নানা স্থানে অযথা ঘোরাফেরা করছে। এমনকি বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। অন্যদিকে অফিস-আদালত, কলকারখানা, গণপরিবহণ ও দোকানপাটসহ প্রায় সবখানেই স্বাস্থ্যবিধি পালনের প্রবণতাও অনেকাংশে কমে গেছে। এমনকি কোভিড, নন-কোভিড সব হাসপাতালেই এ ব্যাপারে ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেভাবে করোনাভীতি কমেছে, তাতে এ মরণব্যাধিটি দেশে ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার জোরাল আশঙ্কা রয়েছে। যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সত্যিকার অর্থেই কঠিন হবে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনাভীতি কমার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা যে অনেকাংশেই উধাও হয়ে গেছে তা রাস্তা-ঘাটে সাধারণ মানুষের গতিবিধি লক্ষ্য করলেই সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলছে। মাত্র কদিন আগে দেশের সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হলেও এ বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষ যেন ‘মশকরা’ হিসেবে নিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক সঙ্গে রাখলেও কেউ তা কানে কিংবা থুঁতনিতে ঝুলিয়ে চলাফেরা করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে নিরাপদ দূরত্ব (সাধারণত ৩ ফুট) বজায় রেখে চলাচল করার পরামর্শ দিলেও অনেকে চায়ের স্টল কিংবা রেস্টুরেন্টের বেঞ্চে গাদাগাদি করে আড্ডা দিচ্ছে। জুলাইয়ের শুরুতেও বিভিন্ন অফিস-আদালত ও কলকারখানায় সবার শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও অনেক স্থানেই এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষই অফিসে ঢুকেই মাস্ক খুলে ফেলছে। অথচ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অফিসের ভেতরেই বেশি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যে চিত্র বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সামান্য ভীতি আছে কি না তা বোঝা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলোজি বিভাগের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, অনেকের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে ভয়ভীতিও কমে গেছে। তারা ভাবছেন, করোনা আক্রান্ত হলে কী আর হবে! এটাই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে করোনায় মৃতের সংখ্যা কম হলেও যেকোনো সময় সেটা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে তখন মৃতের সংখ্যাও লাগামহীন হবে। তাই আমরা যদি করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে অবাধে বাড়তে দিই, কোনো একসময় হঠাৎ করেই মৃত্যুর হার আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসকের দাবি, দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার এখনো যথেষ্ট কম হলেও তা আগামীতে যেন উদ্বেগজনক রূপ না নেয় এজন্য আগে থেকেই বেশকিছু সতর্কতা গ্রহণ জরুরি। অথচ দেশে সে ধরনের আগাম কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। এদিকে দেশে বর্তমানে করোনার নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আত্মতুষ্টিতে ভুগলেও এ বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের ভাষ্য, টেস্ট কম হওয়ার মানে এই নয় যে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এখন কম মানুষ ভুগছে। বরং প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া টেস্ট, টেস্ট না করেই রিপোর্ট ও ফলস রেজাল্ট দেওয়ায় নমুনা পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর অনেকের আস্থা কমেছে। এছাড়া যেখানে টেস্ট করালে আসল রিপোর্ট পাওয়া যাবে, সেখানে নমুনা দিতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট হলে তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ফলোআপ ট্রিটমেন্ট নেই। তাই অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করিয়ে অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না। আর এ কারণেই বর্তমানে করোনা টেস্ট কমে গেছে। অথচ টেস্ট সংকটের কারণে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। আর একই স্থানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যখন অনেক লোক আক্রান্ত হয়, তখন মৃত্যুহার বেড়ে যায়। সুতরাং দেশে যদি অবাধে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হতে থাকে তাহলে কোনো একসময় হঠাৎই আমাদের আরও লাশের দীর্ঘ মিছিল দেখতে হতে পারে। এদিকে মাসখানেক ধরে করোনায় শনাক্তের হার আড়াই হাজার থেকে তিন হাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এটি দেশের পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, দেশে করোনায় শনাক্তের হার ২১ থেকে ২৫ শতাংশে ওঠানামা করছে। এ হিসাবে আগের মতো ১৮ থেকে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে গিয়ে ঠেকত। করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে রেখে শনাক্তের হার কম দেখানোর প্রবণতাও এর প্রকোপকে আরও ভয়ঙ্কর দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডা. এম এ মান্নান বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত এলাকায় যত বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হবে ততই রোগী শনাক্ত হবে। তাই এ নিয়ে অসচেতন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশে করোনাভাইরাস ধীরে হলেও তার আপন গতিতেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে শহরে কিছুটা সংক্রমণ হার কমলেও গ্রাম এলাকায় করোনার বিস্তার ঘটছে। ঢাকার এক এলাকায় সংক্রমণ কমলেও আরেক এলাকায় বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, মার্চে যখন করেনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম ছিল তখন মানুষের মধ্যে ভয় ছিল। এখন আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও মানুষের মধ্য থেকে করোনাভীতি দূর হয়ে গেছে। আর দেশের মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে ভয় কমে গেলেই? যে করোনাভাইরাস কমে গেছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ভয় কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, করোনাভাইরাস মহামারি শেষ হয়ে গেছে। তাই সাবধানতা গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে হঠাৎই আমাদের অনেক খারাপ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, করোনার প্রকোপ থেকে মানুষ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টির একাংশ নির্ভর করে সরকারের ওপর। যেমন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, পরীক্ষা করানোর সুব্যবস্থা এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের ব্যবস্থা করা। অথচ এ ক্ষেত্রে সরকার অনেকটা দায়সারা ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হলেও তা সবাই মানছে কি না তার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়টি কারা-কীভাবে নিশ্চিত করবে তাও সরকারি প্রজ্ঞাপনে উলেস্নখ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক মনে করেন, করোনা থেকে সুরক্ষা থাকার ব্যাপারে সরকার একের পর এক সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েই নিজের কাঁধের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যথেষ্ট স্বাধীনতা পাচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি এখন বেশি করে সামনে আসতে শুরু করেছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি দুই ধরনের হতে পারে- একটি হচ্ছে আমাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ বা মারা যাওয়ার ঝুঁকি। দেশে যেহেতু প্রতি চার জনের মধ্যে একজন করোনাভাইরাস সংক্রমিত। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে ওই সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি খুবই কম। এছাড়া সরকার যদি পরীক্ষা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষের খোঁজ বা কন্টাক্ট ট্রেসিং কর্মসূচি সঠিকভাবে পরিচালনা করে তাহলে এই ঝুঁকি আরও কমে যাবে। আর কেউ যদি সংক্রমিতও হয় তাহলেও যেহেতু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের হয়, সেক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থরা সহজেই কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সর্বোচ্চ সুযোগ পাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT