রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ০৬ মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:৩৪ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে”রবীন্দ্রনাথ ও মণিপুরী সংস্কৃতি”র শতবর্ষ স্মরনোৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ০৬:৩৬ PM, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার ১৯৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কমলগঞ্জে"রবীন্দ্রনাথ ও মণিপুরী সংস্কৃতি"র শতবর্ষ স্মরনোৎসব

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ও মণিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষের সেতুবন্ধন উপলক্ষে মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি ও মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, মণিপুরী যুবকল্যান সমিতি, মণিপুরী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এবং মণিপুরী থিয়েটারের যৌথ আয়োজনে এক বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশেকুল হক ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন। পরে মাধবপুরস্থ ললিতকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজ কল্যান সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক কমলা কান্ত সিংহের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, লেখক ও গবেষক ড. রঞ্জিত সিংহ, আহমদ সিরাজ, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ, ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাষ সিংহ, নাট্য নির্দেশক শুভাশিষ সমির ও সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ প্রমূখ।

সভায় বক্তারা বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ খ্রীঃ এর নভেম্বর মাসে সিলেটে বেড়াতে এলে প্রথমে মণিপুরী হস্তশিল্প তার নজরে আসে এবং এর কারুকাজ দেখে তিনি অভিভ‚ত হন। তিনি জানতে পারেন যে, এই হস্তশিল্পের কাপড় মণিপুরীদের তৈরী। সিলেট শহরে অবস্থিত মণিপুরীপাড়া মাছিমপুরে তিনি যান এবং মণিপুরী সংস্কৃতি অংশ রাখালনৃত্য দর্শন করে মুগ্ধ হয়ে তিনি রাসলীলা নৃত্য দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কবিগুরু মণিপুরী রাসনৃত্যর সাজসজ্জা, সাবলীল ছন্দ ও সৌন্দর্যে বিমোহিত হন এবং কলকাতার শান্তিনিকেতনে ছেলেমেয়েদের নৃত্য শেখাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে কলকাতার শান্তিনিকেতনে মণিপুরী নৃত্যর একটি বিভাগ চালু করে মণিপুরী নৃত্যশিক্ষক নিয়োগ করেন। প্রথমবারের মতো মণিপুরী নৃত্য ব্যবহার করে শান্তিনিকেতনে মঞ্চস্থ হয় “নটীর পুজা” ও “ঋতুরাজ”।

পরে কবি গুরুর আমন্ত্রণে যোগ দেন মণিপুরী রাস নৃত্যের গুরু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের নীলেশ্বর মুখার্জ্জী। শান্তিনিকেতনে মণিপুরী নৃত্যের জন্য আলাদা শাখা গঠন করা হয়। নুত্য গুরু নীলেশ্বর মুখার্জ্জীর অনেক খ্যাতনামা শিষ্য রয়েছেন তাদের মধ্যে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী অন্যতম।

রবীন্দ্রসংগীতের গভীরতা ও কাব্যময়তার সাথে মণিপুরী নৃত্যের সাবলীল গতি ও বিশুদ্ধ নান্দনিকতার মধ্যে বিশেষ সামঞ্জস্য থাকায় শান্তিনিকেতনে উচ্চাঙ্গ নৃত্যধারার মধ্যে মণিপুরী নৃত্য সর্বাপেক্ষা সমাদৃত হয়। এরপর বাংলাদেশে এবং সারা ভারতে মণিপুরী নৃত্যের প্রচার ও প্রসার ঘটে। কবিগুরুর ছোঁয়ায় মণিপুরী নৃত্য সারাবিশ্বে পরিচিত লাভ করে।

আলোচনা শেষে ৬ নভেম্বর মণিপুরী নৃত্য দিবস ঘোষনা করা হয় ও মণিপুরী ললিতকলার শিল্পীরা কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ স্মরণে কবিতা, রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

আলোকিত সকাল /আবির

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT