রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:২৫ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ করিমগঞ্জ থানার (ওসি) মমিনুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ (ওসি) নির্বাচিত ◈ ভূঞাপুরে চার মোটরসাইকেল চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ◈ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ◈ চিরিরবন্দরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ ◈ শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের বেসিনে নেই সাবান-পানি, এক বছরেই ব্যবহার অনুপযোগী ◈ ফুলবাড়ীয়ায় হাত ভাঙা বৃদ্ধা ও হাসপাতাল শয্যায় অসহায় রোগীকে অর্থ সহায়তা প্রদান ◈ আড়িয়াল বিলে অস্থায়ী হাঁসের খামার ◈ সিঙ্গাইরে সুশিল সমাজ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় ◈ আশুলিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরি ◈ শ্রীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাকেল আরোহীর মৃত্যু

কপাসিয়ায় স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও অবহেলায় শহীদের কবর

প্রকাশিত : ০৬:১১ PM, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার ৪১৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও চরম অবহেলা আর অমর্যাদায় পড়ে আছে কাপাসিয়া উপজেলার একাত্তরের গণকবর।

উপজেলা সদর থেকে ৪ কি. মি. দক্ষিণে বরুন বাজার সংলগ্ন এ কবর। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে হানাদাররা বরুন গ্রামের চার ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে আগুনে পোড়ায়। ঐ সময় স্থানীয়রা একসাথে চার শহীদকে গণকবর দেয়। যুদ্ধের এতো বছর পরেও সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থা গণকবরটি রক্ষায় আজও এগিয়ে আসেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জয়গাটি এখন ঘাস, লাতা-পাতা আর গাছ-গাছালিতে ভরে ওঠা এক বনজঙ্গল। বাঁশ বাগান ঘিরে রেখেছে চারদিক। নাম ও পরিচিতি লেখা না থাকার কারণে গ্রামের অনেকেরই জানা নেই এই গণকবর সম্পর্কে। কবরটি চিহ্নিত করা হলেও বছরের পর বছর পরে আছে অযতœ আর অমার্যাদায়।

স্থানীয় ঈসমাইল ভূইয়া বলেন, চার শহীদকে আমি নিজের হাতে কবর দিয়েছি। তারা হলেন এই গ্রামের অধর চন্দ্র দাস ও তার ছেলে অনিল চন্দ্র দাস, সত্যানন্দ চন্দ্র দাস ও তার ভাই নিত্যানন্দ চন্দ্র দাস। কবর দিতে আমাকে সহযোগিতা করেছিল গ্রামের রহমত আলী ও সূর্যাকান্ত। এখন এ কবর জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

বরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধন সরকার জানান, ২০১২ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোজ কুমার নাথের নিজেস্ব উদ্যোগে ইটের দেয়াল দিয়ে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়। তখন বিভিন্ন দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের গণকবরে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাতের অধারে দুবৃত্তরা কবরের ইটের দেয়ার ভাঙচুর করার চেষ্টা চালায়। তারপর থেকে আর সেখানে যাওয়া হয় না।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা ক্ষেভ প্রকাশ করে বলে, সাংবাদিক আইয়া অনেক ছবি উডাইছে। কামের কাম কিছুই অয় নাই। যেইমুন কয়বর হেমুনই আছে। আমরাও কোন ভাতা পাই না। এমুন অনেক আশ্বাস হুনছি। দরকার নাই আমাগো কিছুর। শহীদ নিত্যানন্দ দাসের ছেলে অজিত চন্দ্র দাস জানান, গণকবর সম্পর্কে কথা বলে অনেকবার তাকে হুমকির সম্মুখিন হতে হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আর সে কথা বলতে রাজি নয়।

কাপাসিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বজলুর রশিদ মোল্লা বলেন, আমাদের নিজেস্ব তেমন ফান্ড না থাকায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। অন্তত্যপক্ষে চার জন শহীদের নাম ও পরিচিতি কবরের পাশে লেখা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. ইসমত আরার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান বলেন, এ গণকবর সম্পর্কে শুনেছি। কবরটি পরিদর্শনে আমি যাব। শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT