রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৫ মার্চ ২০২০, ১১ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৮:০৫ অপরাহ্ণ

কচুয়ায় লিয়াকত আলীর ছাদ কৃষি ও মৌ চাষ

প্রকাশিত : ০৪:০৪ AM, ৪ মার্চ ২০২০ Wednesday ৩৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আলোকিত সকাল

চাঁদপুরের কচুয়ার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের আইনপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী তালুকদারের নির্মাণাধীন উত্তর পালাখাল মোড় সংলগ্ন নতুন দুতলা বাড়িতে গত ৮ বছর যাবত মৌমাছিদের দখলে রয়েছে। তবে এই মৌমাছিরা কখনো কাউকে আক্রমণ করেনি। প্রথম প্রথম সংঘবদ্ধ মৌচাক দেখে পরিবারের সবাই ভয়ে আতঙ্কিত থাকলেও এখন আর কেউ ভয় পায় না। বরং নিয়মিত মধু সংগ্রহ করে আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা। লিয়াকত আলীর পরিবারের চাহিদা পূরণ করেও মধু বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই বাসার মালিক।
বাসার মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী তালুকদার ও তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মনিরুন্নাহার বলেন, ২০১১ সালে তিনি দোতালা ভবনটি নির্মাণ করেন। ভবনটি করার কিছুদিন পর থেকেই মৌমাছিরা এসে তার ভবনে বাসা বাঁধে। প্রথম বছর দু-একটি করে চাক তৈরি করলেও প্রতিবছরই এই চাকের পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত ৮ বছর ধরে তার ভবন ও ভবনের পাশের গাছে প্রায় অর্ধশতাধিক চাক বসিয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে প্রায় ২০টি মধুর বাসার চাক রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে মৌমাছির চাক বসানোতে তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মৌমাছি পরিচর্যা, মধু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে জানতে পারলে আরও বেশি পরিমাণে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হতো।
বর্তমানে পুরো বাড়িটি এখন মৌমাছিদের দখলে রয়েছে। তবে প্রথম দিকে বাড়ির সবাই এই মৌমাছিদের দেখে ভয়ে আতঙ্কে থাকলেও এখন আর কেউ খুব একটা ভয় পায় না। কাউকেই তারা কখনো আক্রমণ করেনি।
তবে তার মেয়ে শামীমা আফরিন বিথী বলেন, বাড়িটি নির্মাণের পর থেকে এই মৌমাছিগুলো এখানে বাসা বাঁধে। মৌমাছিগুলো আমাদের পরিবারের একটা অংশ। তবে এখান থেকে প্রতিবছর অনেক মধু সংগ্রহ করে থাকি। তবে আত্মীয়-স্বজনের মাঝে মধু বিলি করে থাকি এবং বিক্রি করে যে আয় হয় সেখান থেকে মসজিদে ও মানুষের মাঝে যাকাত হিসেবে দান করা হয়। শখবশত পরিবারের সবাই মিলে বাসার ছাদে সবজি বাগান করেছি। এখান থেকে সবজির চাহিদা মেটাতে আমরা সক্ষম হচ্ছি।
প্রতিবছর এই চাকগুলো থেকে প্রায় প্রচুর পরিমাণে মধু সংগ্রহ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দূর থেকে বাড়িটি দেখলে মনে হয় যেন মৌমাছির বাড়ি।
স্থানীয়রা বলেন, আশপাশে অনেক বাড়িঘর এবং গাছপালা থাকলেও অন্য কোথাও মৌমাছিরা চাক বসায় না। প্রতি বছর একই বাসায় এবং সেই বাসার বিভিন্ন গাছে মৌমাছিরা বাসা বাঁধে। তবে মৌমাছিরা কখনো কাউকে আক্রমণ করে না। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন বাড়ির মালিক লিয়াকত আলী তালুকদার অন্য কোনো পন্থায় তার জাদু টোনা করে মৌমাছির বাসা বছরের পর ধরে রেখেছেন এবং মধু বিক্রি করছেন।
কিন্তু এমন অভিযোগ লিয়াকত আলী তালুকদার অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন প্রাকৃতিকভাবে প্রতি বছর আমার বাসায় মৌমাছিরা বাসা বাঁধে।
পাশাপাশি পরিবারের সদস্যগণ বাসার ছাদে সবজি ও ফলদ গাছের চারা রোপণ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছেন। তবে বাসার ছাদে টমেটো, মরিচ, লাল শাক, বেগুন, ফল ও ওষুধি গাছ রোপণ করে সবজি ও ফলের চাহিদা মেটাচ্ছেন। এতে করে তাদের বাড়তি অন্য কোনো ব্যয় হচ্ছে না। এমন সবজি চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।
কচুয়া কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা মৌ চাকের মধুর স্বাদ এবং পুষ্টিমান অনেক ভালো। মৌমাছিদের কেউ বিরক্ত না করলে তারা এভাবেই থাকবে এবং এখান থেকে অনেক আয় হবে বাড়ির মালিকের। তবে বাসার ছাদে সবজি চাষ এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এখান থেকে ওই পরিবারের সবজি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT