রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নয় বছর পর বাবা মায়ের কোলে ফিরল রানু খাতুন ◈ গুনাগরী এ গনি প্লাজায় হলিউড ফ্যাশন’র ইউনিট ২ ও ৩ এর উদ্বোধন ◈ অপপ্রচারের প্রতিবাদে,ডামুড্যায় সতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন। ◈ কুড়িগ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আতা মাস্টার গ্রেফতার ◈ তিতাস ইয়াং ফ্রেন্ডস ক্লাব এর উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরণ ◈ জামায়াত-বিএনপি সরকার দেশে লুটপাট করেছে: এমপি শাওন ◈ ফুলবাড়ীয়ায় মসজিদে নগদ অর্থ ও অসহায়দের শীতবস্ত্র প্রদান করেছে প্রবাসী পরিবার মানবিক সংগঠন ◈ সিঙ্গাইরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা ◈ কালিহাতীতে ট্রাক চাপায় স্কুল ছাত্রী নিহত ◈ মুক্তাগাছায় ভাইয়ের রাস্তা বন্ধ করল ভাই
শেষ পর্ব

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!!

রাকিব সুমন

প্রকাশিত : ১১:৪০ AM, ২ জানুয়ারী ২০২১ শনিবার ৩৫৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ওই দিন আমি এ্যানির এসব এই কথা গুলো শুনে চুপ হয়ে গেলাম কোনো উত্তর দিতে পারছিনা কি বলব তাকে।কিছুক্ষন চুপ থাকার পরে ভাবলাম এ্যানির কথা গুলো শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি আমরা দুজনে এখন বড় কেউ আর ছোট নয়।তাছাড়া আমার প্রথম ভালোলাগার মানুষটি মূখ থেকে তো শুনতে পেলাম ও আমাকে ভালোবাসে এর চেয়ে এ্যানির কাছ থেকে আমার আর বেশি কিছু চাওয়ার কি দরকার।এমনটায় ভেবে আমি আবার এ্যানিকে জিজ্ঞেস করলাম এ্যানি তুই কি সত্যি আমাকে ভালোবাসিস কোনো ভুল নয় তো?

এ কথাটা বলার পর তখন এ্যানি বলল সুমন তুরও মোটামুটি বুঝার বয়স হয়ছে আর আমারও বুঝার বয়স হয়ছে দুজনের মধ্যে কেউ ছোট নয়।আর এই বয়সে কেউ ভূল করেনা আবেগের বসেও করে না।আমি সত্যি তুকে অনেক ভালোবাসি এটা কোনো ভূল বা আবেগ নয় সুমন কথা দিচ্ছি তুকে আমি পৃথিবীতে যতদিন আছি মরণ পর্যন্ত তুকে ভালোবেসে যাব আর তুকে আমি কোনোদিন ভুলতে পাড়ব না।

দুজনের মধ্যে হাজার কষ্ট ঝগড়া রাগ অভিমান হলেও তুকে আমি ভূলব না আজীবন তুকে ভালোবেসে যাব।এখন শুধু শৃষ্টি কর্তার কাছে চাইবো আমি পৃথিবী থেকে আমাকে যেন তারাতারি নিয়ে যাই।কারণ তুকে ভালোবাসার পর থেকে আমার তুকে ছেড়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে তাই।এবং প্রার্থনা করব পরকালে যেন তুর সাথে আমার মিলন হয় সত্যি সুমন তুকে আমি অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।

তখন এ্যানির এসব কথা কথা গুলো শুনে সত্যি আমার মনে অনেক আনন্দ লেগেছিল।আবার আমি এ্যানিকে জিজ্ঞেস করি হঠাৎ করে আমাকে এতোটা ভালোবাসার কারণ কি? তখন সে বলে যেই ছেলে মায়ের কবর দিয়ে আমাকে দেখার জন্য বাসায় যাই নাই এবং মায়ের মৃত্যুর পরও আমাকে দেখার জন্য পাগল সেই ছেলেটার ভালোবাসা কোনোদিন মিথ্যা হতে পারে না তাই তুকে এতোটা ভালোবেসেছি।তুকে যখন তুর মায়ের কবর দিয়ে আসার পর আমি চলে যাব বলছি আর সেটা শুনে তুই আমাকে দেখতে ছোটে এসেছিস তখনি আমি তুকে অনেক ভালোবাসে ফেলেছি।

বিশ্বাস কর সুমন ইচ্ছা হয়ছিল তখন তুকে ঝড়িয়ে ধরে বলি সুমন আমিও আজ থেকে তুকে অনেক ভালোবাসি অনেক।আমি ওইসময় বললাম হুম বুঝলাম এখন। এর পর সেই রাতে দুজন কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে রাতটা কেটে গেলো দুজনের প্রায় সকাল হয়ে আসলো। রাত শেষে এ্যানি আমাকে বলল সুমন সকালে আর কথা বলব না তুই সকালের নামাজ পড়ে গুমাবি বুঝলি।আর আমি সকাল ৮ টার সময় রেডি হয়ে শশুড় বাড়ী চলে যাবো।ওখানে গিয়ে রান্না বান্না করে দুপুরে পর কথা বলব।তারপর ওই রাতে দুজনে বিদায় নিয়ে অনলাইন থেকে বের হয়ে যাই।এরপর এ্যানি শাশুড় বাড়ীতে চলে যাই ওখানে গিয়ে হাতের কাজ সেরে আমার সাথে কথা বলে।ওই দিনের পর থেকে শুরু হল আমাদের ভালোবাসা রাত দিন দুজনো কথা বলতে বলতে একে অপরের অনেকটা কাছা কাছি চলে আসি।এতোটা কাছা কাছি চলে আসি আমরা কখনো কেউ কাউকে ছাড়া একদিন কথা না বলে থাকতে পারিনা এমন অবস্থা।যদি একদিন মোবাইল বন্ধ থাকে আমার এ্যানি পাগল হয়ে যেতো অনেক কান্না করত আমার জন্য।আমার মোবাইল বন্ধ থাকলে এ্যানি কান্না করে সেজন্য আমাদের একটা ক্লাস মিট ছিল আমাদের বাড়ীর আমার চাচাতো ভাই সম্পর্ক লাগে তার সাথে পরিচয় করায় দিছি।যাতে কোনো সময় আমার মোবাইল বন্ধ থাকলে ওর কাছ থেকে এ্যানি আমার খবর নিতে পাড়ে।

পরিচয় করায় দেয়ার পর যদি কোনো সময় আমার মোবাইল বন্ধ থাকতো চাচাতো ভাই কে ফোন করে কান্না কাটি করতো এ্যানি।তাকে বলতো সুমনের কাছে মোবাইল নিয়ে যা ওকে ফোনটা দে না হয় মোবাইল খুলতে বল আমি কথা বলব ওর সাথে এইভাবে তাকেও বিরক্ত করত আমার সাথে কথা বলার জন্য। মাঝে মাঝে চাচাতো ভাইটা আমাকে বলতো এমন ভালোবাসা আমি আর দেখিনি সত্যি এ্যানি তুকে অনেক ভালোবাসে অনেক তুর জন্য এ্যানি জীবনও দিতে পাড়বে।আমি তখন ওই সব শুনে অনেক খুশি হতাম এই জন্য যে আমার প্রিয় মানুষটা এতোটা ভালোবাসে আমাকে।এ্যানির আমার প্রতি এতো ভালোবাসা দেখে আমি আরো বেশি ভালোবেসে ফেলেছি তাকে।

এতোটা ভালোবেসে ফেলেছি যে একটি মূহুর্তের জন্য সেই অন্য কোনো স্কুল বন্ধুদের সাথে কথা বললেও সহ্য হত না আমার।যদি কোনো বন্ধুর সাথে এ্যানি কথা বলত তখন আমি ঝগড়া করতাম এ্যানির সাথে।এমনটায় ভালোবেসে ফেলেছি এ্যানিকে একটা মিনিটও তাকে ছাড়া থাকতে ইচ্ছা করতো না। তখন এ্যানিকে সব সময় একবারে নিজের বউ করে কাছে রাখতে মন চাইতো আমার। আর ও কোনো বন্ধুর সাথে যেন কথা বলতে না পাড়ে সেজন্য অনলাইনে প্রতিনিয়ত ওর মোবাইলের পিছনে লেগে থাকতাম। এইভাবে প্রায় বছর পেরিয়ে গেলো দুজনের খুব আনন্দে প্রতিটি দিন যাচ্ছিল তখন।এ্যানির সাথে একদিন কথা কাটাকাটির মধ্যে তাকে ইমু চালাতে নিষেদ করি আমি।এ্যানি কিন্তু আমার কথা খুব মানে এবং সব কথা রাখে।এ্যানিকে যেটা বলি সেটায় করে ইমু চালাতে নিষেদ করার সঙ্গে সঙ্গে ও বলল ওকে চালাবো না।তখন আমরা দুজন সবসময় ভিডিও কলে একজন একজনকে দেখে দেখে কথা বলতাম।

একদিন রাতে এ্যানির সাথে কথা বলার আগে তার ইমু চেক করি দেখতেছি সে অনলাইনে আছে নাকি নেই।ওই রাতে হঠাৎ দেখতে পাই আমি এ্যানি ইমু চালু এবং তাকে অনলাইন দেখাচ্ছে।সেদিন থেকে আমার মনে বিরাট একটা সন্দেহ ঢুকে গেল।যেটার জন্য দুজনের আজ দূরত্বটায় বেড়ে গেল।জানি না আমি সেদিন কি ভূল দেখেছি না সঠিক দেখেছি।তবে এ্যানিকে অনলাইন দেখে অনেক রাগ হলো এবং অনেক সন্দেহ ঢুকে গেলো মনে।সেই সন্দেহ টা মন থেকে দূর করতে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি বরং দিন দিন এটায় বেড়ে চলছে।সন্দেহ জিনিসটা এতোটায় খারাপ যা আজকে আমি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারতেছি।সন্দেহ থেকে আজ এ্যানির সাথে আমার বিচ্ছেদ হয়তো ওঠার জন্য আমি বেশি দোষী।যদি সত্যি আমি দোষী হয় আজ আমি এ্যানির কাছে ক্ষমা চায়ছি পিলিজ এ্যানি ক্ষমা করে দে আমায় পিরে আয় আমার কাছে তুকে ছাড়া জীবনটা আমার শূণ্য পিলিজ পিরে আয়। তারপর সে রাতে এ্যানিকে ইমুতে অনলান দেখে সঙ্গে সঙ্গে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করি তুই ইমুতে কেন ডুকলি?সে বলল ডুকি নাই তখন মাথাটা অনেক খারাপ হয়ে গেল আমার।আমি নিজ চোঁখে দেখলাম অনলাইন আর ও বলতেছে ঢুকে নাই।সেদিন রাতে এটা নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়ছিল দুজনের মধ্যে একপর্যায়ে রাগারাগির মধ্যে লাইন কেটে দি।পরে রাতে আর ঘুম আসেনি চোঁখে টেনশনে শুধু উল্টা পাল্টা মনে আসতেছে সব সন্দেহের বীজ।যাক পরের দিন নিজের মনকে শান্তনা দি আমি এ্যানি আমার সাথে এমন করবে না হয়তো আমার ভূল হয়ছে কিছু একটা এমন হবে।আমি কিন্তু ঝগড়া করি সেটা সত্য তবে দুই থেকে তিনদিনের বেশি এ্যানির সাথে কথা না বলে থাকতে পারিনা।কারণ এ্যানির কথা মনে হলে কান্না চলে আসে আমার তখন নিজ থেকে মেসেজ দিয়ে উল্টা পাল্টা বলে ঝগড়া মিটমাট করি।পরে সেই রাতে আর কোনো কথা হয়নি তার একদিন পর ঝগড়া মিট করে কথা বলি।কিন্তু সেদিনের পর থেকে এ্যানির সাথে কিছুদিন পর পর ঝগড়া হত।

কারণ সমস্যা ওই একটায় সেদিনের সন্দেহটা আমার মনে বীজ জন্মায়ছে প্রতিনিয়ত আমাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।এই সন্দেহটার পর থেকে আমার মনে এ্যানিকে হারানোর ভয় এসে গেলো।কিন্তু আমিত এ্যানিকে হারাতে পারবনা কারণ এ্যানিকে এতো বেশি ভালোবেসেছি তাকে ছেড়ে থাকাটায় অসম্ভব।এই সন্দেহের পর থেকে প্রতিনিয়ত তাকে আমি বিভিন্ন অ্যাপে এদিক ওদিক চেক করতাম শুধু দেখতাম এ্যানি কোনোদিকে অনলাইনে আছে কিনা সেটা। এভাবে সন্দেহের মধ্য দিয়ে দুজনের সম্পর্ক চলতে লাগল।এই সন্দেহে কারণে আমাদের সম্পর্কের মধ্যে দিনের পর দিন এ্যানির সাথে আমার ভিন্ন রুপ নিচ্ছে।এভাবে প্রায় এ্যানির সাথে আমার সম্পর্ক দেড় বছর কেটে গেল।কিন্তু এর পরেও সন্দেহটা কমছে না শুধু বাড়তেছে।এটার কারণে তখন এ্যানির সাথে আমার কোনো ধরনের ঝগড়া হলে মাঝে মাঝে মোবাইল বন্ধ করেদিতাম আর ব্লক করে রাখতাম তাকে।যখন ঝগড়া করে এসব করতাম এ্যানি সেই আগের মত পাশের চাচাতো ভাই কে ফোন করে খবর নিতো আমার জন্য কান্না করত।যখন এ্যানি কান্না করত তখন আমি সব ভুলে যেতাম কারণ এ্যানির কান্নাটা সহ্য হয় না আমার।

ওর কান্না চেহেড়া দেখলে আমি পাগল হয়ে যাই তখন ক্ষমা করে দিতাম।এই সন্দেহের কারণে যখন ঝগড়া করে মাঝে মাঝে মোবাইল বন্ধ করে দিতাম সেজন্য এ্যানি একদিন কিছু কথা বলছিল আমাকে।কথা গুলো এখনো আমার চ্যাট লিষ্টে আছে যা পড়ে পড়ে আমি এখনো চোঁখের জ্বলে বালিশ বেজায়। সেদিন বেশি ঝগড়ার কারণে এ্যানি আমাকে বলেছিল সুমন ঝগড়া যখন হচ্ছে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো ভূল বুঝা বুঝির কারণে তাই তুকে কথা গুলো বলে রাখতেছি। আমাদের মধ্যে যেমন ঝগড়া হবে হোক কখনো তুর মোবাইল বন্ধ করবি না।কারণ তুর মোবাইল বন্ধ থাকলে তুর সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে আমি পাগল হয়ে যাই তখন মরে যেতে ইচ্ছা করে।সত্যি সুমন বিশ্বাস কর শপথ করে বলতেছি তুকে ছাড়া আমি এক মূহুর্ত ও থাকতে পারেনি না।তাই আমার সাথে তুর হাজার ঝগড়া হলেও মোবাইল বন্ধ করিসনা অনলাইনে ব্লক মারিস না আমাকে।যদি তুই রাগ করে কথা না বলিস আমার সাথে অন্তত তুকে অনলাইনে দেখে হলেও মনকে শান্তি দিতে পাড়ব।

পিলিজ সুমন সত্যি করে বলতেছি শপথ করে বলতেছি তুকে ছাড়া আমি বাচঁতে পারবো না। তখন আমি এ্যানি কে বললাম আচ্ছা করব না।তবে তুকে একটা কথা আমি বলি এ্যানি ধর সন্দেহের কারণে রাগের মাথায় হয়ত ভূল করে আমি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলি আর ভূলের কারণে যদি তুর আর আমার সম্পর্কের কথা জানা জানি হয়ে যাই তখন তুর থেকে মোবাইল সব কেড়ে নিবে।তখন তুই কি করে আমার সাথে কথা বলবি?কিভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করবি?আর তুই তো জানিস আমার রাগটা ক্ষনিকের রাগ আবার চলে গেলে তুকে আমি খুঁজব তখন কি করে কোথায় তুকে পাবো?ওই সময় এ্যানি আমাকে বলল জানি না কি হবে।তবে তুর সাথে কথা বলা ছাড়া আমি থাকতে পারবো না এইটা জানি।যদি এমন কিছু হয় যে কোন উপায়ে হলেও তুর সাথে কথা বলতে হবে আমার।তখন ওই কথাটা শুনার পর মনে মনে শান্তি পেলেও যাক তাহলে আর চিন্তা নাই।এরপর আবারও বেশ কিছুদিন শান্তিতে কথা চলছিল দুজনের।কিন্তু কেন জানি তখন এ্যানিকে হারানোর ভয়টা বেশি হত আমার।কিন্তু আমি এ্যানিকে হারাতে পাড়ব না যদি ঝগড়া হত আমাদের মধ্যে তখন বলতাম এ্যানি তুই আমার কাছে একবারে চলে আয়।

তাহলে তুর আর আমার মধ্যে কোনো সন্দেহ থাকবেনা ঝগড়াও হবে না।ঝগড়া মূল কারণ হচ্ছে একটা তুকে হারানোর ভয় কিন্তু আমি তুকে হারাতে পারবো না তুকে ছাড়া আমি আর কিছু বুঝিনা বাছ।তাছাড়া তুই তো আমাকে অনেক ভালোবাসিস আসতে পারবিনা আমার কাছে?আমরা দুজন অনেক দূরে চলে যাবো যেখানে কেউ খুঁজে পাবেনা না আমাদের।এসব বলার পর কিন্তু এ্যানি সেটাতে রাজি হতনা।আর রাজি না হলে আরো বেশি ঝগড়া হতো দুজনের মধ্যে।আমি মাঝে মাঝে এ্যানিকে বলতাম কেমন সত্যিকারের ভালোবাসিস আমাকে?সত্যিকারে ভালোবাসলে বিয়ে করতে পারবিনা কেন?আমার কাছে আসতে পারবিনা কেন?এ্যানি তখন আমাকে নানা ধরনের সমস্যার দেখাতো কিন্তু আমি ওইসব মানতে পাড়তাম না।কারণ এ্যানিকে এতো বেশি ভালোবেসে ফেলেছি যে তখন সেই অন্যের ঘরে থাকে সেটাও আর সহ্য করতে পারছিনা।

আর এসব ঝগড়ার কারণে মাঝে মাঝে এ্যানি আমাকে ভয় লাগাত।বলত সুমন তুই যে এমন করতেছিস কোনোদিন যদি আমি হারিয়ে যাই তুর কাছ থেকে তাহলে আমাকে খুঁজে পাবি না। তখন আমি এ্যানির এসব কথা শুনে কষ্টে পেতাম অনেক।তখন ভাবতাম আমি হয়তো এখনো এ্যানিকে বুঝাতে পারিনি ও আমার কি সেটা।এ্যানির কথায় কষ্টে পেয়ে আমার চোঁখের জ্বল আসলে তখন এ্যানি বলত সুমন কষ্ট পেয়েছিস দুস্টামি করেছি আমি।আমিও তুকে ছাড়া কোনোদিন থাকতে পারবো না সত্যি শপথ করে বলেতেছি তুর কন্ঠটা না শুনলে আমি মরে যাব পাগল হয়ে যাব। তখন এ্যানির এসব শপথ করা দেখে দিন দিন আমি আরো দূর্বল হয়ে পড়েছি তার প্রতি।কারণ বিশ্বাস না করে পারতাম না।এ্যানির এই শপথ করা বিশ্বাসের উপর চলতেছিল দুজনের দিনকাল একটু ঝগড়া একটু শান্ত আবার দুজন এক হয়ে ভালোবাসা-বাসী।কিন্তু আমি কোনোভাবে ইমুর অনলাইন দেখা সেই সন্দেহটা মন থেকে মুছে ফেলতে পারিনি।মাঝে মধ্যে সন্দেহের কারণে এ্যানি কে ভিডিও কল দিয়ে ওকে গুমাতে বলতাম আর আমি চেয়ে থাকতাম তার দিকে সকাল হলে লাইন কাটতাম।অবশেষে একদিন এমনটায় করতে করতে দুইবছর শেষ না হতে আমাদের ভালোবাসা একটা অজানা ঝড় এসে দুজনকে আলাদা করে দিয়েছে। আমি আর এ্যানি এখন দুজন দুজন থেকে অনেক দূরে শত চেষ্টা করেও এ্যানির সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছিনা।অবশ্যই সেসময় দুজন আলাদা হওয়ার ও কারণ একটা ছিল।জানি না হয়তো সেটা আমার ভূল কিনা যদি ভূল হয় সেই ভূলের জন্য এ্যানির কাছে ক্ষমা চাই আমি।কারণ আমার মনে সেই অজানা ঝড়টা আমার চোঁখে আরো বেশি সন্দেহ এনেছে দিয়েছে।

যেটার জন্য আমি আরো বেশি সন্দেহ করেছি এই বুঝি এ্যানি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার অভিনয় করছে। তখন সন্দেহের কারণে আমি সেই অজনা ঝড়ের সাথে তাল মিলিয়ে যোদ্ধ করেছি অনেক যেন এ্যানিকে না হারায় ওকে যেন আমার কাছে পাই।এ্যানিকে আমার জীবনে একবারে পাওয়ার আশায় সেই অজানা ঝড়ের সাথে আমি মিশে গেছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এ্যানিকে কাছে পেতে চেয়ে নিজেই হয়ে গেছি এ্যানির কাছে ধোকাবাজ। যেটা সেই অন্যকে বলে বেড়িয়েছে সেটা আমি মানতে পারিনি তখন।এ্যানিকে অনেক বেশি ভালোবাসি তাকে হারানোর কষ্ট সহ্য করতে পারবোনা।তাই এ্যানিকে আমার করে নিতে চেয়েছি সেজন্য ভিন্ন পন্তায় চেষ্টা করেছি ও যেন আমার হয়।অতচ সেদিনের সেই ভিন্ন চেষ্টা আমাকে আরো দূরে সরিয়ে দিয়েছে ভূল বুঝেছে এ্যানি আমাকে।

এ্যানি আজ নেই আমার কাছে তবুও বলি এ্যানি তুকে একবারে নিজের করে নিতে চেয়ে ভিন্ন চেষ্টা করেছি আমি আর সেদিনের সেই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তুকে একবারে হারিয়েছি।সেদিনের পর এ্যানি যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে আমার সাথে ভেবেছি সেই দুএকদিন পর কল দিবে এবং আমাকে গালি দিয়ে হলেও মনকে শান্ত করে আমার সাথে কথা বলবে।কারণ এ্যানি জানে আমি ওর সাথে কথা না বললে পাগল হয়ে যাই আর এ্যানিও সেইম আমার মত তাই যোগাযোগ হবেনা আর উঠা মনে মনে বিশ্বাস করেনি আমি। তখন মনে মনে ভেবেচি রেখেছি দুএকদিন যাওয়ার পর যোগাযোগ করবে আর বলবে আমাকে ও ভালো নেই। কিন্তু ভূল ভেবে ছিলাম সেদিন বুঝেছি যেদিন আমার সাথে এ্যানির যোগাযোগ বিহীন এক সপ্তাহ গত হয়েছিল। যখন এক সপ্তাহ গত হয়েছিল তখন আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না পাগল হয়ে গেছি আমি যখন এ্যানি এক সপ্তাহ পার হওয়া পর কোনো যোগাযোগ করেনি আমার সাথে।তখন নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে করোনা ভাইরাসে মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এ্যানিকে প্রতিদিন এদিক ওদিক খুঁজতাম।কোথাও এ্যানির দেখা পেতাম না।মোবাইল থেকে শুরু করে সব কিছুই এ্যানির বন্ধ কোনো খবর পাচ্ছিনা।প্রতিনিয়ত তার বাসার সামনে গুর গুর করেছি কিন্তু এ্যানিকে দেখিনি।অবশেষে খুঁজতে খুঁজতে একদিন বুঝতে পাড়লাম এ্যানি তার বাসাটাও চেন্স করে ফেলল। সেদিনের পর থেকে আমি এতোটায় ভেঙে পড়েছি যে বেঁচে থাকার ইচ্ছাটায় একবারে মরে গেছে। আজ আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি মনের যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর আশায় প্রহড় গুনছি।আজ এ্যানির কাছে বড় জানতে ইচ্ছা করে তাকে একটিবার জিজ্ঞেস করতে এ্যানি তুকে নিজের কাঁছে আপন করে রাখতে খুব কাঁছে চেয়ে কি ভূল করেছি !

কেন সেই ছোট বেলা থেকে জীবনের এই অর্ধ বয়স পর্যন্ত বার বার আমার জীবনটা কে এভাবে নষ্ট করে দিলি?কি অপরাধ করে ছিলাম তুর কাঁছে আমি ? কেন সেদিন বলেছি সুমন তুই কাছে ডাকলে আমি তুর কাছে না গিয়ে থাকতে পাড়ব না? কেন সেদিন ভালোবেসে ছেড়ে যাবিনা বলে মিথ্যা ওয়াদা দিয়েছিলি ? কেন সেদিন ভালোবেসে আমার সাথে কথা বলতে না পারলে মরে যাবি বলে মিথ্যা শপথ করেছিলি? আমি তুর যাওয়ার পর থেকে তুর দেয়া শর্ত গুলো এখনো অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেছি।তাহলে তুই কেন ভালোবেসে শপথ করে সবকিছু ভূলে গেলি? কই আমি তো ভূলিনি তুর কোনো কিছুই কিভাবে বা ভূলব কারণ আমি তুকে ভালোবেসিছি অভিনয় করেনি। এ্যানি আমার বুকে তুর জায়গাটা কেউ দখল করতে পারবেনা কোনোদিন কাউকে রাখতেও পারবো না সেখানে।

আজীবন তুকে এইভাবে ভালোবেসে যাব অপেক্ষায় থাকবো সারাজীবন তুর জন্য।যেদিন তুই ক্লান্ত হয়ে পিরে আসবি আমার কাঁছে সেদিনও তুকে আমি হাসি মূখে গ্রহন করব। আমার ভালোবাসায় কোনো ভূল ছিলনা সত্যিকারে ভালোবেসেছি তাই আজীবন অপেক্ষায় থাকব তুর। কিন্তু বড় দূর্ভাগ্য আমার কথা গুলো আজ এ্যানির কাছ থেকে জিজ্ঞেস করতে পারছিনা।কারণ সেই আজ সম্পর্ক বিচ্চিন্ন করে চলে গিয়েছে চার মাসের ও বেশি নেই কোনো যোগাযোগ।অতচ একসময় এ্যানি আমাকে ভালোবাসে কত বড় বড় শপথ করেছে।তাহলে কি এ্যানি আমার সাথে মিথ্যা ওয়াদা আর মিথ্যা শপথ করেছিল।নাকি আমি এ্যানির প্রয়োজন ছিলাম প্রিয় জন না। নয়তো এতো বড় বড় শপথ করার পরেও আজ প্রায় চার মাসের ও বেশি আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছেনা কেন?।মনে হয় যোগযোগ করার চেষ্টাও করেনা।যদি আমাকে দেওয়া মিথ্যা ওয়দা আর মিথ্যা শপথ না হতো তাহলে অন্তত আমার সাথে একটু হলেও তো যোগাযোগ করত। জানি না এ্যানি কি জন্য আমাকে ভালোবেসে ছিল !

একসময় জানতাম ভালো যাকে তাকে বাসা যাইনা আর ভালোবাসলে তার থেকে দূরেও তাকা যাইনা।কিন্তু এ্যানি তার বিপরিত ও কাছে আসবেনা দূর থেকে ভালোবাসবে তবে যোগাযোগটা রাখবে বলেছিল।কিন্তু এখন সেই যোগাযোগ রাখার কথাটাও ভূলে গেল এ্যানি।এ্যানি শপথ করে বলেছিল সেই সত্যি সত্যি আমাকে ভালোবাসে অতচ এ্যানি কখনো ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের আপন করে পেতে চাইনি। এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!! যা এখনো আমি জানতে পারিনি !

এ্যানির ভালোবাসার চাহিদা টা চিল এমন দেখা হবে কথা হবে অতচ কেউ কাউকে নিজের আপন করে চাইতে পাড়বে না। যে ভালোসার শুধু অথিত থাকবে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বলতে কিছুই থাকবেনা। ভালোবাসার মানুষটি কে কোনোদিন আপন করে পেতে কোনো ইচ্ছা থাকতে পাড়বে না।শুধু ভালোবাসি এই মানুষটা কে সেটা মোবাইলে আর মাঝে মাঝে দেখায় থাকবে আর কিছু না।

সত্যি বলতে এ্যানির কাছে ভালোবাসা কথাটা শুধু মূখে আর নামে থাকতে পাড়বে, কিন্তু সেই ভালোবাসার দাড়ি কমা কিচ্ছু থাকতে পাড়বে না।বলতে গেল এই যেন এ্যানির হৃদয়ে থেকে দেয়া আমার জন্য এক অদ্ভুত ভালোবাসা…!!!

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!!

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা!!!

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT