রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্তির শর্ত শিথিল হতে পারে

প্রকাশিত : 05:43 AM, 19 November 2019 Tuesday ২৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

চারটি ‘কঠিন’ শর্ত পূরণ করতে না পারায় সর্বশেষ ঘোষিত মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ পড়ে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে একসাথে এমপিওভুক্তির দাবি করেছিলেন শিক্ষকরা। শেষ পর্যন্ত গত মাসে সরকার দুই হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে। তবে আরও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় আনতে চায় সরকার।

এ জন্য বিদ্যমান শর্ত শিথিল করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তারই অংশ হিসেবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ পর্যালোচনার জন্য কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নীতিমালা পর্যালোচনা করে তা সংস্কারের সুপারিশ করবে। এতে চলতি বছরেই ফের নতুন করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন শিক্ষকরা।

তারা বলছেন, যে নীতিমালা অনুসরণ করে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে তা খুব কঠিন। কিছুটা সহজ করলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় আসতো।

এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি পেতে প্রধান চারটি শর্ত পূরণ করতে হয়েছে। চারটি শর্তের জন্য ১০০ নম্বর রাখা হয়েছিলো। একাডেমিক স্বীকৃতির তারিখের জন্য ২৫ নম্বর ছিলো। প্রতি দুই বছরের জন্য ৫ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছরের জন্য ২৫ নম্বর ছিলো। শিক্ষার্থী সংখ্যার জন্য ২৫ নম্বর। আর শিক্ষার্থীর কাম্য সংখ্যা থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৫ নম্বর ছিলো। এরপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য ৫ নম্বর। পরীক্ষার্থী এবং উত্তীর্ণের সংখ্যায়ও একইভাবে নম্বর বণ্টন করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এমপিওভুক্তির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ থাকার পরও যোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের জন্য যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এর প্রায় অর্ধেক টাকা থেকে গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্তিকরণ ফাইলে লেখা হয়েছে, যেহেতু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৪১৪ কোটি টাকা অবশিষ্ট আছে, তাই এই অর্থ দিয়ে আবার যাচাই-বাছাই করে চলতি অর্থবছরেই আবারো এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান নীতিমালাটি (২০১৮) পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য চলতি মাসের ১২ তারিখে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার উপসচিব মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, ব্যানবেইস এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের একজন করে মনোনীত কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়কে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার উপসচিবকে।

তবে, কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপট করতে পারবে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

এদিকে, নতুন এই কমিটি খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলছেন, নীতিমালা পর্যালোচনার জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আমার সংবাদকে বলেন, এমপিও নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করছেন।

এদিকে, নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য নতুন করে কমিটি গঠন হওয়ায় এমপিওভুক্তি নিয়ে ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এমপিও তালিকা থেকে বাদপড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, এবার যেন নীতিমালাটি সহজ করা হয়। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠান যেন এমপিওভুক্তি হয় তেমন নীতিমালা চান তারা।

বিষয়টি নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার আমার সংবাদকে বলেন, এমপিও নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটির সদস্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দুজনকে রাখা হয়েছে। আমরা চাইবো অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন এমপিওভুক্ত হয়। নীতিমালাটি সংস্কারে আমরা এমন প্রস্তাবই দিবো।

এমপিও নিয়ে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেছিলেন, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এ বছরের এমপিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান এমপিও নীতিমালা সংশোধন করা হবে। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর এমপিও দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও করা হয়েছে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৮৮১ কোটি টাকা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন স্কুল ও কলেজ রয়েছে এক হাজার ৬৫১টি। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অধীনে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এক হাজার ৭৯টি।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন পড়েছিল ছয় হাজার ১৪১টি। এর মধ্যে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে এক হাজার ৬৫১টি। বাকি চার হাজার ৪৯০টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া সম্ভব হয়নি।

চলতি অর্থবছরে স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ছিল ৮৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু এমপিও পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা এক হাজার ৬৫১। তাদের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৪৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যোগ্য প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় ৪১৪ কোটি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।

অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে এক হাজার ৭৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৪৩০ কোটি টাকা। আর এই বিভাগে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ ছিল ২৮২ কোটি টাকা। বাকি ১৪৯ কোটি টাকা চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ সাপেক্ষে সমন্বয় করা হবে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগকে একত্র করে ধরা হলে এমপিওভুক্তির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর যে পরিমাণ যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে তাদের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৮৮১ কোটি টাকা। আর ২৬৬ কোটি টাকা অব্যয়িত থাকবে।

এদিকে, এ বছর ঘোষিত এমপিওভুক্তির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ না করেই এমপিওভুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেছিলেন, যেসব নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর অনুকূলে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অংশ (এমপিও) দেয়ার সময় যাচাই করে দেয়া হবে। যেসব তথ্যের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, যাচাইয়ে যদি তা ভুল বা অসত্য প্রমাণ হয়, তাহলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT