রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৪:৪৪ অপরাহ্ণ

এগোচ্ছে না মামলা সাক্ষীর অভাবে

প্রকাশিত : ০৬:৩৮ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৩০০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ১৮ মামলার একটিরও বিচারকাজ শেষ হয়নি। মূলত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে মামলাগুলোর বিচার কাজ এগোচ্ছে না। এ অবস্থায় মামলাগুলোর ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বিহার ও বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কক্সবাজারের রামু উখিয়ার বৌদ্ধবিহার ও পল্লী। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শত বছরের সাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য। সেই হামলার আজ ৮ বছর। আজ সারাদিন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কালোদিনটি স্মরণ করবে কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

ফেসবুকে একটি ছবি ট্যাগ করাকে কেন্দ্র করে ধর্মান্ধতার আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বিহারগুলো। লুট হয় প্রাচীন ও দুর্লভ অনেক বুদ্ধমূর্তি। পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর একই হামলা সংঘটিত হয় উখিয়ার বিহারে। দুদিনে রামু ও উখিয়ার ১৯টি বৌদ্ধবিহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৮টি মামলা করেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা করলেও পরবর্তী সময়ে বিবাদীদের সঙ্গে আপস করেন। বিচারাধীন ১৮ মামলায় সাক্ষী না পাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। এ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু হতাশাও রয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় নেতা অলক বড়–য়া বলেন, সমস্যা না হলেও আমরা একটু শঙ্কিত। কারণ মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

একই আশঙ্কার কথা জানিয়ে রামু সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়–য়া বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গার ঢল আসার পর থেকে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

রামুর কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ যুব পরিষদের সহ-সভাপতি সুনিল বড়–য়া বলেন, মাত্র ১ বছরের মাথায় সব ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধবিহারগুলো পুনর্নির্মাণ করে দিয়েছে। এ জন্য আমরা রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের আবাসিক অধ্যক্ষ প্রজ্ঞানান্দ ভিক্ষু বলেন, বিচারাধীন মামলায় সাক্ষী না পাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি। এ নিয়ে কিছুটা হতাশা থাকলে ও এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সে রকম দৃষ্টান্ত চান তারা।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধধর্মীয় গুরু প-িত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, আমরা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। যদিওবা সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আরও নিরাপত্তা প্রয়োজন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ২০১৭ সলে এ দেশে রোহিঙ্গা আসার পর বৌদ্ধ সম্প্রদায় কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পদক্ষেপে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিহারসহ সব বৌদ্ধপল্লীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশপাশি প্রতিটি বিহারে এপিবিএন দায়িত্ব পালন করছে।

রামু-কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, এ সহিংসতার সাথে জড়িতরা আজ ঘৃণিত, তারা সবার কাছে অপরাধী।

রামুর ঘটনার ৮ বছর উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি রয়েছে। ভোর ৫টায় বুদ্ধপূজা, সকাল ৭টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ৯টায় অষ্ট পরিষ্কার দান, দুপুরে অতিথি ভোজন, দুপুর ২টায় শান্তি শোভাযাত্রা, সাড়ে ৩টায় স্মরণসভা, সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT