রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এখনও ট্যানারির বর্জ্য উপচে পড়ছে নদীতে

প্রকাশিত : ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার ৪০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারির তরল বর্জ্য পাইপ থেকে উপচে পড়ছে ড্রেনে। সেখান থেকে যাচ্ছে নদীতে (ইনসেটে)। ছবিটি মঙ্গলবারের – মিরাজ শামস
ট্যানারি থেকে নদীদূষণ এখনও থামেনি। বুড়িগঙ্গায় দূষণের কারণে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে তিন বছর আগে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তর করা হয়। বুড়িগঙ্গার পরিবর্তে এখন ধলেশ্বরী দূষণের শিকার। এবার ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়ার কারণে দূষণ আরও বেড়েছে। ট্যানারির তরল বর্জ্য পাইপলাইনের ম্যানহোল উপচে সড়কে পড়ছে। পাশে থাকা ড্রেনের মাধ্যমে তা গিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন সাভার শিল্পনগরী পরিদর্শনে যান শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তারা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্য শোধনসহ সব সমস্যা সমাধান করা হবে। এসব কাজ শেষ করে আগামী বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপে সনদ পেতে নিরীক্ষার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। আগামী বছরে সনদ অর্জন করা সম্ভব হলে চামড়া রফতানির দুয়ার খুলবে বলে মনে করেন তারা।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে চালু থাকা ১১৪ ট্যানারিতে আসছে কোরবানির পশুর চামড়া। চামড়া এখন পুরোদমে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। একসঙ্গে চালু থাকা বেশির ভাগ ট্যানারি থেকে নিয়মিত বের হচ্ছে তরল ও কঠিন বর্জ্য। এ বর্জ্য পরিশোধন ও ব্যবস্থাপনায় শিল্পনগরীর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে বিসিক জানায়, নিয়ম অনুযায়ী চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বর্জ্য ফেলছে না ট্যানারিগুলো। তারা তরল বর্জ্যের পাইপলাইনে কঠিন বর্জ্য ফেলছে। এতে ম্যানহোল দিয়ে উপচে পড়ছে বর্জ্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শিল্পনগরীর বৃষ্টির পানির ড্রেন দিয়ে এখন ট্যানারির তরল বর্জ্য নদীতে পড়ছে। প্রায় সব ড্রেন দিয়ে যাচ্ছে কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য। এ বর্জ্যের উৎস খুঁজে দেখা যায় আনোয়ার ট্যানারি, তাজ ট্যানারি, আজমীরী ট্যানারি ও মুক্তা ট্যানারির সামনের ম্যানহোল উপচে বর্জ্য রাস্তায় পড়ছে। সেখান থেকে বৃষ্টির পানির ড্রেন দিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ছে। অনেক সড়কে বর্জ্য শুকিয়ে স্তূপ হয়ে আছে। শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখন পুরোপুরি পরিশোধনে সক্ষম হয়নি। সিইটিপি থেকে পাইপ দিয়ে নদীর মধ্যে বর্জ্যমিশ্রিত পানি ফেলা হচ্ছে। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকে এভাবেই বর্জ্য যাচ্ছে নদীতে। এ সমস্যা সমাধানে মাঝেমধ্যে তরল বর্জ্যের পাইপ পরিস্কার করা হলেও সমাধান হয়নি। এ বর্জ্য সিইটিপিতে যেতে খুবই ছোট পাইপ বসানো হয়েছে। ট্যানারি থেকে একসঙ্গে হাজার হাজার লিটার পানি ছাড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে। সিইটিপির সক্ষমতা কম থাকায় বর্জ্য উপচে পড়ে। ধলেশ্বরীর নদীর পাড় ঘুরে দেখা গেছে, চামড়া শিল্পনগরীর সব ড্রেনের লাইন থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জুয়েল জানান, বর্ষা মৌসুম হলেও এখন আর নদীর পানি ব্যবহারের উপযোগী নেই। নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। ফলে তারা পানি ব্যবহারও বন্ধ করেছেন।

এলডব্লিউজি সনদ পেতে প্রস্তুতি :গতকাল চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় শিল্পমন্ত্রী চামড়া রফতানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এলডব্লিউজি সনদ অর্জনে এখন থেকে মক অডিট পরিচালনা করতে হবে। এ অডিটের ফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বাস্তবায়নের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। চামড়া খাতে রফতানি বাড়াতে ডিসেম্বরের মধ্যে সিইটিপির পাশাপাশি পুরো শিল্পনগরীকে এলডব্লিউজি সনদের আওতায় আনা হবে। সভায় জানানো হয়, সিইটিপির ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শতভাগ শেষ করতে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT