রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এক বছরে মন্দ ঋণই বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : 02:05 AM, 28 November 2019 Thursday ৬৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি। উল্টো এ সময়ে ব্যাংকগুলোর ২২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার ঋণ নতুন করে খেলাপি হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭৩ কোটি টাকাই মন্দ মানের খেলাপি। গত এক বছরে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা।

যদিও গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাপি ঋণ বাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

গত নয় মাসে শুধু পরিমাণ নয়, খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ হার ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশে ঠেকেছে।

অথচ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ঋণ শ্রেণীকরণের সময় বাড়ানো হয়েছে। জারি করা হয়েছে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই (জানুয়ারি-জুন) পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। পরবর্তী সময়ে তিন মাসেও রেকর্ডসংখ্যক ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। তার পরও কমেনি খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ।

তিন মাস অন্তর দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ও খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন গতকাল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার ঋণ। জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত তিন মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো অর্থহীন। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কারণেই দেশের ব্যাংকিং খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। অন্যরাও এতে উৎসাহ পাচ্ছে। খেলাপিদের যদি ভালো গ্রাহকদের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি খারাপই হবে।

শ্রেণীকৃত ঋণের শেষ ধাপ হলো মন্দ ঋণ। এ শ্রেণীর ঋণ আদায় প্রায় অনিশ্চিত হওয়ায় অবলোপন করে ব্যাংকগুলো। গত এক বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে শুধু মন্দ ঋণই বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণ ছিল ৮২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ক্ষতিজনক মানের এ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকৃত ঋণের ৮৬ দশমিক ৪০ শতাংশই বর্তমানে মন্দ মানের।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে সঞ্চিতি ঘাটতি থেকে বেরোতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৬২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৫৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিকে হতাশাজনক বলে মনে করেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ হলো ক্যান্সারের মতো। একটি অঙ্গ সংক্রমিত হলে তা অন্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে। একসময় গণহারে খেলাপির সংস্কৃতি ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয়। এখন এটি বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ আমরা একই পরিবেশ ও সংস্কৃতিতেই ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছি।

এ ব্যাংকার বলেন, গত তিন মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল শ্লেথ। পুনঃতফসিল করা ঋণগুলোও নিয়মিত থাকছে না। এ কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোরও খেলাপি ঋণের হার কিছুটা বেড়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ নয় মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে বেশি তত্পর হয়। এজন্য ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ফলে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ কমে আসবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT