রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লালপুরে নন-এমপিও শিক্ষকদের মাঝে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ ◈ রাজশাহীর আম ফের বিদেশে রপ্তানি শুরু, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশ ◈ ধুনটে বিট পুলিশিং গঠনে মতবিনিময় সভা ◈ পুঠিয়ায় সমঝোতায় সরকারী ৩ পুকুরে মাছ চাষ করছে কুখ্যাত রাজাকার নাতি, লিজ বাতিল করতে লিখিত অভিযোগ ◈ বগুড়া সদরে নতুন আক্রান্ত ৪৯জন যে এলাকার ◈ ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ◈ সওজের শূদ্ধাচার পদকে ভূষিত হলেন প্রকৌশলী সাইফউদ্দিন ◈ হোটেল কক্ষে ইয়াবা সেবন করায়  ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক ৩ ◈ ১২ জুলাই নাটোরে নতুন ১২ জনের করোনা পজিটিভ ◈ ধর্মপাশায় বন্যা দূর্গতদের পাশে এমপি রতন

এক দিবসের গল্প

প্রকাশিত : ১০:১০ PM, ২৯ জুন ২০২০ Monday ৭৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এক দিবসের গল্প

মনির মোহাম্মদ


নতুন একটা লাল টকটকে গেঞ্জি, আর এক বাক্স সুগন্ধি ছড়ানো দম পোলাও আমার সামনে। জিনীস দুটো দেখে আমার লোভী চোখ দুটি চকচক করছে।প্যাকেটটা খুলেই টকটকে গেঞ্জিটা পড়ে গোগ্রাসে সুগন্ধী বিরানীর প্যাকেটটা শেষ করে ফেললাম। অনেক দিন পর নতুন কাপড় আর পেট ভরে ভাল খাবার, দিন আজকে ভালই শুরু হয়েছে। এত খিদে লেগেছিল বাসায় একা থাকা ছোট্ট বোনটার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।

আবার এক দৌঁড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানো সাহেবদের গাড়ির কাছে ছুটে গেলাম। এক জন বলল ঐ হারামীর বাচ্চা আবার কি চাছ? কি ভাবছেন গালি শুনে আমি চলে এসেছি? আমি প্রতিদিন এই সব গালি শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি কিন্তু সত্যিই হারামীর বাচ্চা, কি বিশ্বাস হয়না? আমার কিন্তু বাপের কোন পরিচয় নেই। ঐ যে কাওরান বাজার রেল লাইনের পাশে অনেক গুলো ঝুপড়ি ঘর আছে ঐখানের একটায় আমি থাকি।

খালেক চাচা নামের একজন আমাকে অক্ষর লেখা শিখিয়েছিলেন। সেই থেকে বাংলাটা পড়তে পারি। কিন্ত কিছুদিন আগে খালেক চাচা রেলে কাটা পড়ে। মজার ব্যাপার আমি কোন দিন স্কুলে যাইনি,আমি ভাল ইংরেজিও বলতে পারি। যেমন কেউ কিছু দিলে থ্যাংকইউ, ওয়েল কাম। আ লাভ ইউ আরো অনেক ইংরেজি জানি। কেউ কেউ ইংরেজি শুনে খুশি হয়। আবার অনেকেই আমার ইংরেজী শুনে বত্রিশটা দন্ত্য বের করে হাসি দেয়। আমার কিন্তু দারুণ লাগে। যাক অবশেষে অনেক বুঝিয়ে আর একটা প্যাকেট পেলাম। মা আজ দুমাস হল কোথায় জানি গেছে।

কেউ কেউ বলে তোর মা ট্রাক ড্রাইভার এর সাথে বাইগ্যা গেছে। বাইগ্যা যায়নি হয়ত আবার বিয়ে করেছে। আমার যে বোনটা আছে সে কিন্তু আমার আপন বোন না। মা একদিন কোলে নিয়ে এসে বললেন তোর বইন হইছ্যে। আমি ছোট্ট মানুষ এত কিছু বুঝি না। কিন্তু বোনটাকে আমি অনেক ভালবাসি। সমস্যা হয়েছে সকাল থেকে মা মা করে কেঁদে যাচ্ছে। কি করি একে নিয়ে?

ঐযে সাহেবরা বলল আজ নাকি বাবা দিবস।আমার তো বাবাই নাই। আচ্ছা এই দিবসে কি করে? ভাল ভাল খাবার, নতুন নতুন কাপড় দেয়? আমার মা গত চার বছর ধরে একটা শাড়ি পড়ে থাকে। গোসলের সময় শাড়ীটা খুলে শুধুই ব্লাউজ আর পেটিকোর্ট পড়ে বসে থাকে। কয়েকটা লোক মাঝে মঝেই বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিত। মায়ের শাড়িটা অনেকদিন হয়ে গেল, ছিঁড়ে যায় যায় অবস্থা ।

আমি চুপিচুপি টাকা জমাচ্ছি, সামনের ঈদে মায়ের জন্য একটা নতুন কলাপাতা রঙের শাড়ি কিনব। কিন্তু বোনটা যে সকাল থেকে কেঁদেই যাচ্ছে। এই ছোট্ট বাচ্ছাকে আমি পালব কেমন করে? আমার আজ মায়ের জন্য খুব খারাপ লাগছে। আমি কোন দিবস বুঝিনা,আমার প্রতিটি দিনই মা তোমার জন্য। কিন্তু আজ সাহেবদের মত বলতে ইচ্ছে করছে মাগো আমি তোমায় অনেক ভালবাসি। ইংরেজিটা কি জানি? ও মনে পড়ে পড়েছে আই লাভ ইউ মা। তুমি ফিরে এসো প্রতিদিনই আমদের মাকে প্রয়োজন। আমাদের কে রান্না করে খাওয়াবে? বুড়িকে দুধ খাওয়াবে কে? বুড়ি আমার বোনের নাম।

আহারে মা আর ফিরে আসে না।

বাঁশের চাটাই বাঁধা একটা লাশ তার সামনে। পা’দুটো বেরিয়ে আছে। লাশটার চারদিকে লোকজনের একটা জটলা বেঁধেছে। একজন বলল কীরে দাফন কাফন করবি না? আমি লোকটাকে সকালে আনা বিরিয়ানির প্যাকেটটা দিয় বললাম। ভাই কি করমু কিছুই জানিনা। আপনে একটা ব্যবস্থা করে দেন।

লোকটি বলল, ট্যাকা দে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। লোকটা দাঁত বের করে একটা হাসি দিয়ে আবার বলল হারামীর বাচ্চা সুখেই আছে বিরানী খায়। শড়ি কেনার জমানো টাকাগুলো সব দিয়ে দিলাম লোকটিকে। লোকটি টাকা গুলো নিয়ে চলে গেল। আমি আর আমার বোন লাশটার পাশে বসে আছি। সবাই যার যার মত চলে যাচ্ছে। আকাশ ঝাপিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশের গুড়ুম গুড়ুম শব্দে বোনটা ভয় পেয়ে আমায় ঝাপটে ধরে রেখেছে। আমরা ভিজে একাকার, আম্মা অনেক দিন পর আমাদের সামনে শুয়ে আছে….তবে মানুষ না লাশ হয়ে। খুব কষ্ট লাগছে আমার। এত কষ্ট কোনদিন লাগেনি। মাকে জড়িয়ে ধরে মা, মাগো বলে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে…………বোনট­া আমার মুখের দিকে চেয়ে আছে। আমি কাঁদছি আর বৃষ্টির ফোটা আমার চোখের জল মুছে দিয়ে যাচ্ছে, এক দিবসে মায়ের জন্য মা হারানোর আজন্ম কান্না। কষ্ট তীব্র কষ্ট বুকের মাঝে, এ কষ্ট বুঝাই কেমন করে?

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT