রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:০২ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ভিবিডি-গোপালগঞ্জের দায়িত্বে চিকিৎসা সম্পন্ন হলো অসহায় চম্পা রাণীর ◈ ধর্মপাশায় মাসিক স্কিল ল্যাব ট্রেনিং ও সিএসবিদের উপকরণ প্রদান ◈ করিমগঞ্জে চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক হত্যা মামলার আসামি বাবলুকে গ্রেফতার  ◈ মুন্সিগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আলোচনা সভা ◈ পোরশায় এ্যাডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত ◈ গোমস্তাপুরে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার ◈ একক কর্তৃত্বের ক্ষমতাধারী, নির্মম-অত্যাচারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানবন্ধন ◈ নজরুলের নাম শিরোনাম কবিতার পটভূমি ◈ ভোলার ৯ গুণীর হাতে লালমোহন মিডিয়া ক্লাব সম্মাননা তুলে দিলেন এমপি শাওন ◈ চরফ্যাসনে তেলের ট্যাংক ও বোরাকের সংঘর্ষঃ নিহত ১, আহত ৫

এক দিনের ছুটিতে ঘুরতে যেতে কাছাকাছি ১০ স্থান

প্রকাশিত : ০৪:৪০ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ Sunday ১৫১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রাজধানীর কর্মজীবীদের জন্য সময় হাতে নিয়ে দূরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বছরে দুটি ঈদের লম্বা ছুটি পেলেও গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরপরই থাকে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া। তবে চাইলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। এমন বেশ কয়েকটি পর্যটন স্থান ও স্থাপনা রয়েছে যেগুলো চাইলে আপনি প্রতিসপ্তাহেই ঘুরে আসতে পারবেন। কম সময় ও কম খরচে ভ্রমণের খিদেটাও মিটবে। অন্তত ‘দুধের স্বাদ খোলে মেটানো’ হবে আরকি! এমন ১০টি স্থান নিয়ে আয়োজন-

বেলাই বিল

গাজীপুরের বেলাই বিল, মনোরম একটি জায়গা। ঢাকা থেকে মাত্র সাড়ে ২৬ কিলোমিটার দূরে চেলাই নদীর সঙ্গে বেলাই বিল। ট্র্যাফিক জ্যাম না থাকলে বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে আনুমানিক সোয়া ঘণ্টা লাগতে পারে। বিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা অথবা ডিঙ্গিতে করে ঘুরতে পারেন। সারাদিনের জন্য ভাড়া করা যায়। ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিজেরাই চালিয়ে ঘুরতে পারেন। বিকালে এই শাপলা বিলে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়। এছাড়া নদীর পাশে ‘ভাওয়াল পরগণা’ (শ্মশান ঘাট বা শ্মশান বাড়ি) আছে। চাইলে শ্মশান বাড়িটি দেখে আসতে পারেন।

বেলাই বিল

নুহাশপল্লী

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিখ হুমায়ূন আহমেদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে ‘নূহাশ পল্লী’। ঢাকা থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরে একটি বাগানবাড়ি, নুহাশ চলচিত্রের শুটিংস্পট ও পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র নিয়ে নূহাশ পল্লী। মাঠের মাঝখানে একটি গাছের উপর ঘর তৈরি করা আছে, যা আবাক করবে আপনাকে! হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত বহু নাটক ও চলচ্চিত্রের শ্যুটিং হয়েছে এখানে। ১২ বছরের উপরে জন প্রতি টিকিট লাগবে ২০০ টাকা। ঢাকা মাত্রা ২ ঘণ্টার পথ।

হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত নূহাশ পল্লী

গোলাপ গ্রাম

ঢাকা থেকে মাত্র ২৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার দূরে সাদুল্লাহপুরে ‘গোলাপ গ্রাম’। মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশে আধাঘণ্টা পরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছাড়ে। বলতে গেলে গ্রামজুড়ে গোলাপের গ্রাম। পুরো গ্রামটিকেই গোলাপের বাগান মনে হয়। কম টাকায় প্রিয়জনের জন্য নিজের পছন্দমতো তুলতে পারবেন গোলাপ। বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান ছাড়াও এখানে রয়েছে রজনীগন্ধা, জারবেরা ও গ্লাডিওলাসের বাগান। ঢাকার সিংহভাগ গোলাপের চাহিদা পূরণ করে এ গ্রাম। স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোতে পাবেন ঐতিহ্যবাহী খাবার।

গোলাপ গ্রাম, পুরো গ্রামটাই যেন গোলাপের বাগান

পানাম নগর

পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। ‘হারানো নগরী’ খ্যাত এ পুরাকীর্তিটি ঢাকা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁতে অবস্থিত। বারো ভূঁইয়ার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ভূইয়া ঈসাখাঁর আমলে বাংলার রাজধানী ছিল পানাম নগর। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে। এসব ভবনে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার বারো ভূইয়াঁদের স্মৃতি। কাছেই মেঘনা নদী। নদীর ওপারে গেলেই দেখবেন কাশফুলে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠ।

পানাম নগর: দেখে আসুন বারো ভূইয়াদের সময়কার স্থাপত্য রীতি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়িগুলোর একটি। ঢাকা জেলা সদর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত এটি। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়ি। বর্তমানে বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই জমিদার বাড়ির একটি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘর। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য জন প্রতি মাত্র ১০ টাকা। বাড়িটি রোববার পূর্ণদিবস আর সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি: দেশের অন্যতম বৃহৎ জমিদারি স্থাপনা

মহেরা জমিদার বাড়ি

টাঙ্গাইলে ভ্রমণের জন্যে মহেরা জমিদার বাড়ি অন্যতম আকর্ষণ। এখানে রয়েছে তিনটি স্থাপনা। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকাজ করা। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালন করা হয়। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার। ঢাকা থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দূরে এ পর্যটন স্পটে যেতে মহাখালী থেকে “ঝটিকা সার্ভিস” নামে একটি বাস ছাড়ে। জমিদার বাড়ি ঢুকতে টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা।

মাহেরা জমিদার বাড়ি

মৈনট ঘাট

মৈনট ঘাটকে বলা হয় ‘মিনি কক্সবাজার’। সমুদ্রের বেলাভূমির ছোট সংস্করণ এটি। সূর্যাস্ত দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ঢাকার দোহার উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর কোলে মৈনট ঘাট। ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। নদীর অপর পাড়ে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন। মৈনট ঘাটের এই হঠাৎ খ্যাতি ঘাটের দক্ষিণ পাশের চরটির জন্য। পথিমধ্যে পড়বে লক্ষ্মীপ্রাসাদ, জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আন্ধার কোঠা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান। শুকনো মরিচের সঙ্গে ডুবো তেলে ইলিশ ভাজা এই ঘাটের অন্যতম আকর্ষণ।

মৈনট ঘাটকে বলে মিনি কক্সবাজার

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। ঢাকা থেকে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে এই পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণিদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়া এখানে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেনসহ অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণির সমারোহ। গাজীপুরের বাঘেরবাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যাওয়া যায়।

খুব কাছ থেকে বন্যপ্রাণি দেখতে যেতে পারেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শীতের অতিথি পাখি আর প্রাকৃতিক সবুজের সৌন্দর্যে ভরপুর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঢাকা থেকে ২৬ কিলোমিটার ( ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট) দূরে ১৯৭০ সালে ৬৯৭ দশমিক ৫৬ একর জমিতে ওঠে এই বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগরকে সাংস্কৃতিক তীর্থভূমি বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সারাবছরই বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যমে রঙ্গীন করে রাখে ক্যাম্পাস। কেন্দ্রীয় মাঠের পাশেই মুক্তমঞ্চের অবস্থান। এই মুক্তমঞ্চে একাধারে মাসব্যাপী নাট্য উৎসব চলে, যাত্রা, বাউল সঙ্গীত, পালা গানের আয়োজন হয়। অনেকটা গ্রিক নাট্যমঞ্চের স্থাপত্যকলার আদলে গড়া জাহাঙ্গীরনগরের মুক্তমঞ্চটির সঙ্গে দেশের প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব সেলিম আল দীনের স্মৃতি জড়িত। আর বটতলার খাবার দোকানের ৩০ থেকে ৩৫ রকমের ভর্তা জিভে জল আনবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন আকর্ষণ অতিথি পাখির সমাহার

সেন্ট নিকোলাস চার্চ

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রস্থান সেন্ট নিকোলাস চার্চটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই গির্জাটি ১৯৬৩ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মাণ করা হয়। কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলায় প্রথম দ্বিভাষীয় বাইবেল অনূদিত হয় সেন্ট নিকোলাস চার্চ থেকে। প্রথম দ্বিভাষিক অভিধান ও গদ্যও প্রকাশিত হয় এই গির্জা থেকেই। পর্তুগিজ খ্রিস্টানরা ষোড়শ শতকের শেষের দিকে আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সম্রাট জাহাঙ্গীরের আদেশে এই গির্জাটি স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হামবুর্গের বোমা হামলার ফলে গির্জাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল । ১৯৯০ ও ২০১২ সালে টাওয়ারে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে সেন্ট নিকোলাসের চার্চের বর্তমান অবস্থা ফেরত আনা হয়।

নিকোলাস চার্চের স্থাপত্যশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবেই

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT