রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:১০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মুরাদ নূরের সুরে কাজী শুভর ‘ইচ্ছে’ ◈ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা ◈ ফ্রান্সে বিশ্বনবীকে নিয়ে কটুত্তির প্রতিবাদে ভূঞাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ◈ রায়পু‌রে ক‌মিউ‌নি‌টি পু‌লি‌শিং ডে-২০২০ উদযা‌পিত ◈ কাপাসিয়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ◈ কটিয়াদীতে ট্রিপল মার্ডার : মা ভাইবোন সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের ◈ হরিরামপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে জখম ◈ কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উপলক্ষে মধ্যনগর থানায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ◈ রাসুলকে (সাঃ)’র অপমানের প্রতিবাদে কাপাসিয়া কওমী পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ

একটি বই

সেলিম সিকদার

প্রকাশিত : ০৫:২১ AM, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Friday ২৪৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

চাঁদের আলোয় জোসনা দেখি
. দিবাকরের আলোয় ভোর,
আর বইয়ের আলোয় জ্ঞান
অর্জন কাটিবে ঘুমের ঘোর।

আমি পাঠক তাই বই পড়তে ভালোবাসি। আজ কালকের দিনের ছেলে মেয়েরা সব সময় ব্যস্ত থাকে ফেসবুকে হোয়াটসঅ্যাপে ও মেসেঞ্জারে। তারা কেউ বই পড়তে পছন্দ করেনা আমরা অবশ্যই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বারান্দা ডিঙিয়ে নিজের কর্মক্ষেত্রে এসেছি, ওই সময়ে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অনেক বই পড়েছি, তবে জ্ঞানী নই !

এক সময় ছিল শিক্ষার্থীরা মা-বাবার কাছে বায়না ধরতে, একটি বই কিনে দাও । এখন আর ওই বায়না ধরে না, বলে আব্বু আম্মু আমি বড় হয়েছি একটি মোবাইল কিনে দাও। আমি প্রায়ই আমার আব্বা আম্মাকে বলতাম আমাকে বাজার থেকে একটি নতুন গল্পের বই কিনে দাও। কিন্তু আশ্চর্য হওয়ার কথা, যখনই আমি আব্বা-আম্মাকে বলতাম তখনই দাদি আমার দাদার কানে কানে গিয়ে বলতো যাওনা নাতি তো আমাদের বড় আদরের আবদার করছে একটি বইয়ের জন্য একটি বই এনে দাও। আর তখনই দাদাভাই গিয়ে একটি গল্পের নতুন বই এনে দিতে আমার মনটা আনন্দে নেচে উঠল।

নতুন বইয়ের নাম ” ভো ভো”। আমি দাদার কাছে জানতে চাইলাম দাদাভাই গল্পের বইয়ের নাম কিভাবে আবার ” ভো ভো ” হয় ? দাদা বললেন যে কোন গাছের পাতা দিয়ে একধরণের বাঁশি বানানো যায়, আর যে শব্দটা হয় ঐ শব্দটা ভো ভো। আমি এবার কপাল কুঁচকে দাদা ভাই কে বললাম, গল্পের বইয়ের সাথে ভো ভো কথাটির সম্পর্ক কি ? তিনি মজা করে আমাকে উত্তর দিলেন বই পড়ে জ্ঞানী হবে হও ! তাহলে পড়েই দেখো না বুঝতে পারবে।

আমি বইটি অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে হাতে নিয়ে এপিঠ ওপিঠ করে ঘুরিয়ে দেখতে লাগলাম, বইটি লেখক কে আমার ঠিক মনে নেই। তবে ! এই কথাটি মনে ছিল প্রচ্ছদে একটি মেয়ে একটি ছেলের হাত ধরে খোলা মাঠে টইটই করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হয় কি জানি হারিয়ে গেছে আর ঐ জিনিস সে খুঁজছে। দক্ষিণা বাতাসে মেয়েটির চুল উড়ছে আর ছেলেটির হাতে একটি কলা পাতার বাঁশি। আমি বইটি পড়ার জন্য খুব ব্যাকুলতা হয়ে পড়ে। কারণ, সামনে দুর্গাপূজা স্কুল ছুটি থাকবে। তাই, পড়ালেখা তেমন চাপ থাকবে না আমি বইটি নিয়ে পড়ার টেবিলে পড়তে বসি।

‘ভো ভো ‘গল্পটি এক কিশোরী ও তার ছোট ভাইয়ের গল্প । মেয়েটির নাম রাণী আর ছেলেটির নাম রাজা। আর তাকে ভো ভো নামে ডাকার কারণ, সে চলার সময় পাতার বাঁশির সুরের মতো মুখ দিয়ে এই শব্দ করে চলে । তাই, গ্রামের অধিকাংশ লোক তাকে ভো ভো নামেই ডাকে। তাদের গ্রামের নাম হরিনাথপুর তারা গ্রামের এক প্রান্তে ভাঙ্গা এক দু’চালা বাড়িতে বাস করে । তাদের বাবা হরিনাথ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পূজা করে আর মন্ত্র পাঠ করে, এর থেকে যা কিছু আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। এই সংসারে অভাব অনটন সব সময় লেগেই থাকত। কিন্তু তাদের একজনের আরেকজনের প্রতি ভালবাসার কোন কমতি ছিল না। ‘ ভো ভো, যদিও একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এটা ছিল ভালবাসাময় পরিবারের কাহিনী।

রাণী সব সময় ভালো ভালো জিনিস খেতে ভালোবাসতো। কিন্তু তার চাহিদামতো খাবার তার পরিবারের সদস্যরা দিতে পারত না। তাই এলাকায় কোন বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকলে ওই বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে অতিথী খেয়ে আসতে। দামী দামী খাবারের প্রতি ছিল তার আকর্ষণ। এই জন্য রাণীকে মাঝে মাঝে মায়ের হাতের বকুনি ও উত্তম -মধ্যম খেতে হতো। রাণী ছিল গ্রামের টইটই করা ডানপিটে মেয়ে, মনে হয় কোন একদিন বিড়ালের মাংস খেয়ে ছিল। তাই মায়ের পিটুনি তার গায়ে কখনো লাগত না। সে টোটো করে বন বাদাড়ে ঘুরে বেড়াতো, কিন্তু রাজা ছিল একটু লাজুক প্রকৃতির। রাণী ছাড়া আর কোন তার ভালো বন্ধু ছিল না রাণী ভাবতো তার ভাই তার পিছে পিছে টইটই করে ঘুরলে হয়তো সে ও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে মারই দিতো, মারলেও সে রানীর পিছু পিছু সব সময় ঘুরতে রাণী রাজাকে বিভিন্ন জনের ফলের বাগান থেকে ফলমূল চুরি করে এনে দিত। তরতাজা ফলমূল পেয়ে রাজা খুব খুশি হত।

রাণীদের একটি রামছাগল ছিল । একদিন হঠাৎ করে ছাগলটি হারিয়ে গেল ! রাজা-রাণী মিলে সেটাকে খুঁজতে খুঁজতে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেল। গ্রামের পর গ্রাম, মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে তারা চলে যায় এক রেল লাইনের উপরে। মনে হল এখানে তারা নতুন কিছু আবিষ্কার করবে। তারা রেললাইনের পাতে কান পেতে শব্দ শুনে, মনে হয় ট্রেন ভো ভো শব্দ করে তাদের দিকে ছুটে আসছে। যখনি ট্রেন প্রায় তাদের কাছে চলে এসেছে, তখন তারা তড়িতাড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে ট্রেনের চলে যাওয়া মুগ্ধ চোখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।

একদিন রাজাদের প্রতিবেশী ধনাঢ্য ব্যক্তির মেয়ের বিয়ে। ওই বিয়েতে রাজা ও রাণীকে দাওয়াত করা হলো । ওই দাওয়াতে তারা উপস্থিত ছিল। সেখানে মেয়ের একটি স্বর্ণের হার হারিয়ে গেল ! সবাই তখন রাণীকে দোষারোপ করে এবং তাদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। ওই সময় মনে হল ওই বিয়ে বাড়িতে আমি ও ছিলাম। আমাকে মেরে বিয়ে বাড়ির লোকজন তাড়িয়ে দিয়েছে । দুই নয়নে ঝর ঝর করে চোখের বৃষ্টির জল ঝরতে লাগল। হঠাৎ করে ওই সময় পিছন থেকে এসে দাদি আমাকে জড়িয়ে ধরলো ! তখন দাদীর কাছে আমি একটু লজ্জা পেলাম।

আমার কাছে লাগতে লাগলো, রাজার মাঝে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। আর রাজা একটু লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় তার কোন ভালো বন্ধু ছিল না। সে একা একা বোনে বাদাড়ের ভিতরে ঘুরতে লাগলো। আর ভাবতে লাগলো এই বোনের মাঝে যদি একটি জাদুর পাতিল পেতাম। তাহলে ভালো হতো, কারণ ওই জাদুর পাথর কে যা রেঁধে দিতে বলতাম ও খুব মজা করে তাই রেঁধে দিতো আর আমরা দুজনে পেট ভরে খেতাম। তখন আর বিয়ে বাড়িতে গিয়ে মার খেতে হতো না। রাজা ও রাণী সাঁঝের পরে এখন টেবিলে পড়তে বসলে। আবারো তাদের কাছে মনে হলো দূর থেকে ট্রেন চলার ভঙ্গিমা তাদের চোখে ভাসছে আর আর ঝকঝক ঝকঝক শব্দ করে ট্রেন চলছে।

বইটি পড়তে পড়তে কোথায় আমি হারিয়ে গিয়েছি আমি নিজেও জানিনা অভাব-অনটনের সংসার ভেবে রাজার বাবা নতুন কাজের সন্ধানে শহরে যায় এরমাঝেই ঘটে যায় একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা রাজা ও রাণী একদিন বৃষ্টিতে ভিজে ঐ রেল লাইনের ট্রেন চলার ভঙ্গিমা দেখতে গেল। সে রেল লাইনে কান পেতে ভো ভো শব্দ শুনছে হঠাৎ করে ট্রেনটি রাণীর গায়ের উপর দিয়ে চলে গেল। সে সড়ে যেতে পারল না। আর রাণী ওইখানেই কেটে দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে রইল,রাজার সামনে গলা কাটা মোরগের মত ছটফটিয়ে মারা গেল। এটা দেখে রাজার মনে খুব আঘাত লাগল। কারণ রাণী ছাড়া আর কোন ভালো বন্ধু ছিল না।

রাজার বাবা রাণীর মরা যাওয়ার কথা শুনে ফিরে এলে বাড়ি এবং রাণী সৎকাজ করে ভাবলেন সবাই মিলে এবার কাশি চলে যাবে। একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য রাজাকে ছেড়ে যেতে হবে অচেনা জায়গায়। অতি আপন এই ভাঙ্গা দুচালা বাড়ি ছেড়ে। তবে বনে বনে ঘুরার স্মৃতিগুলো সব মনের খাতায় স্মৃতি হয়ে থাকবে। জিনিসপত্রগুলো গোছানোর সময় হঠাৎ সোনার নেকলেস খুঁজে পায় একটি কৌটার মাঝে। সে বুঝতে আর বাকি রইল না ঐ দিন রাণী চুরি করে এনে, লুকিয়ে রেখেছে। রাজা নেকলেস ফেলে দেয়। আর ভাবতে লাগে হায়রে রাণী তুই কেন এই সোনার নেকলেস চুরি করে অনলি? রাজা রাণীর সর্বপ্রকার দোষ মানুষের চোখের এবং পৃথিবীর চোখ থেকে আড়াল করে দিল।

আমার জীবনে এই স্বল্প বয়সে আমি অনেক বই পড়েছি কিন্তু “ভো ভো ” আমার একটি হৃদয়বিদারক স্পর্শ কাতর বই। যা, অন্য কোন বই পড়ে নিজের এত চিন্তিত হই নেই ! যতদিন আমি জীবিত থাকবো ততদিন এই বইটির কথা মনে থাকবে আমার প্রিয় বই গুলোর মাঝে সবার উপরে থাকবে একটি বই “ভো ভো “।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT