রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কুড়িগ্রাম সদরে ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ রাজশাহীর মোহনপুরে নৌকার প্রতীক পেলেন যারা ◈ শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন যারা ◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

একই তিথি রয়েছে ত্রি মহা স্মৃতি

প্রকাশিত : ১১:১০ PM, ২৫ মে ২০২১ মঙ্গলবার ৮৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ভদন্ত বিনয়মিত্র ভিক্ষু (নিমফুল):

আড়াই হাজারেরও অধিক সময় পূর্বে হিমালয় পর্বতের পাদদেশস্থ শাক্যরাজ্য নামে একটি রাজ্য ছিল। সে রাজ্যের রাজধানী হলো কপিলাবস্তু। বংশগত ভাবে ইক্ষাকু বংশের রাজা শুদ্ধোধন কপিলাবস্তুতে রাজত্ব করতেন।রাজা শুদ্ধোধন এর রাণী ছিলে মহামায়া। রাজার দূরদর্শী সুশাসনে প্রজাগণ ছিলেন মহাখুশি, রাজ্যের মাঝে ছিলো না কোন অভাব-অনটন,অশান্তি।

রাণী মহামায়া এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে আশ্চর্যজনক আজব স্বপ্ন দেখলেন! তিনি স্বপ্নে অবলোকন করলেন স্বর্গের দেবতাগণ এসে তার পালঙ্ক সহ তুলে নিয়ে হিমালয়ের এক মনোরম স্থানে রাখলেন, দেবতাদের মহিষীগণ রাণীকে ‘মানস সরোবর’ হতে স্নান কর্ম সম্পাদন করে পূর্ব দিকে মস্তক রেখে শুয়ে দিলেন।

হিমালয় পর্বত হতে এক শ্বেত হস্তী তার শুণ্ডে করে একটি শ্বেত পদ্মসহ অবতরণ করেন, পদ্মসহ হস্তী তিনবার রাণীকে পদক্ষিণ করে দক্ষিণ জঠরে পদ্মটি রাখলেন।রাণী হঠাৎ এ স্বপ্ন দেখে অত্যান্ত ত্রাসিত হয়ে উঠলেন। ভোরেই রাণী রাজাকে রাতের অবলোকনকৃত স্বপ্নের বৃত্তান্ত জানালেন। রাজা রাজ্যসভার পুরোহিতদের মাধ্যমে জানতে পারলেন রাণীর গর্ভে মহাপুরুষ জন্ম নিতে চলেছে!

তুষিত স্বর্গ হতে চ্যুত হয়ে বোধিসত্ত্ব মাতৃজঠরে প্রবেশ করলেন। সেই প্রতীক্ষার দশ মাস পূর্ণ হলেই রাণী নিজ বাপের বাড়ি যাওয়ার বাসনা করেন এবং রাজার অনুমতিক্রমে বাপের বাড়ি যাত্রা শুরু করলেন আমাত্যসহ। যাওয়ার পথে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনী কাননে আসলে রাণীর প্রসব বেদনা শুরু হয়।

লুম্বিনীর শালতরুর নীচে বোধিসত্ত্ব গৌতমের জন্ম হয়। বোধিসত্ত্বের জন্মের মাধ্যমে রাজা-রাণীর বহুদিনের কামনা সিদ্ধ হয়েছিলো বলে নামকরণ করা হয় সিদ্ধার্থ। জন্মের পর বত্রিশ মহাপুরুষের লক্ষণ দেখে ব্রাহ্মণগণ তাঁকে জগতপূজ্য বুদ্ধ হবেন বলে ঘোষণা দেন।

আস্তে আস্তে সিদ্ধার্থ বয়ঃপ্রাপ্ত হতে থাকেন আর বয়ঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে সংসারের প্রতি উদাসীনতা লক্ষ্য করে তাঁকে আমোদ-প্রমোদে মত্ত রাখার জন্য ঋতু উপযোগী তিনটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়, তাঁর উদাসীনতা কাটিয়ে সংসারের প্রতি আসক্ত করার নিমিত্তে বিবিধ নিত্য গীতে ডুবিয়ে রাখাতে চেষ্টা করা হয়। বয়স ষোল হলে দেবদাহ রাজা শুপ্রবুদ্ধের কণ্যা যশোধরার সাথে সিদ্ধার্থ কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। সংসারে প্রবেশ করলেও তাঁকে সংসারের মায়া আকৃষ্ট করতে পারেনি।

উনত্রিশ বছর বয়সে জরা-ব্যাধি-মৃত্যু ও সন্যাস এ চারি নিমিত্ত দর্শন করার পর সংসারের প্রতি আরো বেশি বিরাগ উৎপন্ন হয়।যশোধরার গর্ভে রাহুলের জন্ম হলে ঐ দিবসেই আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে সারথি ছন্দক ও অশ্ব কন্থকের পিঠে বসে সিদ্ধার্থ চাঁদের আলোতে গৃহত্যাগ করেন।

গৃহত্যাগের পর ঋষি আড়াল কালাম ও রামপুত্র রুদ্রকের কাছে ধ্যানের অষ্টম স্তর পর্যন্ত শিক্ষা করেন, তাদের ধ্যানে প্রকৃত মুক্তি নির্বাণ নয় তা উপলব্ধি করেন এবং এরপর তাদের ত্যাগ করে আপন সাধনায় মগ্ন হলেন।

দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনায় মগ্ন থাকার পর গয়ার বোধিবৃক্ষ মূলে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সেনানী কণ্যা সুজাতার দানকৃত পায়েসান্ন পরিভোগ করে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সর্ব আসব ক্ষয় করে সর্বজ্ঞতা প্রাপ্ত হয়ে জগতে গৌতম বুদ্ধ নামে খ্যাত হন।

বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির অষ্টম সপ্তাহে শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে তিনি ধর্মদান করেন যখানে উপস্তিত ছিলেন পঞ্চবর্গীয় শিষ্য কৌণ্ডিণ্য,বপ্প,ভদ্রিয়,মহানাম ও অশ্বজিৎ। সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ টি বছর জীব-মানবের হিতের কল্যাণে ধর্ম প্রচার করেছেন। তাঁর অমৃতময় নৈর্বানিক ধর্ম লাভ করে কোটি কোটি স্বত্ব অমৃতের সন্ধান পেয়েছেন।

অবশেষে ৮০ বছর বয়সে আবারো বৈশাখী পূর্ণিমার তিথিতে কুশিনগরে মল্লদের শালবনে জোড়াশালবৃক্ষমূলে জগতশ্রেষ্ঠ মহামানব গৌতম বুদ্ধ জগতের চিরায়ত নিয়মে নির্বাণ লাভ করে ধাতুতে পরিণত হলেন।

এই জগতশ্রেষ্ঠ মহামানবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গঠনা যথাক্রমে জন্ম,বুদ্ধত্বলাভ ও পরিনির্বাণ লাভ একই তিথিতে হওয়া একটি বিরল ঘটনা। বৈশাখী পূর্ণিমাতেই এই ত্রি মহা গঠনাগুলো সংগঠিত হয় বলে বৈশাখী পূর্ণিমা কে বুদ্ধ পূর্ণিমা বলা হয়। এই মহামানবের প্রচারিত ধর্মকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করলে অবশ্যই জগতে শান্তি বর্ষিত হবে।

উক্ত বুদ্ধ পূর্ণিমা দিবসে সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নানা ধর্মীয় কার্যাদির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে। বুদ্ধ পূর্ণিমা অবশ্যই বৌদ্ধদের জন্য একটি জাতীয় অনুষ্ঠান।

ওনার প্রচারিত বাণীর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ভোগে দুখ, ত্যাগে সুখ’ ও ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’।

* লেখক:- তরুণ লেখক ও সমাজ উন্নয়নকর্মী,

সাধারণ সম্পাদক :- বাংলাদেশ বৌদ্ধ নবজাগরণ ফাউন্ডেশন

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT