রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৬ জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নোয়াখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ ◈ রাজারহাটে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ◈ রৌমারীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ। ◈ বেদে সম্প্রদায়সহ বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে,মধ্যনগর থানা পুলিশ ◈ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ডামুড্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ◈ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কালিহাতী থানা পুলিশের আতশবাজি প্রদর্শনী ◈ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে শেরপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ◈ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উপভোগ করেণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ◈ দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ঋণ পুনঃতফসিলে কঠিন শর্ত চায় আইএমএফ

প্রকাশিত : 06:39 AM, 20 September 2019 Friday 487 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেছে। তবে ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ব্যাংক খাতে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের বিভিন্ন শর্ত কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছে। আইএমএফ এমন এক সময়ে এ পরামর্শ দিল, যখন বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নীতিমালার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিলের শর্ত শিথিল করেছে।

আইএমএফ আরও বলেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। কিছু ব্যাংককে সুস্পষ্ট সরকারি আদেশের মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাজেটে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। বাকিগুলো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত না হলে বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে আইএমএফ মনে করছে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে অগ্রগতি খুব সীমিত থাকা এ দেশের অর্থনীতির জন্য অন্যতম ঝুঁকি। দাতারা মানবিক প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছেন। তবে এ সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে। এ অবস্থা হলে বাংলাদেশের বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ধীরগতি সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের ওপর আইএমএফের এ বছরের কান্ট্রি রিপোর্টে এমন মতামত এসেছে। রিপোর্টটি গত বুধবার রাতে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আইএমএফের আর্টিকেল-৪ মিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করে ওয়াশিংটনে ফিরে তাদের মূল্যায়ন তৈরি করেন। সংস্থার নির্বাহী পর্ষদ সম্প্রতি এর ওপর আলোচনা শেষ করেছে। নির্বাহী পরিচালকদের মতামতের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে আইএমএফ বলেছে, এ খাতের আর্থিক পরিস্থিতি দুর্বল। এ খাতের সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। করপোরেট সুশাসন ও ঋণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের সংস্কারে যেতে হবে। ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সম্পদের ওপর একটি সমন্বিত পর্যালোচনারও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।

অর্থনীতির ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাত সংস্কারে ধীরগতি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে এবং আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কারণে রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে আইএমএফ বলেছে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে হবে।

আইএমএফ বলেছে, অবকাঠামো খাতের উন্নতির জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। ছাড় কমিয়ে দিয়ে করভিত্তি বাড়াতে হবে। কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে হবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে স্বাগত জানালেও অনেকগুলো ভ্যাট হার জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

রফতানি বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা জোরদারের পরামর্শ দিয়ে আইএমএফ বলেছে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে। ব্যবসা পরিবেশের উন্নতি, মানব পুঁজির উন্নয়ন এবং বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সংযুক্তি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইএমএফ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা :জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ বিষয়ে একটি আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আইএমএফ। এতে বলা হয়, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলা এবং প্রকৃতির বৈরিতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর অভিঘাত মোকাবেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ছয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্যানেলের পূর্বাভাসে বলা হয়, সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলে ভাঙনে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৭ শতাংশ ভূমি হারিয়ে যেতে পারে। খাদ্য উৎপাদন কমে যেতে পারে ৩০ শতাংশ। এতে বসত হারানো মানুষের ভিড়ে শহরে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে।

এতে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বন্ধ করতে হবে। এতে সামাজিক এবং পরিবেশগত ব্যয় কমবে। জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবেলায় আইএমএফের আরেক পরামর্শ হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানো। এতে কার্বন কর আরোপেরও সুপারিশ করেছে আইএমএফ। আইএমএফের মতে, জিডিপির ১০ শতাংশের কম রাজস্ব জলবায়ুর ক্ষতির মোকাবেলায় অবকাঠামোসহ বিশাল ব্যয় বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT